কাঠের ঘর শব্দ দুটি শুনেই সবার আগে জাপানের কথা মনে আসতে পারেন। তবে আজ আমরা শুধু জাপানের কাঠের ঘরের পরিবর্তে বাংলাদেশের দারুণভাবে জনপ্রিয় তিন কাঠের ঘর নিয়ে সাজানো তৈরি ঘরের বাজার সম্পর্কে জানবো। কেমনে ঘর কোথায় এই ঘর তৈরীর হয়।
রাজধানী ঢাকা থেকে সড়কপথে প্রায় 100 কিলোমিটার দক্ষিনে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলা অবস্থিত।
পদ্মাপারের জেলা মুন্সিগঞ্জ এর ঐতিহ্যবাহী কারুকার্যখচিত টিন ও কাঠের তৈরি ঘরের বাজার। স্থানীয়রা এসব ঘরের নাম দিয়েছেন রেডিমেড ঘর। এ অঞ্চলে প্রায় 15 লাখ মানুষের বসবাস তারা যে কতটা সৌখিন তার টিন কাঠের তৈরি কারুকার্যময় দৃষ্টিনন্দন ঘর গুলো দেখলেই বোঝা যায়।
প্রযুক্তির ছোঁয়া বিহীন সম্পূর্ণ হাতে তৈরি ভিন্নমাত্রার এই কাঠের ঘর মুন্সীগঞ্জের ঐতিহ্য সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব বিপরীতে লাগেনা কোন ইঞ্জিনিয়ার কিংবা ইন্টেরিয়ার ডিজাইনার। লৌহজংয়ের কাঠপট্টি এলাকায় ঘর তৈরি প্রতিষ্ঠানগুলোতে মজার দৃশ্য চোখে পড়বে নকশাকৃত এসব দোচালা ঘর তৈরি করা হয়েছে বিক্রি হবে বলে সবাই বলে রেডিমেড ঘরের হাট দেখতে সুন্দর ও টেকসই হওয়ায় ক্রেতাদের নজর কাড়ছে এই ঘরগুলো বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ এই দুই মাস ঘর বিক্রির মৌসুম শুধু স্থানীয়রা আশেপাশের বিভিন্ন জেলা থেকেও পছন্দ অনুযায়ী ঘর কিনে নিয়ে যায় ক্রেতারা কার্টুন দিয়ে তৈরি ঘরে শৈল্পিক নকশা ফুটিয়ে তুলেছেন কারিগররা কাঠের তৈরি দরজা জানালায় আনা হয়েছে বাহারি ধরনের ডিজাইন হাতুড়ি পাটালির কষাঘাতে মনের নান্দনিক শিল্পকর্ম ফুটিয়ে তুলেছেন কারিগররা মিস্ত্রিরা এই ঘরকে টপ বারান্দা বলে থাকেন একটি রেডিমেড ঘরবাড়িতে সেট করতে সময় লাগে তিন থেকে চারদিন আকৃতি ও ধরন অনুযায়ী একটি ঘর 2 /15 লাখ টাকায় বিক্রি হয় মাথায় প্রশ্ন জাগতে পারে 15 লাখ টাকায় তোর দালান তৈরি সম্ভব তাহলে টিনের ঘর কেন মূলত এই এলাকার নদী ভাঙ্গন কবলিত
অঞ্চল স্থানান্তরযোগ্য হিসেবে তৈরি করায় ভাঙ্গন দেখা দিলে ঘরগুলো সহজেই সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয় তাছাড়া তিনি নকশা ঘরের প্রতি এখানকার মানুষের আলাদা টান আছে প্রয়োজনে নগদ টাকায় বিক্রয় করায় ব্যবহৃত টিনের ঘর বিক্রিতেও ভালো দাম পাওয়া যায় শারিয়াট বাইপোলার হাত মাপের একটি নকশা করা ঘর তৈরিতে সময় লাগে 90 দিন সাধারণত তিনজন মিলে এক মাসে একটি ঘর তৈরি করতে পারে তবে মিস্ত্রিরা পারিশ্রমিক পান তিনি প্রতিদিন 600 টাকা সঙ্গে খাবার কেউ নিজে এটিএম কার্ড কিনে বাড়িতে ঘর তৈরি করতে চাইলে তারা মজুরি নিয়ে নে 35 থেকে 40 হাজার টাকা 15 লাখ টাকার ঘর বানাতে চাইলে আগে অর্ডার দিতে হবে।
সেই ঘর সাইজে বড় হবে পুরোটা হবে সূক্ষ্ম নকশা করা কাঠের আর সেই ঘরের ভেতর থাকবি আপনার প্রয়োজন মত রুমের সংখ্যা বা চালু নাইজিরা শাল সেগুন ও কানুর লোহা কাঠ দিয়ে ঘর বানানো হয় 23 বন্ধের ঘর বানাতে 105 থেকে 110 কেবি কাঠের দরকার হয় এসব ঘরের কার্ড আনা হয় চট্টগ্রাম থেকে এভাবে একটি প্রতিষ্ঠান বছরে প্রায় 20 থেকে 22 টি ঘর বিক্রি করে থাকেন কাঠ টিনের ঘর তৈরি সঙ্গে জড়িত আছে নানা রকম কাঁচামালের ব্যবসা যেমন কাঠ ব্যবসায়ী কাঠমিস্ত্রি ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশ ব্যবসায়ী ও ঘর নির্মাণ শ্রমিক ঘর তৈরি করে ঘিরে কর্মসংস্থান হচ্ছে বহু মানুষের আর এভাবেই বেঁচে আছে বাংলা সুনিপুণ সুন্দর চেহারা কাঠের ঘর তৈরি শিল্প মুন্সীগঞ্জে ব্যবসায়ী ব্যবসা শুরু করেন গত নব্বইয়ের দশকে এই আধুনিক যুগে সবার দৃষ্টি পাকা ভবনের দিকে থাকলেও এই অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ ছাড়তে পারেননি তিন কাঠি তৈরি ঘরের মায়া ঘরগুলোর পরিচর্যায় কাটে তেল কাঁচা গাব ও রং ব্যবহার করা হয় ফলে রেডিমেড ঘরের সৌন্দর্য বজায় থাকে বছরের পর বছর টিনের ঘরের প্রতি মুন্সীগঞ্জের মানুষের দুর্বলতা যে কেউ এখানে এলেই টের পাবেন এখানে ধনী-গরিব নির্বিশেষে প্রায় সবার বাড়িতেই দেখা মিলবে টিনের ঘরের এসব নকশা করানো চালা চালা চালা চালা ঘর এই তাদের বসবাস বছরের-পর-বছর এভাবেই প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে নকশাদার টিনের ঘরের ঐতিহ্য ও ঠিক আছে গৌর প্রসঙ্গে

