পর্বঃ২
বিসমিল্লাহির রহমানীর রহিম। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আশা করি সবাই ভালো আছেন।আলহামদুলিল্লাহ আপনাদের দোয়ায় আমি অনেক ভালো আছি।আজকে আপনাদের ইতিহাসের দূরভাগা রসায়নবিদ সম্পর্কে অজানা গল্প শেয়ার করবো।আপনাদের ঞ্জানের পরিধী বৃদ্ধির জন্য পুরো গল্পটা মনোযোগ সহকারে পড়বেন।
সুইডিস বিঞ্জানী কার্ল শিরি
প্রথম পর্বের পর থেকে শুরু হচ্ছে,রসায়নের ইতিহাসে এমন উদাহরণও আছে যে কোনো মৌলের নমুনা আলাদাভাবে শনাক্ত না করেও কেউ কেউ কোনো মৌলের অস্তিত্বের ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। পরে তা সত্যি বলেও প্রমাণিত হয়েছে। যেমন সুইডিশ রসায়নবিদ জোহান অগাস্ট আর্ফওয়েডসন একবার পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বললেন, পেটালাইন খনিজ বা পাথরের ভেতর একটা মৌল লুকিয়ে আছে। পাথরকে গ্রিক ভাষায় বলা হয় লিথোস । তাই আর্ফওয়েডসন অজানা ওই মৌলের নাম দিলেন, লিথিয়াম। সেটা ১৯১৭ সালের কথা। এর চার বছর পর তাঁর কথা সত্যিই সঠিক বলে প্রমাণিত হলো। কারণ ১৯২১ সালে আর্ফওয়েডসনের ভবিষ্যদ্বাণী করা মৌলটি শনাক্ত করলেন ব্রিটিশ রসায়নবিদ উইলিয়াম ব্র্যান্ড।
বিজ্ঞানের ইতিহাসে প্রায়ই দেখা যায়, একই বিষয় নিয়ে অনেকেই গবেষণা করছেন। প্রায় কাছাকাছি সময়ে একই আবিষ্কারও করতে দেখা যায় বিজ্ঞানীদের। এসব নিয়ে মাঝে মাঝে বিজ্ঞান জগতে শোরগোল ওঠে। চলে স্বীকৃতি নিয়ে তর্কবিতর্ক। রসায়নে এসব বিভ্রান্তি ও বির্তক এড়াতে কোনো মৌল আবিষ্কারের চেয়ে ওই মৌল প্রথম কে আলাদাভাবে শনাক্ত করেছেন, তার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। অর্থাৎ কোনো মৌলের বিশুদ্ধ নমুনা যে ব্যক্তি প্রথম আলাদা করেন এবং তা সঠিকভাবে শনাক্ত করেন, তাঁকেই স্বীকৃতি দেওয়া হয়। সেটি করতে গিয়ে মাঝে মাঝে কিছু দুঃখজনক ঘটনাও ঘটতে দেখা গেছে। তেমনই ঘটেছিল সুইডিশ রসায়নবিদ কার্ল শিলির ভাগ্যে।
কার্ল শিলির জন্ম ১৭৪২ সালের ৯ ডিসেম্বর, সুইডেনের স্ট্রালসান্ড শহরে। ছোটবেলা থেকেই বাবার কাছে রসায়ন ও ফার্মাসির পাঠ নিয়েছিলেন। ১৪ বছর বয়সে কর্মজীবন শুরু করেন শিক্ষানবিশ ফার্মাসিস্ট হিসেবে। সে সময় রাত জেগে বিভিন্ন রাসায়নিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতেন এবং আগের নামকরা রসায়নবিদদের গবেষণা সম্পর্কে পড়তেন তিনি। এভাবে রসায়নে দক্ষতা অর্জন করেন শিলি। ২৫ বছর বয়সে তিনি ফার্মাসিস্ট হিসেবে রাজধানী স্টকহোমে কাজ শুরু করেন। এ সময় এক বন্ধুর সঙ্গে যৌথভাবে আবিষ্কার করেন টারটারিক এসিড।
সকলকে আজকের পর্বটি মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য অসংখ্যক ধন্যবাদ।

