আমার প্রেমের গল্প

M
 আসসালামু আলাইকুম আশা করি সকল বন্ধুরাই আল্লাহর রহমতে ভালো আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় আল্লাহর রহমতে অনেক অনেক ভালো আছি। আজকে আমি আমার প্রেম সম্পর্কে কিছু লিখব। প্রেম মানে তো বুঝেন মনের ভিতর কত ভালো লাগা কত আনন্দ যে ভালোলাগার শেষ নাই ।

আমার প্রেম শুরু হয় ২০০৭ সাল থেকে। তখন আমরা দুজনে একসাথে এসএসসি পাস করি । ও হচ্ছে আমার মেজ ভাইয়ের শালিকা। মেজ ভাইয়ের দ্বিতীয় শালিকার সাথে আমার চতুর্থ নাম্বার ভাই সম্পর্ক করে বিয়ে করে । আর হচ্ছে আমার মেজ ভাইয়ের ছোট শালিকা। ওর নাম লায়লা আঞ্জুমান বানু। ওর বাড়ি লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী থানার মহিষখোসা ইউনিয়নে। ওরা হচ্ছে চার বোন দুই ভাই। ও সবার ছোট। ওই সময় ওর মোবাইল ফোন ছিল না। আমার একটা ছোট নোকিয়া মোবাইল ফোন ছিল।



                ছবির উৎস:  unsplash

ওর বাবার ফোন দিয়ে আমার সাথে কথা বলতো। ও হঠাৎ করে একদিন আমাকে ফোন দিয়ে বলে আগামীকাল সকালে আমার কলেজে এসে আমার সাথে দেখা কর। আমি পরের দিন গেলাম ওর কলেজে। দেখা করতে করলাম ওর সাথে, ওর সাথে একটা বান্ধবী ছিল। দুজনে শুধু দুজনকেই দেখি কোন কথা বলা হয় না। অনেকক্ষণ পর ও বলল তোমার আসতে এত দেরি হল কেন। আমি বললাম অটোতে আসতে দেরি হয়েছে আর বাড়ি থেকেও একটু দেরিতে বের হয়েছি।


পরে ওর কলেজ থেকে বের হয়ে রাস্তায় গেলাম ওর বান্ধবি সহ রাস্তায় গিয়ে বেশ কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করলাম। আমি ওদের দুজনকে চিপস এবং চকলেট কিনে দিলাম। অনেকক্ষণ গল্প শেষে আমি ওকে একটা কেকের প্যাকেট এবং সেভেন আপ কিনে দেই। ঐদিন ওর সাথে তেমন প্রেম সম্পর্কে কোন কথা বলা হয়নি ওর সাথে ওর বান্ধবী থাকার কারণে ।



    ছবির উৎস: unsplash 


পরে আমি অটোতে চড়ে বাড়িতে আসি। ও বাড়িতে চলে যায়। বাড়িতে এসে আমি ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া করি। রুমে কিছুক্ষণ শুয়ে থাকি। রুম থেকে বের হয়ে হাঁটাহাঁটি করি এবং মনে মনে ভাবি ওর সাথে কিভাবে কথা বলব। পরে রাত নটার দিকে ও ফোন দিল ওর বাবার ফোন থেকে ফোনে কথাবার্তা বললাম কিন্তু প্রেম সম্পর্কে কথা কিভাবে বলব বুঝে উঠতে পারছিলাম না। এভাবে ১০-১৫ দিন চলতেই থাকলো ১০-১৫ দিন যাওয়ার পর একদিন আমি রাত দশটার দিকে ফোন দেই ও ফোনটা রিসিভ করল কথা বলতে বলতে আমি হঠাৎ করে বললাম তুমি আমাকে কতদিন আগে থেকে ভালবাসো। ও বলল অনেক আগে থেকেই মনে মনে ভাবছিলাম যে আপনার সাথে সম্পর্ক করব কিন্তু ফ্যামিলির ভয়ের কারণে আমি বলতে পারি নাই। ও আমাকে বলল আমি তোমাকে অনেক অনেক ভালোবাসি। পরে আমিও বললাম আমার মন থেকে আমি তোমাকে অনেক অনেক ভালোবাসি অনেক আগে থেকেই।

