রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও আপন হওয়া যায়

M

               বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

আসসালামুআলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ। আশা করি আল্লাহর অশেষ রহমতে আপনারা সবাই ভাল আছেন। আলহামদুলিল্লাহ আমিও আপনাদের দোয়ায় বেশ ভাল আছি।

আমার গত পরিচয় মূলক পোস্ট এ আমি উল্লেখ করেছি আমার কোন ভাই বোন নেই। কিন্তু আজ আমি আপনাদের কে আমার ভাইয়ের গল্প শোনাবো। আমি প্রমাণ করব যে রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও কিছু মানুষ আপনের থেকে অনেক বেশি আপন হয়ে যায়। আমার ভাই যার সাথে আমার কোন রক্তের সম্পর্ক তো নাই, তার থেকেও যদি বড়ো কিছু থাকে সেই সম্পর্কটাই আছে যে কিনা এক দিকে আমার বাবার দায়িত্ব পালন করে, একদিকে আমার মায়ের দায়িত্ব পালন করে, একদিকে আমার ভাইয়ের দায়িত্ব পালন করে, সর্বশেষ আমার বন্ধুর দায়িত্বটাও পালন করে। 

(১) কিভাবে বাবার দায়িত্ব পালন করে?

      *কঠোর শাসনের নাম বাবা বাবারা সন্তানদের প্রচুর শাসন করে থাকে আর যত সব বাজে কাজ থেকে সন্তানদেরকে ফিরিয়ে রাখে। সন্তানের যত চাহিদা পূরণ করার ক্ষমতা কেবলমাত্র একজন বাবারি থাকে কারণ বাবাই প্রত্যেকটা সংসারের ইনকামের উৎসদ্বাতা তাই প্রত্যেকটা সন্তান তার বাবার কাছে তার পছন্দের জিনিসটি আবদার করে থাকে আর বাবা তার সাধ্যমত তা পূরণ করে ঠিক তেমনি আমার ভাই আমার সাথে ব্যবহার করে তো হয়ে গেল বাবার দায়িত্ব পালন করা। 

(২) কিভাবে মায়ের দায়িত্ব পালন করে?

   *পৃথিবীর প্রত্যেকটা মা সন্তানের প্রতি চুল নরম হয়ে থাকে। আর তাকে এতটাই ভালোবাসে বেশিরভাগ সময় তার ভুলগুলো মায়েদের চোখের পরেই না। সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে বলে দিতে পারে তার মনের ভিতরে কি চলছে। তার শরীর খারাপ না ভালো সে কি খেতে পছন্দ করে। তার পছন্দমতো খাবার বানানো।তা বলে শেষ করা যাবে না। মায়ের দায়িত্ব আর ঠিক এই সব কাজগুলোই আমার ভাইয়া আমার সাথে করে থাকে। আমার মুখের দিকে তাকিয়ে বলে দিতে পারে আমার কি সমস্যা। তোর হয়ে গেলো মায়ের্ দায়িত্ব পালন।

আপনারা এতেই বুঝতে পারছেন আর দুটো বন্ধু এবং ভাইয়ের দায়িত্বটা সে কিভাবে পালন করে তাই এই কথাগুলো না বলে আপনাদের মূল্যবান সময়টা বাঁচিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলাম।

 তো‌‌ আপনারাই চিন্তা করে দেখতে পারেন সে আমার কতটা আপন। আজ তার বর্ণনায় করব আপনাদের সাথে। এতক্ষন যার কথাগুলো বলছিলাম তার নাম 

