🏏 ইতিহাসে প্রচণ্ড গরিব থেকে বিশ্বসেরা কয়েকজন ক্রিকেটার।
নাম্বার (১)
source
ফ্রেন্ডস ক্রিস গেইল সম্পর্কে জানে না বা তাকে চেনে না এমন কোনো ক্রিকেটপ্রেমীর পৃথিবীতে খুঁজে পাওয়া যাবে না। কারণ ক্রিস গেলের ব্যাটিং দেখার জন্য সারা বিশ্বের ক্রিকেটপ্রেমীরা অধীর আগ্রহে থাকে। আর কিস গেল সেই সমস্ত ক্রিকেটপ্রেমীদের ভালবাসার প্রতিদান বারবার দিয়েছেন নিজের ব্যান্ড দিয়ে। কিন্তু আমরা কি জানি তার শৈশব এবং কৈশোর কাল কিভাবে কাটিয়েছেন। ক্রিকেট খেলার সময় তিনি সবসময় হাসেন। ক্রিকেটের বাইরে সবসময় ফানির থাকতে পছন্দ করেন। তার চওড়া হাসি দেখলে যে কেউ ভাববে ক্রিস গেইল মনে হয় তার জীবনে খারাপ সময় চোখে দেখেনি। বাস্তবে এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল ক্রিস গেলের জন্ম জামাইকা শহরের একটি গরিব পরিবারের। যেখানে তার পরিবারের সম্মতি ছিল শুধুমাত্র একটি ঝুপড়ি ঘর। তাদের আর্থিক অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে নিজেদের খাবার জোগাড় করার জন্য পিক্সেল বিভিন্ন আবর্জনার স্তূপের প্লাস্টিকের বোতল ডাস্টবিনের ময়লা থেকে বিভিন্ন জিনিস তুলে সেগুলো বিক্রি করে তারপর খাবারের টাকা জোগাড় করতে কখনো কখন না পেলে শুধু পেট বাঁচানোর তাগিদে তাকে চুরি পর্যন্ত করতে হয়েছে। সেই কঠিন লড়াইয়ের পাশাপাশি তিনি নারিকেলের ডাল দিয়ে ক্রিকেট খেলা শুরু করেন। এভাবেই চলতে থাকে তার শৈশব কালের জীবন। একটু বড় হওয়ার পরে স্থানীয় ক্লাবে তাঁকে ব্যাট করার সুযোগ হয়। আর ক্রিস গেইল সেই সুযোগটা ভালোভাবে কাজে লাগান। ক্রিস গেইল একমাত্র ব্যাটসম্যান যিনি একদিনের ম্যাচে ব্যাট করতে নেমে প্রথম বলে ছক্কা হাঁকিয়েছেন। বিশ্বসেরা ইউনিভার্সেল লাইভ থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে। তাই আপনাদের কাছে রিকোয়েস্ট যদি সময় থাকে তাহলে ক্রিস গেইলের জীবনী নিয়ে একটু পড়াশোনা করে নেবেন।
নাম্বার(২)
source
পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে এক্সপ্রেস নামে পরিচিত শোয়েব আক্তার ছিলেন ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে দ্রুতগতির বোলার। এমনকি এখন পর্যন্ত তার 161.3 কিলোমিটার পার আওয়ার স্পিড রেকর্ড কেউ ব্রেক করতে পারেনি। শোয়েব আক্তারের বল এত টেনশন হচ্ছিল যে শচীন কিংবা রিকি পন্টিং এর মতো প্রথম সারির ব্যাটসম্যানরাও বারবার তার কাছে পরাস্ত হয়েছে। পাকিস্তানের এক্সপ্রেস কিন্তু একদিনে তৈরি হয়নি। আপনি জানেন কি শোয়েব আক্তার কতটা ত্যাগ স্বীকার করে কতটা কষ্ট করে বিশ্বসেরা বোলার হয়েছিলেন। শোয়েব আক্তারের বায়োগ্রাফির বৈকন্ঠপুর পড়লে আপনি বুঝতে পারবেন। তার লাইফ সম্পর্কে তার স্ট্রাগল সম্পর্কে। সৈকতের জন্মগ্রহণ করেছিলেন 1975 সালে রাওয়ালপিন্ডির একটি প্রত্যন্ত গ্রামে তাঁর বাবা ছিলেন একজন পেট্রোল পাম্পের নাইটওয়াচম্যান।
তাদের আর্থিক অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে শোয়েব আখতারের স্কুলের ফিস দেয়াটাও খুব মুশকিল ছিল। তাদের জন্য শোয়েব আখতারের জন্মের পর থেকে পায়ের হাটুর হাড়ের ছিল। তাই ছয় বছর পর্যন্ত হাঁটাচলা করতে প্রচণ্ড কষ্ট হতো তার। তিনি তার ইন্টারভিউতে জানিয়েছিল যদি কোন দিন বৃষ্টি হতো তাহলে তাদেরকে সারারাত জেগে থাকতে হতো। কারণ তাদের ঘরে বৃষ্টির পানি পরতে ।