সূর্য থেকে সপ্তম গ্রহ ইউরেনাস সম্পর্কে বিস্ময়কর আবিস্কার।

M
mhrifat1

পর্বঃ২ ও শেষ পর্ব

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। আসসালামু আলাইকুম।পরম করুনা ময় আল্লাহর নামে শুরু করতেছি। আশা করি আল্লাহর রহমতে সকলে ভালো আছেন।আমি ও মোটামোটি অনেক ভালো আছি।আজকে আপনাদের সৌরজগতের একটা গ্রহ সম্পর্কে আপনাদের সাথে আলোচনা করবো।গত পর্বে এটা সম্পর্কে আপনাদের সাথে আলোচনা করেছি।আজকে পুরো গল্পটির সমাপ্তি করা হবে।তাই পুরো গল্পটি সকলেই মনোযোগ সহকারে পড়বেন।

 

ইউরেনাস গ্রহের অজানা গল্প

 

প্রথম পর্বের পর থেকে শুরু করা হচ্ছে,ইউরেনাসের এর বাইরে পানি, অ্যামোনিয়া বা হাইড্রোজেন সালফাইড আছে কি না, তা জানা কঠিন কাজ। প্রথমত, গ্রহটি এত দূরে যে টেলিস্কোপেও এটি বেশ ছোট। আরেকটি অসুবিধা হলো, গ্রহটির যে অংশ আমরা দেখতে পাই, এই উপাদানগুলো আছে তার নিচের স্তরে। তাই বলে তো আর বিজ্ঞান থেমে থাকবে না। ইউরেনাসের ভেতরে উঁকি দেওয়ার একটি উপায় বের করে ফেলেছেন একদল আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিদ। ব্যবহার করেছেন শক্তিশালী জেমিনাই টেলিস্কোপ।গবেষক দলের প্রধান ছিলেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রহপদার্থবিদ প্যাট্রিক এরউইন। গ্রহটিতে অনুসন্ধান চালানোর জন্য তাঁর দল ব্যবহার করে ৮ মিটার টেলিস্কোপের নিয়ার-ইনফ্রারেড ইন্টিগ্র্যাল ফিল্ড স্পেকট্রোমিটার। এর মাধ্যমে এ-যাবত্কালের ইউরেনাসের সবচেয়ে বিস্তারিত বর্ণালি বিশ্লেষণ চালানো হয়েছে। তাঁরা মেঘের স্তরের ঠিক ওপরের এলাকার প্রতিফলিত সূর্যরশ্মির নমুনা দেখেন। আর তাতেই পাওয়া গেছে হাইড্রোজেন সালফাইডের চিহ্ন।

 

এই আবিষ্কারের মাধ্যমে জ্যোতির্বিদ্যার দীর্ঘদিনের একটি সমস্যার সমাধান হয়েছে। আগে জানা ছিল না, গ্রহটির মেঘে হাইড্রোজেন সালফাইড বেশি নাকি অ্যামোনিয়া। শনি ও বৃহস্পতিও গ্যাসীয় দানব। কিন্তু ওই গ্রহগুলোতে প্রচুর পরিমাণ অ্যামোনিয়া থাকলেও নেই কোনো হাইড্রোজেন সালফাইড।

এদিকে ইউরেনাসের পরবর্তী ও শেষ গ্রহ নেপচুন। ইউরেনাসের সঙ্গে এর গঠনের মিল আছে। ফলে এই ফল থেকে নেপচুনের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কেও কিছু ধারণা পাওয়া যায়।শুধু তা-ই নয়, এর মাধ্যমে খোদ সৌরজগতের গঠন সম্পর্কেও ইঙ্গিত পাওয়া যাবে। সৌরজগতের জন্মের সময় গ্রহের নাইট্রোজেন ও সালফারের অনুপাত নির্ভর করেছিল ওই গ্রহের অবস্থান ও তাপমাত্রার ওপর। আর নাইট্রোজেন ও সালফারই যথাক্রমে অ্যামোনিয়া ও হাইড্রোজেন সালফাইডেরই উপাদান মৌল।তার মানে, শনি ও বৃহস্পতির জন্ম সম্ভবত ইউরেনাস ও নেপচুন থেকে আলাদা উপায়ে হয়েছে। আর গ্যাসদানবদের সবাই চার পাথুরে গ্রহ বুধ, শুক্র, পৃথিবী ও মঙ্গল থেকে আলাদাভাবে জন্ম নিয়েছে। এ বিষয়গুলো আরও বিস্তারিত জানতে ভবিষ্যতে ব্যবহার করা হবে ভূ ও মহাকাশভিত্তিক টেলিস্কোপ। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো জায়ান্ট ম্যাজেলান ও জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ। তবে আরও নিখুঁত করে জানতে হলে ইউরেনাসে মহাকাশযান পাঠিয়ে ওই গ্রহ সম্পর্কে জানতে হবে। কিন্তু সেটা করতে আরও বিশ বছর সময় লাগবেই।সমস্ত পর্ব এখানেই শেষ করা হলো। পুরো গল্পটি মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য সকলকে অসংখ্যক ধন্যবাদ।

Comments