সৈয়দ রেজোয়ান আলী শাহ

বিঃদ্রঃ ছবিটা ভাইয়ার ফোন দিয়ে তোলা।

তার গ্রামের বাড়ি পাকিস্তান। তার সাথে আমার পরিচয় ওমানে 2016 সালে। আমরা দুজনেই একই কোম্পানিতে কাজ করি সে কোম্পানির ফর মেন ছিল আর আমি ডকুমেন্ট কন্ট্রোলে কাজ করতাম। তার সাথে আমার সম্পর্কটা ঘরে ক্রিকেট খেলা নিয়ে সে ক্রিকেট ভালো খেলত আমিও মোটামুটি ভাল খেলতাম ওমানে আমরা পাকিস্তান বাংলাদেশ ক্রিকেট ম্যাচ খেলতাম ওই টিমের ভালো প্লেয়ার ছিল আর আমি বাংলাদেশ টিমের ভালো খেলেছিলাম। ওই থেকে আমাদের দুজনের মধ্যে কথা আলাপ শুরু হয় একপর্যায়ে আমরা খুব একটা ভালো ফ্রেন্ড হয়ে যাই। তারপর আমার লাইফ হিস্ট্রি আমি তাকে বলি আর সে তার লাইফ হিস্ট্রি আমাকে বলে অতঃপর আমি তাকে ভাইয়া বলে আখ্যায়িত করি যে আমার কোন ভাই নেই বলে আজ থেকে তুমি আমার ভাই সে খুব খুশি মনে আমাকে একসেপ্ট করে। এমন একজন ভাই আমি পাই যাকে মাথার মুকুট 👑 করে রাখলেও তার ঋণ আমি শোধ করতে পারব না।

সে আমার বড় ভাইয়ের মতো টেক কেয়ার করে। তারপরে দেশে আসলাম, দেশ থেকে ছুটি শেষ করে আবার চলে গেলাম। তার কিছুদিন পরেই তো আমার মা মারা যায় আর আসল ভাইয়ের পরিচয় তখনই পাওয়া শুরু করি। আমার মা মারা গেছে আমি যতটা না কান্না করছি তার দ্বিগুন আমার ওই পাকিস্তানের ভাই কান্না করছে। আমার সেই ভাই যদি না হতো আমি আমার মায়ের শেষ মুখটাও দেখতে পারতাম না কারণ আমি জাস্ট 21 দিন হয়েছে ছুটি থেকে গেছি আমার পকেটে এক বিন্দু পরিমাণ টাকা নেই যাও ৫ রিয়েল ছিল সেটাও ভাইয়া দিয়েছিল পকেট খরচ করার জন্য। আমার পাসপোর্ট নিয়ে টিকিট প্লেনের উঠিয়ে তারপরে সে বাসায় আসেন এমন একটা ভাই আমি পেয়েছিলাম আর আজও সে আমাকে এমন ভাবে গাইড করে এমন ভাবে টেক কেয়ার করে একজন বাবা এবং একজন মায়ের মত একটা বোনের মতো বন্ধুর মত যখন তাকে যেই জায়গার প্রয়োজন হয় সেই জায়গায় সেই অবস্থাতেই পাই। বাকিটা আপনারা বুঝে নেন সবিই যদি লিখতে যাই বলতে যাই রাত দিন শেষ হয়ে যাবে তাও এই গল্প বলা বা লেখা শেষ হবে না। এখন আমি দেশে আছি সে ওমনে আছে কিন্তু আমাদের সম্পর্ক ঠিক আগের মতই আছে সে আমাকে প্রতিনিয়ত সকাল-বিকাল কল করে আমিও তার প্রতি নিয়তই খোঁজ-খবর নেই তোমার যখন যা প্রয়োজন হয় তখন তাই দেয় টাকা-পয়সার যাই বলেন। তো এবার আপনারাই বলেন শুধুমাত্র রক্তের সম্পর্ক থাকলেই কি আপন হয়। রক্তের সম্পর্ক ছাড়াও কিছু কিছু মানুষ অনেক আপন হয়ে যায়। আজকে আর বেশি কিছু বললাম না সবাই ভাল থাকবেন সুস্থ থাকবেন আমার এবং আমার ভাইয়ের জন্য একটু দোয়া করবেন।

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতু। 

  ধন্যবাদ

Comments