আসসালামুআলাইকুম বন্ধুরা আশা করি আপনারা সকলেই ভাল আছেন 12 টি আমল নারীদের জান্নাতে যাবার জন্য যথেষ্ট বিস্মিত হবেন। নারী-পুরুষ সৃষ্টির পর আল্লাহ তা'আলা তাদের বিভিন্ন দায়িত্ব প্রদান করেছেন নারীদেরকে যেহেতু আল্লাহতালা পুরুষদের তুলনায় দুর্বল সৃষ্টি করেছেন ফলে তাদের দায়িত্ব কেউ কিন্তু সহজ করে দিয়েছেন সংসার পরিচালনায় আয় উপার্জন করার দায়িত্ব নারীদের উপর চাপানো হয়নি সমাজ ও রাষ্ট্রীয় যাবতীয় ঝামেলার কাজ ও তাদের উপর বাধ্যতামূলক করা হয়নি এভাবে অনেক কষ্টকর ও কঠিন কাজ থেকে নারীদের অব্যাহতি দিয়েছে ইসলাম তাদের জীবন দায়িত্ব সহজ করে দেয়া হয়েছে শুধু তাই না জীবন দায়িত্ব কে সহজ করার পাশাপাশি তাদের জান্নাতে যাবার পথ কেউ সহজ করা হয়েছে তো দর্শক সে আঙ্গুল গুলো হলো
(১) হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন মহানবী সাঃ ইরশাদ করেন নারী যদি সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে রমজান মাসে
রাখে সতীত্ব রক্ষা করে এবং স্বামীর আনুগত্য করে তাহলে কিয়ামতের দিন সে জান্নাতের আটটি দরজার যে কোন দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে সুবহানা সহীহ ইবনে হিব্বান 4139
(২) মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন একবার মহানবী সাঃ নারীদেরকে সম্বোধন করে এরশাদ করেন তোমরা বেশি বেশি দান-সাদকা করো যদিও তোমাদের
অলংকারাদি থাকে তাহলেও করো কারণ কিয়ামতের দিন জাহান্নামীদের মধ্যে নারীদের সংখ্যায় বেশি হবে এই কথা শুনেই জনৈক মহিলা জিজ্ঞাসা করলেন নারীদের সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণ কি জবাবী মহানবী সাল্লাল্লাহু সাল্লাম পূর্লিন কারণ কথায় কথায় তোমরা অভিশাপ দাও এবং স্বামীর অবাধ্য হও মুসনাদে আহমদ 4036
(৩) হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত একবার তিনি মহানবী সাঃ কে জিজ্ঞাসা করেন করেন ইয়া রাসুলুল্লাহ আমরা জানি জিহাদ সর্বশ্রেষ্ঠ আমল তবুও কেন আমাদেরকে জিহাদে যাবার অনুমতি দেয়া হয়নি জবাবে মহানবী সাল্লাল্লাহু সাল্লাম বলেন তোমাদের জন্য তার চেয়ে উত্তম জিহাদ হল মাকবুল হল অর্থাৎ সব ধরনের ত্রুটি বিচ্যুতি গুনাহ থেকে মুক্ত সুবহানাল্লাহ বুখারী শরীফ 2743
(৪) আল্লাহু আল্লাহু বর্ণনা করেন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম আমাদেরকে আমরা জানি জিহাদ সর্বশ্রেষ্ঠ আমল তবুও কেন আমাদেরকে জিহাদে যাবার অনুমতি দেয়া হয়নি জবাবে মহানবী সাল্লাল্লাহু সাল্লাম বলেন তোমাদের জন্য তার চেয়ে উত্তম জিহাদ হল মাকবুল হল অর্থাৎ সব ধরনের ত্রুটি বিচ্যুতি গুনাহ থেকে মুক্ত সুবহানাল্লাহ বুখারী শরীফ 2743
(৫) হূমাইয়া রাদি আল্লাহ আল্লাহূ হতে বর্ণিত যদি আল্লাহু আল্লাহু বর্ণনা করেন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম আমাদেরকে বলেছেন তোমরা এই গুলো বেশি বেশি পড় তা হলেও সুবহানাল্লাহিল মালিকুল কুদ্দুসু সুবহানাল্লাহি লাইলাহাইল্লাহু অর্থাৎ পুতপবিত্র রাজাধিরাজ আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি প্রশংসা করছি সেই আল্লাহর যিনি ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই সুবহানাল্লাহ হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু সাল্লাম কি মহিলা সম্পর্কে বলা হল এক মহিলার দিনে রোযা রাখি আর সারারাত ইবাদত বন্দেগী করে কিন্তু সে কটু কথা বলেই প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয় মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেন কোনো লাভ হবে না তার এই সকল আঙ্গুলের সে জাহান্নামে যাবে আরেক মহিলা সম্পর্কে বলা হলো সে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে ষান্মাসিক রোজা রাখি এবং যথাসাধ্য দান সদকা করে কাউকে কষ্ট দেয় না তখন মহানবী সাল্লাল্লাহু সাল্লাম বললেন সে জান্নাতের উঁচু মাকাম পাবে সুবহানাল্লাহ
