ভাগ্যে বিশ্বাস করা ছাড়া কোনো ব্যক্তি মুমিন হতে পারে না। আর ভাগ্যে বিশ্বাস করার অর্থ হলো, এটা বিশ্বাস করা যে জীবনের ভালো ও মন্দ, আনন্দ ও দুঃখ, জীবিকা ও সম্পদ, জীবন ও মৃত্যু ইত্যাদি বিষয় আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত। ভাগ্য আল্লাহর এক রহস্যময় জগৎ। এই জগৎ সম্পর্কে আল্লাহ কাউকে অবগত করেননি।মানুষের কর্মই তার ভাগ্যকে ঠিক করে দেয়’ এটি অসত্য কথা আমরা জানি। কারণ আমাদের সমাজে বহু মানুষ আছেন তারা অনেক পরিশ্রম করেন, অনেক সাধনা করেন, অনেক কাজ করেন, নিয়মিত সুচারুরূপে পরিশ্রম করেন কিন্তু সেভাবে কাক্সিক্ষত ফলাফল পান না। এরকম বহু উদাহরণ আমাদের চারপাশে রয়েছে। আবার অনেকে খুব বেশি পরিশ্রম যে করেছেন তা নয়; কিন্তু তারপরেও তার ফল তিনি বেশ ভালো পেয়েছেন।
কর্মই যদি ভাগ্য ঠিক করে দেয় তাহলে যত জন কাজ করছে সবাই তো ফলাফল ভালো পাওয়ার কথা। অথচ আমরা দেখছি কর্ম সঠিকভাবে করার পরেও অনেকে কাক্সিক্ষত ফলাফল পাচ্ছেন না। সুতরাং বোঝা গেল ‘কর্মই আমাদের ভাগ্য ঠিক করে দেয়’ এটি অযৌক্তিক, অসত্য এবং অবাস্তব কথা।
এর পাশাপাশি ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে এ ধরনের উক্তি কোনো ঈমানদারের করার সুযোগ নেই। এটি ঈমানের সাথে সাংঘর্ষিক একটি উক্তি। রাসূলে কারিম সা: ঈমানের যে মূল স্তম্ভের কথা বলেছেন তার মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং স্বতন্ত্র একটি স্তম্ভ হলো তাকদির তথা ভাগ্যের প্রতি বিশ্বাস করা। তাই ঈমানদার হওয়ার জন্য যেই কথাগুলোর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে তার মধ্যে একটি হলোÑ ভাগ্য তথা ভালো এবং মন্দ আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে নির্ধারণ হয়ে থাকে। অর্থাৎ আমাদের কর্মের মাধ্যমে কোন ফলাফল লাভ করব এবং কোন দিকে এগুচ্ছি সেটি আল্লাহ সুবহানাহু জানেন। সেটি তিনি নির্ধারণ করে রেখেছেন এবং সেটির ব্যতিক্রম হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিধায় ভাগ্য বলতে কিছু নেই বলে বিশ্বাস করা মানে তাকদিরকে অস্বীকার করা। তক্বদীরে বিশ্বাস স্থাপন করা আমাদের সকলের জন্যে অবশ্য কর্তব্য। বিবেক প্রসূত বিষয়াদির অন্যতম এটি। কিন্তু তক্বদীরের ব্যাপারে বিভ্রান্তমূলক ব্যাখ্যা আমাদের সমাজে বহুল প্রচলিত। তন্মধ্যে একটি হলো,“আমাদের কপালে যা লিখা আছে তাই হবে।” আবার অনেকে বলেন,“গরীব-ধনী,সৎ-অসৎ হওয়া ইত্যাদি সব কিছু প্রথম থেকেই তক্বদীরে লিপিবদ্ধ আছে,তাই আমাদের করার কিছু নেই।”

