জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বন্যা ও আরো অনেক কুফল নিচে দেওয়া হলো

M

১৬ কোটি মানুষের দেশ বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর অন্যতম। এখানকার জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশ শিশু।

জলবায়ু পরিবর্তন ছাড়াও নদী বিধৌত ব-দ্বীপ বাংলাদেশ আরও প্রাকৃতিক সংকটের মুখোমুখি হয়। তবে উষ্ণায়নের ফলে হিমালয়ের হিমবাহ গলতে থাকায় সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং প্রাণঘাতী দুর্যোগ ঝুঁকি আরও বাড়ছে।

বন্যা, ঘুর্ণিঝড়, খরা, জলোচ্ছ্বাস, টর্নেডো, ভূমিকম্প, নদী ভাঙন, জলাবদ্ধতা ও পানি বৃদ্ধি এবং মাটির লবণাক্ততাকে প্রধান প্রাকৃতিক বিপদ হিসেবে চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ সরকার।

অনেক সময় বন্যার কারণে নদী ভাঙন হয়। আবার নদী ভেঙেও লোকালয় প্লাবিত হয়। এর ফলশ্রুতিতে প্রাণহানি, জমি ও সম্পদ বিনষ্ট এবং বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়।

পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যা কবলিতরা রয়েছে চরম ভোগান্তিতে। ঘরে পানি প্রবেশ করায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যহত হয়েছে। অনেকে বাড়িঘর ছেড়ে বাঁধে বা আত্মীয়ের বাড়িতে ঠাঁই নিয়েছে। চারদিকে পানিবন্দি হওয়ায় দেখা দিয়েছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। বয়স্ক ও নারীদের জন্য
মলমূত্রত্যাগের সমস্যা প্রকট হয়েছে। চারদিকে পানি থাকায় গবাদিপশুর তীব্র খাদ্র সংকট দেখা দিয়েছে। এক বেলা খেয়ে আরেক বেলা অনাহারে থাকছে।


কুড়িগ্রামের পানি বৃদ্ধি এবং এর সমস্যা নিচে দেওয়া হল::


 কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আরিফুল ইসলাম জানান,শুক্রবার সকালে ব্রহ্মপূত্র নদের পানি চিলমারী পয়েন্টে ৫০ সেন্টিমিটার এবং ধরলা নদীর পানি ব্রীজ পয়েন্টে ২৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মঞ্জুরুল হক জানান,বন্যার ফলে জেলায় প্রায় ৩০ হাজার হেক্টর রোপা আমন, শাকসবজি ও বীজতলা তলিয়ে গেছে।
অপরদিকে তিস্তা নদীসহ বেশ কয়েকটি নদীতে দেখা দিয়েছে তীব্র নদী ভাঙন। নদী ভাঙনে গাছপালা, পুকুর, আবাদিজমিসহ বসতভিটা নদী গর্ভে বিলিন হচ্ছে। চলতি বন্যা মৌসুমে তিস্তার ভাঙনে বিলিন হয়েছে  বাড়িঘর ও দেড়শ বিঘা আবাদি জমি।


জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ ধরনের সমস্যা হয়। নিচে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কিছু কথা বলা হলো::


জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় নদ-নদীর পানিপ্রবাহ শুকনো মৌসুমে স্বাভাবিক মাত্রায় থাকে না। ফলে নদীর পানির বিপুল চাপের কারণে সমুদ্রের লোনাপানি যতটুকু এলাকাজুড়ে আটকে থাকার কথা ততটুকু থাকে না। পানির প্রবাহ কম থাকার কারণে সমুদ্রের লোনাপানি স্থলভাগের কাছাকাছি চলে আসে। ফলে লবণাক্ততা বেড়ে যায় দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের বিপুল এলাকায়। কম বৃষ্টিপাতের কারণে উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততার সমস্যা দিনে দিনে আরো প্রকট হয়ে উঠবে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় ইতোমধ্যেই সুন্দরবনের সুন্দরী গাছে ব্যাপক মাত্রায় আগামরা রোগ দেখা দিয়েছে। অনেকে একে মানবসৃষ্ট কারণ উল্লেখ করতে চাইলেও গবেষকরা একে প্রাকৃতিক কারণ হিসেবেই শনাক্ত করেছেন। সুন্দরবনের অন্যান্য গাছও আগামরা ও পাতা কঙ্কালকরণ পোকার আক্রমণের শিকার হচ্ছে। 


ছবিটা আমার তোলা না ছবিটা সংগ্রহ করা। 

Comments