হরলিক্স

M
বিচারের মুখোমুখি হরলিকস

গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইনের (জিএসকে) পণ্য হরলিকস বাংলাদেশে বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে অনুমোদন না থাকায় বিচারের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে লেবেলিং নীতিমালা ভঙ্গ করে মিথ্যা বিজ্ঞাপন প্রচারের অভিযোগও আনা হয়েছে পণ্যটির প্রস্তুতকারক ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতে এসব অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আসামি করা হয়েছে জিএসকে বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম আজিজুল হক, জেনারেল ম্যানেজার প্রকাশ পান্ডে এবং মিউচ্যুয়াল ফুড প্রডাক্টস লিমিটেডের চেয়ারম্যান আজিম উদ্দিন আহমেদকে। হরলিকস প্যাকেটের দুটি প্রতিষ্ঠানের নামই কখনো প্রস্তুতকারক কখনো বাজারজাতকারী হিসেবে লেখা হয়। ডিএসসিসির প্রসিকিউটিং অফিসার মোহাং কামরুল হাসান গতকাল রবিবার বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার শুনানির তারিখ ধার্য করা হয়েছে আগামী ২ অক্টোবর।
মামলার বাদী কামরুল হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটি কিভাবে এত দিন ধরে বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়া হরলিকস বাজারজাত করছে তা বোধগম্য নয়। অনুমোদন নেই মানে তাদের মানের বিষয়ে কোনো জবাবদিহি নেই। আর পণ্যটির বিক্রি বাড়ানোর উদ্দেশ্যে এর চটকদার মিথ্যা বিজ্ঞাপন লেবেলিং নীতিমালা ভঙ্গ করছে।’ তিনি বলেন, ‘খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সহায়তায় আমরা এ ধরনের অপরাধীকে নিয়মিত বিচারের মুখোমুখি করতে বদ্ধপরিকর।’

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ‘হরলিকস ক্লাসিক মল্ট, মাদারস হরলিকস বিশ্বের কোন উন্নত দেশ কর্তৃক স্বীকৃত অথবা অনুমোদিত তা খুঁজে পাওয়া যায়নি। জিএসকে বাংলাদেশ এবং মিউচ্যুয়াল ফুড প্রডাক্টসের হরলিকস ক্লাসিক মল্ট, মাদারস হরলিকস এবং অন্যান্য হরলিকস বিএসটিআই কর্তৃক অনুমোদিত নয়।’

এ ছাড়া হরলিকসের বিজ্ঞাপন প্রচারের মাধ্যমে গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ আনা হয়েছে। বিজ্ঞাপনের ভাষা ‘টলার, স্ট্রংগার, শার্পার’, ‘যতবার দুধ, ততবার হরলিকস’, ‘২ গ্লাস হরলিকস সমান ৬৬৬ গ্রাম ইলিশ মাছের সমান আয়রন’, ‘জুনিয়র হরলিকস খেলে শিশুর শরীর ও বুদ্ধি তরতর করে বেড়ে ওঠে’, ‘মাদারস হরলিকসে মায়ের পেটে বাচ্চার সঠিক বৃদ্ধি, ওজন এবং ব্রেন ডেভেলপ করে’, ‘বেড়ে ওঠার ডোজ’ ‘ক্লান্তিহীন এই জীবনের স্বপ্ন।