মধ্যবিত্ত পরিবারের বাস্তব জীবনের গল্প

M

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম,

হ্যালো আমার প্রিয় বন্ধুরা,

শুভ বিকাল,

সবাইকে জানাই আমার আন্তরিক সালাম ও শুভেচ্ছা, আশা করি সবাই ভাল আছেন এবং সুস্থ আছেন। আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ সুবহানাতায়ালার অশেষ রহমতে আমিও ভাল আছি এবং সুস্থ আছি, আজ শনিবার নতুন আরো একটি আর্টিকেল নিয়ে আপনাদের মাঝে উপস্থাপনা করতে এসেছি। আজকের বিষয়বস্তু হলো মধ্যবিত্ত পরিবারের বাস্তব জীবনের গল্প।

Edited by Canva

 

বিগত ১০ বছর আগেকার সাল ২০১৩ এই গল্পটি আমার গ্রামে ঘটে যাওয়া রহিম মিয়ার পরিবার থেকে নেওয়া হয়েছে। আমি তখন দশম শ্রেণীতে পড়ি আমার ভাল মনে পড়ে যে, রহিম মিয়া ছিলেন একজন কৃষক তিনি সহ তার ফ্যামিলিতে চারজন এক ছেলে এবং এক মেয়ে ও তার স্ত্রী

তাদের কোন নিজস্ব মাঠের জমি জায়গা ছিল না শুধুমাত্র বসত ভিটা ছাড়া, প্রতিদিন রহিম মিয়া অন্যের জমিতে মজুরি দিয়ে উপার্জন করত এক কথায় বলতে গেলে চলে যে অন্যের বাড়িতে কাজ করে তার জীবিকা অর্জন হয়।

বাড়িতে রহিম মিয়ার স্ত্রী গৃহিনী হিসাবে সাংসারিক কাজকর্ম করত তার পাশাপাশি গরু ছাগল ও হাঁস মুরগি লালন পালন করতো,

রহিমের ছেলের বয়স ছিল ৬ বছর এবং মেয়ের বয়স ছিল ১০ বছর তাই ছেলে ও মেয়েরা খুব একটা বাড়ির কাজে সহযোগিতা করতে পারত না কেননা তারা এখনই ছোট। মেয়েটি সবেমাত্র তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ে আমাদের গ্রামের প্রাইমারি স্কুলে প্রাইমারিতে সরকারি হওয়ার কারণে কোন ফি নিত না। ফ্রী পড়াশোনা পাশাপাশি সরকার থেকে স্কুলের বই দিত।

 

রহিম মিয়ার মেয়েটির মাথার ব্রেন খুবই ভালো ছিল স্কুলের মাস্টাররা অনেক প্রশংসা করত তৃতীয় শ্রেণী থেকে চতুর্থ শ্রেণীতে পদঃপ্পনের বার্ষিক পরীক্ষায় ক্লাসের মধ্যে সর্বোচ্চ নাম্বার পেয়ে প্রথম স্থান অধিকার করে।

রহিম মিয়ার পরিবারের সবাই খুশি যে তার মেয়ে প্রথম স্থান অধিকার করছে। তার মেয়ে চতুর্থ শ্রেণি ওঠার পর স্কুলে প্রতিনিয়ত হেঁটে যেত আর হেঁটে আসতো হাফ কিলোমিটার দূর তার এই স্কুল। একদিন স্কুল ছুটির পর বাড়ি আসার পথে মোটরসাইকেলের নিচে পড়ে গুরুতর আঘাত পায়।

পরিবারের হাল ধরার মতো আর কেউ রইল না তার স্ত্রী অন্যের বাড়িতে কাজ করা শুরু করল এবং পাশাপাশি ছাগল পালন করে সংসার চালাত।

এখনো পর্যন্ত ওই পরিবারের অবস্থা তেমনি আছে সবাই তাদের জন্য দোয়া করবেন। লেখাটি কেমন হয়েছে অবশ্য কমেন্টের মাধ্যমে জানাবেন যদি কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকে ক্ষমা দৃষ্টিতে দেখবেন আল্লাহ সবার মঙ্গল করুন।

Comments