বাচ্চাদের স্থানীয় ক্রিকেট ক্লাবে জয়েন করার পর সেখানে যেগুলোর প্র্যাকটিস করতে যাওয়ার মত টাকা তাদের কাছে ছিল না। প্রায় সময় হেঁটে চলে যেতেন ক্লাবের মাঠে। একদিন তার এক ফ্রেন্ড তাকে বলে পাকিস্তানি ক্রিকেটার জহির আব্বাসের তত্ত্বাবধানে ইয়ং ক্রিকেটারদের তার ক্লাবের সুযোগ দেয়া হবে। শোয়েব আক্তার সেই সময় সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যেভাবেই হোক তিনি লাহোর যাবেন। যার বাড়ি থেকে ক্লাবে যাওয়ার টাকা ছিল না। সেই ছেলে লাহোর যাবে ব্যাপারটা অবিশ্বাস্য মনে হলেও শোয়েব আক্তারের পথে যাত্রা শুরু করলেন। পকেটের টাকা না থাকার কারণে তিনি লুকিয়ে বাসের ছাদে বসে 60 ঘণ্টার পথ পাড়ি দিয়ে লাহোরে পৌঁছেছেন। তার সামনে হাজির লাহোরে রাত কাটানোর মত কোন জায়গাটা ছিল না। সেই সময় একজন ঘোড়ার গাড়ি চালক তার লাইফে আসলেন একজন ফেরেশতা হয়। এই ঘোড়ার গাড়ি চালক শোয়েব আক্তারের সব কথা শুনে তাকে খাবার দিলেন এবং রাত্রে থাকার ব্যবস্থা করে দিলেন। সেই সাথে পরের দিন সেখানে নিয়ে গেলেন যেখানে প্র্যাকটিস হচ্ছিল আর এর পরে আমরা ক্রিকেটপ্রেমীরা পেয়েছি রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস' নামের এই দুর্ধর্ষ বলার।
নাম্বার(৩)
source
ডেভিড ওয়ার্নার আপনারা সবাই চেনেন সারা পৃথিবীতে খুঁজে পাওয়া যাবে। তবে ডেভিড ওয়ার্নার অস্ট্রেলিয়ার জন্মগ্রহণ করলেও তার ক্রিকেটার হওয়ার পথ মোটেও সহজ ছিল না। কারণ ডেভিড অর্নার জন্মেছিলেন খুব গরিব পরিবারে তার। পরিবারের সম্পদ বলতে শুধুমাত্র একটি ঘর ছিল।স্থানীয় ক্লাবের ক্রিকেট খেলার জন্য ভর্তি হন তখন তার ক্রিকেটের খরচ জোগানোর জন্য তাকে একটি দোকানে কাজ করতে হয়েছে আর এই দোকানে হেল্পিং হ্যান্ড হিসেবে কাজ করতেন। যার কাজ হচ্ছে জিনিসপত্র প্যাকিং করা এবং সাজিয়ে গুছিয়ে রাখা। তার টিনএজ ভয়েসটা এই রুটিনে কেটেছে সকালে তিনি ক্রিকেট প্র্যাকটিস করতে আর সন্ধ্যায় দোকানে জব করতেন। এভাবেই তিনি তার স্বপ্ন পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কাজ করে গেছেন। আর বর্তমানে ডেভিড ওয়ার্নার অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের highest-paid ক্রিকেটারদের মধ্যে একজন। যে একসময় ১ রুমে ঘরে ছিলো তার পুরো পরিবার নিয়ে। তিনি এখন থাকেন 7 মিলিয়ন ডলারের রাজ প্রাসাদের মতো বাড়িতে।
নাম্বার(৪)
source
মহেন্দ্র সিং ধোনির ইন্ডিয়া ক্রিকেট দলের পুরো বায়োগ্রাফি চেঞ্জ করে দেয় নাম মহেন্দ্র সিং ধোনি। তার হাত ধরে ইন্ডিয়া প্রায় প্রতিটি আইসিসি ট্রফি জয় পেয়েছে। কিন্তু ধনী ক্রিকেটার হওয়ার পেছনে চেষ্টা করেছে তা হয়তো আমরা অনেকেই ইতিমধ্যে তার বায়োগ্রাফি মুভিতে দেখে ফেলেছেন।একজন গরিবের ছেলে এমএস ধোনি ঝাড়খণ্ডের মত ছোট একটি এলাকায় ক্রিকেট খেলতেন। ভালো ক্রিকেট খেলে ছোট শহরের ছেলে হওয়াতে তাকে বারবার সিলেকশন থেকে আউট করা হতো। প্রচণ্ড হতাশা এবং পরিবারের চাপে তিনি ইন্ডিয়ার রেলওয়েতে চাকরি নেন। মাত্র 3 হাজার টাকা বেতনের চাকরী। তার মন একেবারে ছিলনা ক্রিকেটের ছেলে বারবার তিনি ক্রিকেটে ফিরতে চাইছেন। প্রায় দু'বছর ধরে নিজের মনের সাথে যুদ্ধ করেছেন। চাকরি করবেন নাকি ক্রিকেটে নিয়মিত হবেন এই সিদ্ধান্ত নিতে এবং শেষ পর্যন্ত তিনি চাকরি ছেড়ে দিয়ে ক্রিকেটের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। আর তারপরে সব রূপকথার মতো মনে হয়। ইন্ডিয়ার ক্রিকেটের সর্বকালের সেরা অধিনায়ক এর পাশাপাশি ক্রিকেট ইতিহাসের হাইস্পিড ক্রিকেটার হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলেন এমএস ধোনির। আমাদের কথাই তুলে ধরেছি। তারা সবাই তাদের নিজেদের দেশের জন্য নিজেদের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে লড়াই করেছেন। সবাই স্বপ্ন পূরণের জন্য সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি যুদ্ধ চালিয়ে গেছেন। এই ক্রিকেটারদের মধ্যে ছিল না হেরে যাওয়ার কোন ভয় এর বাইরে অনেক ক্রিকেটার আছে। যারা জীবন যুদ্ধের সর্বনিম্ন পর্যায় থেকে উঠে এসেছেন এবং আমাদেরকে বিমোহিত করেছে। তাদের ব্যাটিং এবং বোলিং দিয়ে আপনাদের কাছে ক্রিকেটারদের মধ্যে কার লাইফের সবচেয়ে কঠিন মনে হয়েছে সেটা অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।

