"অসুস্থ হলেই মায়ের কথা খুব বেশি মনে পড়ে!"
আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন বন্ধুরা? আশা করছি আল্লাহর রহমতে আপনারা সবাই ভাল আছেন। আলহামদুলিল্লাহ আমিও আল্লাহ তায়ালার রহমতে বেশ ভালো আছি।

একটা সময় আমি মাঝেমধ্যে মনে মনে ভাবতাম এখন যদি আমার একটু অসুখ হতো! কারণ আমার অসুখ হলে,,, আমার মা অস্থির হয়ে যেত! আমি যা খেতে চাইতাম মা তাই আমাকে বানিয়ে বা কিনে দিতো। এমনিতেও যে দিতো না তা না কিন্তু ওই ,,সময়টায় যত্ন ছিল অন্যরকম। বুঝতেই পারছেন অসুস্থ ছেলে মেয়ের জন্য বাবা মা কতটা ব্যথিত হয়ে থাকে তাঁদের সুস্থ করার জন্য।
কিন্তু এখন প্রতিনিয়ত সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করি আমাকে কখনো অসুস্থ বানিয়েও না! এখন আমাকে সুস্থ করার জন্য আকুল হওয়ার মতো আর কেউ নেই! এখন অসুস্থ হলে,,, নিজেকে অসহায় মনে হয়। শরীর খারাপের চাইতে মোন টাই বেশি খারাপ হয়ে থাকে!

গতকাল রাতের আমার অবস্থার কথা বলছি,,, আপনারা হয়তোবা অনেকে জানেন গত কয়েকদিন ধরে আমার একটু জ্বর সর্দি লেগে আছে। কিন্তু গতকাল রাতে আমার যে কী হলো আমি নিজে ও বলতে পারছি না। এমনিতেই আমি রাতের দুইটা তিনটা বাজে ঘুমাই কিন্তু শরীর খারাপ থাকার কারণে কালকে একটার মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়ি। আরো অনেক রাত তিনটা বা চারটার সময় আমার গায়ে প্রচুর পরিমাণে জ্বর আসে! জ্বর কত ছিল তা তো বলতে পারি না কারণ রাতে মাপা হয়নি,,, কিন্তু আমি জ্বরে কাতরাতে থাকি। অনেকক্ষণ কাতরানোর পরে (আপনাদের ভাবি/আমার ওয়াইফ) সজাগ হয়।
তাকে আমি বলি আমার গায়ে বেশি করে কাঁথা দাও আমার প্রচণ্ড ঠান্ডা লাগছে। সে ঘুমের চোখে আধো আধো ভাবে কি বলছে আমি বুঝতে পারছিলাম। ওই সময়টায় আমি নিজেও,,, হুসে ছিলাম না। আমি নাকি তাকে প্রচুর পরিমাণে বকাবকি করি যার বিন্দুপরিবার আমার মনে নেই! সকাল বেলা উঠে তার কাছ থেকে শুনতে পাই।
সকালে ঘুমের মধ্যেই আমি অনুভব করতে পারি আমার কপালে কেউ যেন জলপট্টি দিচ্ছে। আমি চোখটা মেলতেই দেখতে পাই আমার ছোট্ট মা আমার কপালে জলপট্টি লাগাচ্ছে! আমি চোখ খুলতেই বলে বসলো,,, বাবা কেমন লাগছে তোমার। আমি বললাম মা ভালো লাগছে,,, জিজ্ঞাসা করলাম তুমি প্রাইভেটে গিয়েছিলে। আমার ছোট্ট মা বলল,,, জি বাবা প্রাইভেট থেকে এখনই আসলাম,,, এসে দেখি তোমার গায়ে প্রচুর জ্বর, তাই তোমার মাথায় আমি জলপট্টি দিয়ে দিচ্ছি।

তখন আমার চোখের পাশ দিয়ে আস্তে আস্তে করে জল গড়িয়ে নামছিল! আগে শুনতাম মেয়েরা নাকি বাবাদেরকে খুব বেশি ভালোবাসে। এখন আমার বাস্তব প্রমাণ আমার মেয়ে। আমার মেয়ে আমাকে অনেক ভালোবাসে সারাক্ষণ আমার সাথেই থাকতে পারে,,,আর কাউকে প্রয়োজন হয় না। আমার একটু কিছু হলেই আমার মেয়েটাই আমার সেবা যত্ন করে,,, যদিও বা সেও একটা ছোট্ট বাচ্চা মেয়ে।
আপনারা হয়তোবা অনেকে বলতে পারেন আপনার এত শরীর খারাপ তাহলে আবার পোস্ট লিখছেন কেন? আপনাদের জানানোর স্বার্থে একটি কথা বলে রাখি,,, বেশ কয়েক মাস আগে আমার টাইফয়েড হয়েছিল! ১০৬ পর্যন্ত জ্বর উঠেছিল তখনও কিন্তু আমি পোস্ট করা বন্ধ করিনি! শুধু তাই নয় আমার ওয়াইফের যখন বাচ্চা ডেলিভারি হচ্ছিল মেডিকেলে বসে,,, খুব খারাপ অবস্থায় গিয়েছিল পরিস্থিতি! তখনও কিন্তু আমি পোস্ট একটা দিনের জন্য বন্ধ করিনি!
এতকিছু আপনাদেরকে বলার কারণ পোস্ট করাটা আমার কেন জানি একটা নেশার মতো হয়ে গিয়েছে। পোস্ট না করলে কাজ না করলে কেন জানি ভালোই লাগে না।
আমি জানি আমার পোস্টে অনেক ভুল ত্রুটি হয়ে থাকে! যেটা সাধারণত আমার চোখে ধরা পড়ে না। আপনারা যদি দেখতে পান,, অবশ্যই আমাকে জানাবেন,,, এতে আমার অনেক উপকার হবে এবং আমার ভুলগুলো আমি সহজে শুধরে নিতে পারব।