ও ওর বাবার ফোন থেকে আমার সাথে কথা বলে। পরে একদিন ফোন দিয়ে বলে চলো কোথাও ঘুরতে যাব আমি বললাম ঠিক আছে চলো। অনেকদিন ফোন দিয়ে বলে আমার কলেজে আসো আমার সাথে দেখা করার জন্য পরের দিন সকাল নয়টার সময় মোটরসাইকেল নিয়ে বের হই ওকে নিয়ে ঘোরার উদ্দেশ্যে। আদিতমারী গিয়ে ওকে মোটরসাইকেলে তুলে ঘুরতে গেলাম আতিথমারি থানার কাকিনা রাজবাড়ী। কাহিনা রাজবাড়ীতে অনেকক্ষণ ঘুরে বেড়ালাম। কাকিনা রাজবাড়িতে একটা কবির বাসা আছে। কবির নাম হল শেখ ফজলুল করিম। সেই কবির বাড়িতে গিয়ে কবির বাড়িটা দেখলাম এবং কবির কবর দেখলাম। কবির অনেক ব্যবহৃত জিনিসপত্র গুলো দেখলাম। ওই কবি কিন্তু অনেক আগেই মারা গেছে।



               ছবির উৎস:     unsplash 


পরে কবির বাড়ি থেকে বের হলাম। কাকিনা রাজবাড়ীতে একটা বাজার আছে ওই বাজারে গিয়ে একটা হোটেলে ঢুকলাম এবং দুজনেই একটা টেবিলে বসে রুই মাছ দিয়ে ভাত খাইলাম। ও আমাকে ভাত তুলে খাওয়ালো, আমিও ওকে ভাত তুলে খাওয়ালাম। ভাত খাওয়া শেষে একটা সেভেন আপ কিনে আনলাম। দুজনে মিলেই সেভেন আপ খাইলাম ‌। কিছুক্ষণ হোটেলে দুজনে গল্প সল্প করলাম। এবং ওখান থেকে বের হলাম ওকে গাড়িতে তুলে আদিতমারিতে আসলাম । আদিতমারীতে এসে মোটরসাইকেল থেকে নেমে ওকে দুইটা চিপস কিনে দিলাম একটা সেভেন আপ কিনে দিলাম। পরে ওকে মোটর সাইকেলে তুলে ওদের বাড়ির পাশেই একটা গ্রাম আছে ওই গ্রামে নেমে দিয়ে আসলাম।এভাবে দুই মাস পর পর কাকিনার রাজবাড়ীতে ঘুরতে যাই। এক সপ্তাহ পর পর ওর কলেজে গিয়ে ওর সাথে দেখা করতাম এবং কিছু কেনাকাটা করে দিতাম।

ও মাঝেমধ্যে আমাদের বাড়িতে আসতো আগেও যেমন এসেছিল সম্পর্ক করার পরেও আসতো। আমিও ওর সাথে সম্পর্কের পর শুধু একবার গিয়েছিলাম ওদের বাড়িতে। ও আমাদের বাড়িতে আসার পর আমি সম্পর্কের আগে যেমন কথা বলতাম ঠিক ওই ভাবেই এক থেকে দুইবার কথা বলতাম। আর আমাদের প্রয়োজনীয় কথা হতো আমি যখন বাড়ির বাইরে যাই ও তখন ওর বড় আপার ফোন দিয়ে কথা বলতো। ও যেদিন আমাদের এখান থেকে চলে যায় আমাকে ওর বড় আপার ফোন থেকে মেসেজ করে আমি লালমনিহাট ওয়েট করব তুমি আমার সাথে দেখা করবা। ও যাওয়ার আধাঘন্টা পর আমি লালমনিরহাট গিয়ে দেখা করি এবং হোটেলে বসে দুজনে ই নাস্তা করি এবং হোটেলে বসে কিছুক্ষণ গল্প করি তারপর ওকে অটোতে তুলে দেই ও বাড়িতে চলে যায়।



            unsplash
 

২০১১ সালে ওকে আমি একটা নোকিয়া মোবাইল কিনে দেই। ওই ফোন দিয়েই তারপরে দিব্যি কথাবার্তা চলে। ও বেশিরভাগ ফোন দিত রাত বারোটার পর আমি কথা বলার জন্য রুম থেকে বাইরে চলে যাই আমি কখনো রুম থেকে কথা বলিনাই। ও রাত বারোটার পর ফোন দিত ভোর পর্যন্ত কথা বলতাম। এভাবে চলছে কথাবার্তা।

ও সম্পর্কের একপর্যায়ে এতটাই ইমোশনাল হয় যে আমাকে সে বিয়ে করতে কয়। আমি বলি এখন বিয়ে করা যাবে না আগে কিছু একটা করব তারপর। কিন্তু ওকে কিছুতেই মানাতে পারছি না। এই নিয়ে কিছুদিন ওর সাথে মান অভিমান চলে। পরে এক সপ্তাহ আমার সাথে ভালোভাবে কথা বলে না। আমিতো হায় হুতাশ হয়ে গেলাম কি যে হয়। ও যদি এই নিয়ে আমাদের দুজনের সম্পর্কের ব্যাঘাত ঘটায় তখন আমি নিজেকে সামলাতে পারবো না। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিলাম বিয়ে করার। আমরা দুজনে মিলে ডেট করি ২০১১ সালের শেষের দিকে বিয়ে করব।


