আমার পাঠ্যদানরত ইব্রাহিম খাঁ সরকারি কলেজ এর ইতিহাস

M
mhrifat1

আসসালামু আলাইকুম আাশা করি সবাই ভালো আছেন।আজকে আমার পাঠ্য দান করা কলেজের ইতিহাস নিয়ে আপনাদের সাথে গল্প শেয়ার করবো।আশা করি সকল এর ভালো লাগবে শুনে।তাহলে শুরু করি,আমি ২০১৮ সালে ইবরাহীম খাঁ সরাকারি কলেজে দ্বাদশ প্রথম বর্ষে ভর্তি হই।টাঙ্গাইল জেলার ভূঞাপুর উপজেলা ও পৌরশহরের প্রাণকেন্দ্রে ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ইবরাহীম খাঁ সরকারি কলেজ। ইবরাহীম খাঁ এর নিজ উদ্ধোগে এই কলেজটি প্রতিষ্টা করা হয়।ইবরাহীম নিজের জমি জমা ও এলাকা বাসীর উদ্ধোগে এই প্রতিষ্টান টি তৈরি করা হয়। দেশের উত্তর ও পশ্চিম অঞ্চলের প্রবেশদ্বার ‘ভূঞাপুর’ স্নিগ্ধ শ্যামলিমায় ঐশ্বর্যময়ী। 

বঙ্গবন্ধু সেতু হতে প্রায় ১৩ কি. মি. উত্তরে রেল ও সড়ক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশে অবস্থিত এ কলেজ যমুনা জনপদে শিক্ষা বিস্তারে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। শিক্ষাবিদ প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ ১৯৪৮ সালে ভূঞাপুরের কিছু সংখ্যক বিদ্যোৎসাহী ব্যক্তির অনুরোধে এলাকার সর্বস্তরের জনগণের ঐকান্তিক সহযোগিতায় মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীকে সভাপতি করে ‘ভূঞাপুর কলেজ’-এর কমিটি গঠন করে কলেজটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। ১৯৪৮ সালের ১লা জুলাই মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ১০২ জন শিক্ষার্থী নিয়ে ভূঞাপুর হাই স্কুলে অস্থায়ীভাবে কলেজের কার্যক্রম শুরু হয়। কলেজের প্রথম অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জনাব হালিমুজ্জামান খান।১৯৬৫ সালে স্নাতক (কলা ও ব্যবসায় শিক্ষা) এবং ১৯৭২ সালে স্নাতক (বিজ্ঞান) পাস কোর্স খোলার মাধ্যমে কলেজটি পূর্ণাঙ্গ ডিগ্রি কলেজের মর্যাদা লাভ করে।১৯৯৮ সালে কলেজটিতে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিতে ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা (বিএম) কোর্স চালু করা হয়। বর্তমানে কলেজে ০৫টি বিষয়ে স্নাতকোত্তর ১ম ও শেষ পর্ব, ০৭টি বিষয়ে স্নাতক (সম্মান), ১৮ টি বিষয়ে স্নাতক (পাস) কোর্স এবং ১৯ টি বিষয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় পাঠদান করা হয়। কলেজে বর্তমান শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ৭০০০ হাজার।শিক্ষক-কর্মচারীদের আবাসনের জন্য রয়েছে ১৮টি অস্থায়ী বাসা, ০৩টি মার্কেট, কলেজ গ্রন্থাগার, বিজ্ঞানাগার ও কম্পিউটার ল্যাব ও এর রয়েছে দৃষ্টিনন্দন ও সুবিশাল ক্যাম্পাস। খেলার মাঠে সারা বছর ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল ও ব্যাডমিন্টনসহ নানা ধরনের খেলাধুলার চর্চা করা হয়। টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর)-এর বর্তমান মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য জনাব ছোট মনির এমপি বিভিন্ন সময়ে কলেজের উন্নয়ন কাজে সহযোগিতা প্রদান করে চলেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ৩০ শে জুন ২০১২ খ্রিষ্টাব্দে ভূঞাপুর রেল স্টেশন উদ্বোধনকালে এ কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মচারী, স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মী, অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দসহ এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে কলেজটি জাতীয়করণের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

১১ই অক্টোবর ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দে কলেজটির জাতীয়করণ হয়। এছাড়াও বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং আন্তকলেজ ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে শিক্ষার্থীদের বিজয় অর্জনের গৌরব রয়েছে। শিক্ষার্থীদের সুশৃঙ্খল ও নৈতিক চরিত্র গঠনের জন্য বিএনসিসি, রোভার স্কাউট, গার্লস্ ইন রোভার এবং রেডক্রিসেন্ট-এর সুদক্ষ ইউনিট রয়েছে। শিক্ষার্থীদের আলোকিত মানুষ গড়ার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে সবসময়।আমি এই কলেজে শিক্ষাদান করতে পেরে খুবি গর্ববোধ করি।আশা করি আমার কলেজের ইতিহাস শুনে সবার ভালো লেগেছে।

 

বিঃদ্রঃ ছবিটি আমার নিজ মোবাইল দিয়ে তোলা হয়েছে।।কিন্তুু বেশি এমবি এর জন্য ফেলিগ্রামে আপলোড করে আবার সেইভ করা হয়েছে।

Comments

sereybd

অভিনন্দন! আপনার পোস্টটি সেরিবাংলাদেশের কমিউনিটি আইডি থেকে কিউরেশন করা হয়েছে। আপনি সেরি বাংলাদেশ ডিসকর্ড সার্ভারে get_upvote_serey চ্যানেলে আপনার পোস্ট লিঙ্ক জমা দিয়ে প্রতি 24 ঘন্টার মধ্যে একবার আমাদের কমিউনিটি  থেকে ভোটের অনুরোধ করতে পারবেন, ধন্যবাদ।

Join sereyBangladesh Discord server:- Join Discord (https://discord.gg/YKPqUku8)
Join sereyBangladesh Telegram :- Join Telegram (https://t.me/SereyBangladesh)

mdhabib
অসাধারণ