বিসমিল্লাহির রহমানির রহমান।পরম করুনাময় আল্লাহর নামে শুরু করছি, আশা করি সকলে অনেক ভালো আছেন।আজকে যেইটা নিয়ে গল্প করবো অনেকই হয়তো এখন ও নাম শুনেন নাই।জায়গা টার নাম হলো মহেরা জমিদার বাড়ি।এখনে প্রাচীন কালে জমিদাররা থাকতো কিন্তুু জায়গা কারুকাজও ইন্জিনিয়ারিং এখন কার আধুনিক ইন্জিনিয়ারিং কেউ হার মানায়।
মহেরা জমিদার বাড়ি
বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুরে অবস্থিত কয়েকটি ঐতিহাসিক স্থাপনার মধ্যে একটি মহেরা জমিদার বাড়ি অন্যতম।১৮৯০ দশকের পূর্বে স্পেনের করডোভা নগরীর জমিদার বাড়ীটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এখানে।স্বাধীনতা যুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনী মহেড়া জমিদার বাড়ীতে হামলা করে এবং জমিদার বাড়ীর কূলবধূ সহ পাঁচজন গ্রামবাসীকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে ১৯৭১ সালে। পরবর্তীতে তারা লৌহজং নদীর নৌপথে এ দেশ ত্যাগ করেন। এখানেই তখন মুক্তিবাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছিল। এ জমিদার বাড়ীটি পুলিশ ট্রেনিং স্কুল হিসেবে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় ১৯৭২ সালে। এবং পুলিশ ট্রেনিং স্কুলকে পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে উন্নীত করা হয় ১৯৯০ সালে।
মহেরা জমিদার বাড়ির অবস্থান
মহেড়া জমিদার বাড়ি বাংলাদেশের ঢাকা বিভাগের ঢাকা হতে ৮২ কিলোমিটার। টাঙ্গাইল সদর থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে প্রায় আট একর জায়গা জুড়ে এই মহেড়া জমিদার বাড়ি বিস্তৃত। ঢাকা টাঙ্গাইলের মহাসরক ৪ কিলোমিটার ভিতের অবস্থিত।
মহেরা জমিদার বাড়ির দর্শনীয় স্থান
মহেরা জমিদার বাড়ির সামনে প্রবেশ পথের আগেই রয়েছে ‘বিশাখা সাগর’ নামে বিশাল এক দীঘি। এই দীঘিতে এখন মৎস্য চাষ করা হয় এবং বাড়িতে প্রবেশের জন্য রয়েছে ২টি সুরম্য গেট। মূল ভবনে পিছনের দিকে পাসরা পুকুর ও রানী পুকুর নামে আরো দুইটি পুকুর রয়েছে এবং শোভাবর্ধনে রয়েছে সুন্দর ফুলের বাগান যেখানে বিভিন্ন ধরনের জানা অজানা ফুল পাওয়া যায়। বিশাখা সাগর সংলগ্ন দক্ষিণ পার্শ্বে রয়েছে বিশাল আম্র কানন ও বিশাল তিনটি প্রধান ভবনের সাথে রয়েছে নায়েব সাহেবের ঘর, কাছারি ঘর, গোমস্তাদের ঘর, দীঘিসহ ও আরো তিনটি লজ।
চৌধুরী লজঃ
জমিদার বাড়ি প্রবেশের পরেই মূল ফটক দিয়ে দেখা যায় চৌধুরী লজ। এটির গোলাপি রঙের ভবনটির পিলার গুলো রোমান স্থাপত্য শৈলীতে নির্মাণ করা হয়েছে। সুন্দর নকশাখচিত এই ভবনের ভেতরে রয়েছে নদীর ঢেউ এর মতোন ছাদ।
মহারাজ লজঃ
বাইজেনটাইন স্থাপত্য শৈলীতে নির্মিত মহারাজ লজ ভবনের সামনে ছয়টি কলাম রয়েছে। সেখানে গোলাপি রঙের বিভিন্ন কারুকাজ বিষ্টিত মহারাজ লজের সামনে রয়েছে সিঁড়ির বাঁকানো রেলিং ও ঝুলন্ত বারান্দা রয়েছে,যা ভবনের শোভা বৃদ্ধি করেছে। ভবনটিতে মোট বারোটি কক্ষ রয়েছে, সামনে বাগান ও পেছনে একটি টেনিসসহ কোর্ট রয়েছে। এই ভবনটি বর্তমানে সিনেমার শুটিং স্পট হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
আনন্দ লজঃ
মহেরা জমিদার বাড়ির সবচেয়ে সুন্দর ও আকর্ষণীয় ভবন হলো আনন্দ লজ। নীল ও সাদা রঙের মিশ্রনে ভরা ভবনটির সামনে সুদৃশ্য কলাম রয়েছে আট টি। তিন তলা বিশিষ্ট ঝুলন্ত বারান্দা এ ভবনকে করেছে আরো দৃষ্টিনন্দন। আনন্দ লজের সামনে হরিণ, বাঘ ও পশু-পাখির ভাস্কর্য, যা প্রাচীন স্থাপত্য ইতিহাসে নজির, ও একটি চমৎকার বাগান আছে।
কালীচরণ লজঃ
জমিদারী প্রথা বিলুপ্তির দিকে নির্মিত হয় এই কালীচরণ লজ, অন্য ভবন থেকে অনেকটা আলাদা। ইংরেজি ‘ইউ অক্ষরের আদলে এই ভবনটি ইংরেজ স্থাপত্য শৈলীতে নির্মিত। অন্যোন্য স্থাপত্য শৈলীর জন্য বিকেল বেলা ভবনের ভেতর থেকে সুন্দর আলোর ঝলকানি দেখা যায়।
বিঃদ্রঃ ছবিটি নিজ মোবাইল দিয়ে তোলা হয়েছে


অভিনন্দন! আপনার পোস্টটি সেরিবাংলাদেশের কমিউনিটি আইডি থেকে কিউরেশন করা হয়েছে। আপনি সেরি বাংলাদেশ ডিসকর্ড সার্ভারে get_upvote_serey চ্যানেলে আপনার পোস্ট লিঙ্ক জমা দিয়ে প্রতি 24 ঘন্টার মধ্যে একবার আমাদের কমিউনিটি থেকে ভোটের অনুরোধ করতে পারবেন, ধন্যবাদ।
Join sereyBangladesh Discord server:- Join Discord (https://discord.gg/YKPqUku8)
Join sereyBangladesh Telegram :- Join Telegram (https://t.me/SereyBangladesh)