





আসসালামু আলাইকুম
সবাইকে রাতের শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের পোস্ট উপহার দিতে লিখতে বসলাম আশা করি মহান আল্লাহর রহমতে সবাই ভাল আছেন ।আলহামদুলিল্লাহ, আমিও সবার দোয়া নিয়ে মহান আল্লাহর রহমতে ভালো আছি।
"চাপামারা বা চাপাবাজি" এক ধরনের স্বভাবের নাম। চাপা স্বভাবের মানুষেরা সব সময় সবকিছু লুকিয়ে রেখে, নিজেকে প্রকাশ করতে ব্যস্ত হতে দেখা যায়। তার ভিতরে যত দোষ থাকুক না কেন ?সে তাহা কখনোই দেখতে পায় না।
তাই তারা সবসময় নিজের দোষ গোপন রেখে, অন্যের দোষ প্রকাশ করাই, এই চাপা স্বভাবের লোকদের এক ধরনের স্বভাব। তাই এদেরকে আমাদের সমাজে চাপাবাজ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
"চাপামারা বা চাপাবাজি" শুধু স্বভাবই নহে। এটা এক ধরনের "জটিল বিশেষণ"। এ বিশেষণে বিশেষিত মানুষগুলো নিজেকে অতি চালাক ভেবে, অন্যকে বোকার আসনে বসানোর চেষ্টা করেন বা বসিয়ে থাকেন।
আসলে সে কতদূর চালাক, আর কত দূর বোকা,তাহা নিজে কখনো পরিমাপ করে দেখার চেষ্টা করেনা। তাই এদেরকে সামাজিকভাবে "চাপাবাজ" বলা হয়ে থাকে।
চাপাবাজ মানুষরা কিছু জানুক আর না জানুক, অন্যে কি জানে আর কি জানে না, তা নিয়েই তার সমস্ত জানার ফলাফল প্রকাশ করে থাকে।
অন্যভাবে বলতে গেলে বলা যায়, চাপামারা, চাপাবাজদের এটা এক ধরনের রোগ। এ রোগের চিকিৎসা কিংবা ঔষধ কোনটাই তার জানা নাই।
তবে তারা অন্যের চিকিৎসা দিতে বড় একজন কবিরাজ বা ডাক্তার। ভুল বলে এদের কাছে কোন শব্দ নাই। এরা ভালো-মন্দ সব শব্দকেই ভালো বলে চালিয়ে যান। নিজের খেয়াল-খুশি মতো যা নয় তাই ভাষণ দিতে থাকেন।
আমাদের সমাজে এদের সংখ্যা অনেক বেশি। এদের মুখে মধু কিন্তু জিব্বায় অনেক বিষ। এ বিষে তারা কাউকে কখনো ঘায়েল করতে পারে না। নিজেই ঘায়েল হয়ে ফিরে আসে।
কেননা এর মধ্যে "চাপা" শব্দটিতে সবকিছু নিহিত রয়েছে। আমরা সাধারণত "চাপা" বলতে কোন বস্তুর উপর কোন কিছু উঠিয়ে রাখাকে বা চাপিয়ে দেওয়া বুঝে থাকি।
চাপা বাজরাও ঠিক এই অর্থের মতই অন্য কারো উপর উঠে থাকার চেষ্টা করলেও তারা কিন্তু চাপার নিচেই থেকে যায়। এভাবেই চলে আসছে আমাদের সামাজিক জগত সংসার।
চাপাবাজরা, মুখে যা বলে, যা করতে বলে, তা কখনো সে নিজে করে না, শুধু অন্যকেই করতে পরামর্শ দেয় এবং সেই অনুযায়ী করাতে সহযোগিতা করে।
তবে মজার বিষয় হল দুইজন চাপাবাজ যখন একসঙ্গে একত্রিত হন, তখনই তাদের দুইজনের সংঘর্ষে বিস্ফোরিত হয়ে, সেখানে আগুন জ্বলতে থাকে কিংবা আগুনের সৃষ্টি হয়। সেই আগুনেই চাপাবাজরা নিজেরাই পুড়ে মরতে থাকে।
আমাদের সমাজে তাদের কথা এবং কাজের মধ্যে যখন মিল খুঁজে পাইনা, কিংবা পরামর্শগুলো অলৌকিক মনে হয়। তখনই এ সমস্যার আর সমাধান হতে চায় না। এতক্ষণে তাহা জটিল থেকে কঠিন পর্যায়ে পৌঁছে যায়।
বন্ধুরা, আসুন আমরা এসব চাপা বা চাপাবাজ কে সামাজিকভাবে বয়কট করি এবং তাদেরকে ঘৃণা করতে শিখি।
আজ এখানেই। আগামীতে দেখা হবে নতুন কোন বিষয়ের উপর লেখা নিয়ে।
সাথেই থাকুন।


Comments