বিঞ্জানী লুইস পাস্ত্তর সম্পর্কে অজানা গল্প

M
mdraza

পর্বঃ৩ ও শেষ পর্ব

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহিম। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আশা করি সবাই ভালো আছেন।আলহামদুলিল্লাহ আপনাদের দোয়ায় আমি অনেক ভালো আছি।দুইদিন যাবৎ আপনাদের কাছে বিঞ্জানী লুইস পাস্ত্তর সম্পর্কে অজানা গল্প বলতেছি। আশা করি প্রথম ও দ্বিতীয় পর্ব সকলেই পড়েছেন।আকর্ষণ বাড়ানো জন্য গল্পটি তিনটি পর্বে ভাগ করা হয়েছে।সবাই পাস্তুরাইজেশন প্রক্রিয়া টা জানি কিন্তু কে এর আবিস্কার করেছে তার সম্পর্কে জানি না।তার সম্পর্কে জানার জন্যই আমার গল্প লেখা।সকলেই মনোযোগ সহকারে পুরো গল্প পড়বেন।

 

 

জলাতঙ্ক লুইস পাস্ত্তর 

Image Source

দ্বিতীয় পর্বের পর শুরু করতেছি।বিঞ্জানী লুইস পাস্ত্তর এত দিন শুধু জীবজন্তু ও কীটপতঙ্গের ঔষধ তৈরি করেছেন।তার পর তিনি এমন একটা আবিস্কার করলেন যার জন্য পুরো পৃথিবী মারাত্মক ব্যাধী থেকে বাঁচলো।জলাতঙ্ক ছিল তখনকার সবচেয়ে মারাত্মক ব্যাধী।যদি কোনো মানুষকে পাগলা কুকুরে কামড়াতো সে ক্ষত স্থান সঙ্গে সঙ্গে বিষাক্ত হয়ে উঠতো না।কখোনো কখোনো সেই ক্ষত স্থান কিছুদিন পর শুকিয়ে যেত।কয়েক সপ্তাহ পরেই প্রকাশ পেত সেই রোগের লক্ষণ।রোগির তেস্টা পেলেও পানি স্পর্শ করতে পারতো না। এমনকি প্রবাহিত পানির শব্দ শুনেও অনেক এ আতঙ্ক গ্রস্থ হয়ে উঠতো।দুই তিন পরেই রোগির মৃত্যু হতো।কয়েক বছর যাবৎ জলাতঙ্ক নিয়ে কাজ করছিলেন বিঞ্জানী লুইস পাস্ত্তর। নিজের গবেষণার সংরক্ষিত এলাকায় পাগলা কুকুরদের পুষতেন।যদিও কাজটা ছিল বিপদজনক। তবুও সাহসের সাথে কুকুরদের নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করতেন।

 

একদিন এক কুকুর পাগল হয়ে চিৎকার করছিল।তার মুখ থেকে বেয়ে পড়ছিল বিষাক্ত লালা।সেখানে ছেড় দেওয়া হলো এক খরগোশ। কিন্তু খোরশোশ টিকে কামড়াছিল না সেই কুকুর।এজন্য তিনি ভিন্ন উপায়ে কুকুর এর লালা সংগ্রহ করলো।ওই কুকুরের লালা থেকে তৈরি করা হলো জলাতঙ্ক এর ঔষুধ। ছোট প্রাণীদের দেহে প্রয়োগ করে খুব ভালো ফল পেলেন তিনি।একদিন একটা ছোট ছেলেক কুকুর কামড়ায়।কিছু দিন এর মধ্যে ওই কুকুরের বিষ ছেলেটার শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।ছেলেটির মা ছেলেটিকে লুইস এর কাছে নিয়ে আসলেন।নয় দিন ধরে বিভিন্ন মাত্রায় ঔষুধ প্রয়োগ করার পর ছেলেটা সুস্থ হয়ে উঠলো।দীর্ঘ তিন সপ্তাহ পর ছেলেটি সম্পর্ণ সুস্থ হয়ে উঠলো।নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচালেন ওই শিশুটিকে।দেশ বিদেশে তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়লো।এটাই ছিল বিঞ্জানী লুইস পাস্ত্তর এর অজানা গল্প।এত সময় ধরে মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য আপনাদেরকে ধন্যবাদ।

Comments