ও বলে আমাকে কিভাবে বিয়ে করবা আমি বললাম বাড়ি থেকে পলাইয়ে বিয়ে করতে হবে এছাড়া কোন উপায় নেই কারণ আমাদের দুজনের সম্পর্ক আমাদের দুই ফ্যামিলির কেউ মেনে নেবে না। এভাবে কথাবার্তা চলতেই থাকে। একপর্যায়ে ২০১১ সালের শেষের দিক অক্টোবর মাসের ২ তারিখে দুজনে পালানোর সিদ্ধান্ত নেই। এদিকে আমার এক বন্ধুর সাথে এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করি ও বলে ঠিক আছে তুই ওকে নিয়ে কুড়িগ্রামে আসবি। কুড়িগ্রাম হচ্ছে আমাদের উত্তরবঙ্গের একটি জেলা। বন্ধুটা কুড়িগ্রামে সরকারি কলেজে পড়ে এবং ওইখানেই ম্যাচে থাকে। পরে ঠিক ২ তারিখেই সন্ধ্যার পর ওকে তুলে আনার জন্য আমি একটা মাইক্রো নেই সাথে আমার এলাকার দুজন বন্ধু ছিল। দুই বন্ধু সহ মাইক্রোতে সরে আদিতমারিতে যায়। আদিতমারী শহরের পাশেই এক নিরিবিলি জায়গায় আমরা গাড়ি নিয়ে থাকি। তখন সময় সাড়ে সাতটা বাজে। ওই সময় ওর মা বাবা এশার নামাজ পড়তেছে। আর ওর দুই ভাই বাড়ির বাহিরে ছিল ওই সুযোগেই বাহির হয়ে চলে আসে। কিছু কিছু দূর আসার পর ওর এলাকার এক পরিচিত চাচা ওকে আটকায় এবং ওর বাড়িতে খবর দেয় ওর বাড়ির সবাই এসে ওকে বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে আমি জানতে পারলাম এই সমস্যা পরে ওইখান থেকে আমি আমার বড় বোনের বাড়িতে চলে যাই। আমার বন্ধু দুজন বাড়িতে চলে আসে। পরে ওর বাবা আমার মেজ ভাইকে ফোন দেয় । বাড়ির সবাই তো পুরা গরম হয়ে গেল। এপাশে আমি আমার বড় বোনকে জানাই এই সমস্যাগুলো। পরে আমার বড় বোন বলল তুই আমাদের এখানেই থাক দেখি কি হয়।


পরে আমি তো পুরাই মেন্টাল হয়ে গেলাম প্রায় । আমি আর কিছুতেই সহ্য করতে পারছি না। কি করব এখন মাথা কিছুই কাজ করছে না। খাওয়া-দাওয়া ও ঠিকমতো করি না। পুরাই পাগলের মত হয়ে গেলাম। ওভাবেই কিছুদিন থাকলাম আমার বড় বোনের বাড়িতে। কিছুতেই নিজেকে সামলাতে পারছি না। কিছুদিন থাকার পর আমার মা বাবা আমাকে নেওয়ার জন্য বড় বোনের বাড়িতে আসলো। আমি পরে মা-বাবার সাথে বাড়িতে আসি। এবং কারো সাথে কোন কথা বলি না নিজেই নিজের মত চলি খাওয়া-দাওয়া ঠিক মতো করি না। পরে আর ওর সাথে কোন যোগাযোগ হয় নাই। এভাবে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হই। তবুও মনকে সান্ত্বনা দিতে পারি না। এভাবেই পরিসমাপ্ত হয়ে গেল আমাদের দুজনের সম্পর্ক।

এ পর্যন্তই বন্ধুরা সকলেই ভালো থাকেন সুস্থ থাকেন। কথা হবে আগামী পর্বে যে কোন বিষয় নিয়ে আল্লাহ হাফেজ আসসালামু আলাইকুম।


Comments

sereybd

অভিনন্দন, আপনার পোস্ট @sereybd দ্বারা কিউরেট করা হয়েছে। Serey Bangladesh কমিউনিটিতে পোস্টটি শেয়ার করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ

@mahmud552 দ্বারা ম্যানুয়ালি কিউরেট করা হয়েছে
20220913_222205.png