(৬) হযরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন একবার মহানবী সাল্লাল্লাহু সাল্লাম আনসারী মহিলাকে জিজ্ঞাসা করলেন তুমি আমাদের সঙ্গে হজে যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছ না কেন জবাবে মহিলা বললেন আমাদের মাত্র দুটি রুট আর তার মধ্য থেকে একটি আমার স্বামী ও তার ছেলে হজ করার জন্য
নিয়ে গেছে আর অপরটি দিয়ে আমাদের খেতে পানি সেচ করি মহানবী সাঃ তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন আগামী রমজান মাসে ওমরা করে নিও কেননা রমজান ম���সে ওমরাহ হজের সমতুল্য অন্য রেওয়াতে আছে আমার সাথে হজ করার সমতুল্য সুবহানাল্লাহ
(৭) উম্মে সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন মহানবী সাল্লাল্লাহু সাল্লাম বলেছেন কোন মুমিন নারী স্বামীকে সন্তুষ্ট করে মৃত্যুবরণ করলে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে সুবহানাল্লাহ
(৮) হযরত হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত একবার তার ফুফুর কোন এক প্রয়োজনেই মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে আসেন প্রয়োজন পূর্ণ হলে মহানবী সাল্লাল্লাহু সাল্লাম কি তাকে সম্বোধন করে বলেন তোমার স্বামী কি জীবিত আছে জবাবে তিনি বলেন হ্যাঁ পুনরায় মহানবী সাঃ জিজ্ঞাসা করলেন তার সাথে তুমি কিরূপ ব্যবহার করো জবাবে তিনি বলেন সাধ্যানুযায়ী তার খেদমত করে থাকে অতঃপর মহানবী সাঃ থেকে সম্বোধন করে বললেন ভালো করে চিন্তা করো তুমি যত বেশি তার খেদমত করবে ততোই কিন্তু তোমার কল্যান কেননা শ্রী তোমার জান্নাত আবার সেই তোমার জাহান্নাম অর্থাৎ তাকে সন্তুষ্ট রাখতে পারলি না জান্নাত লাভ করবেন অন্যথায় জাহান্নাম মুসনাদে আহমদ 1902
(৯) হযরত ইবনে আবী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন হযরত মুয়াজ ইবনে জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু একবার সামনে থেকে আসার পর মহানবী সাল্লাল্লাহু সাল্লাম কি মাথা নত করে সম্মান প্রদর্শন করলেন মহানবী সাল্লাল্লাহু সাল্লাম বললেন তুমি কি করছ যদি আল্লাহ বললেনঃ আমি সামনে থেকে এসেছি সেখানের অধিবাসীরা তাদের সেনাপতি ও ধর্মযাজকদের কি এভাবেই সম্মান প্রদর্শন করে থাকে তাই আমিও আপনাকে সেভাবে সম্মান প্রদর্শন করলাম মহানবী সাল্লাল্লাহু সাল্লাম তাকে এরকম কাজ করতে নিষেধ করলেন এবং বললেন আমি যদি কাউকে সেজদা করার আদেশ দিতাম তাহলে শুধু নারী জাতিকে হাদিস দিতাম যে তোমরা তোমাদের স্বামীদের কে সম্মান করার লক্ষ্যে সেজদা কর তোমার কুদরতি হাতে আমার প্রাণ কোন নারী তার প্রতিপালকের হক আদায় করতে পারবে না যতক্ষণ না সে তার স্বামীর হক পরিপূর্ণভাবে আদায় করবে স্ত্রীর উপর স্বামীর হক এত বেশি যে সফরের প্রাক্কালে সাভারের বেঁচে থাকা অবস্থায় যদি স্বামী তার স্ত্রীকে আহবান করে তাহলে সে নিষেধ করতে পারবেনা সহীহ ইবনে হিব্বান 4117
(১০) হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন মহানবী সাঃ ইরশাদ করেন আল্লাহ তাআলা ওই মহিলার উপর রহম করুন যে মহিলা শেষ রাতে
উঠে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করে এবং স্বামীকেও তাহাজ্জুদের জন্য জাগিয়ে দেয় স্বামী ঘুম থেকে উঠতে না চাইলেই মুখে পানি ছিটিয়ে দিয়ে হলেও উঠানোর চেষ্টা করে
(১১) হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন প্রিয় নবী সাঃ এর ইন্তেকালের পর মহিলাদের মধ্যে যে ধরনের পরিবর্তন এসেছে সেটা যদি তিনি দেখতেন তাহলে নিঃসন্দেহে তিনি তাদেরকে মসজিদে বাসা থেকে নিষেধ করতেন যে ভাবে নিষেধ করা হয়েছিল বনি ইসরাইলের মহিলাদেরকে অর্থাৎ মহিলারা ঘরে নামাজ পড়বে এটাই তার জন্য উত্তম ও অধিক কল্যাণকর বুখারী শরীফ 869
(১২) হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেছেন কোন নারী যখন পারিবারিক তহবিল থেকে স্বামীর অনুমতি ক্রমে সংসারের ক্ষতির না করে দান করে তখন এই খরচ করার কারণেই সেই নারীর আমলনামায় সোয়াব লেখা হয় আর স্বামীর আমলনামায় সব লেখা হয় কারণ সেতু উপার্জন করেছে এবং কোষাধ্যক্ষের আমলনামা লেখা হয় কারণ সে ক্যাশ সংরক্ষণ তবে ছোয়াবের দিক থেকে কাউকে কল দিলে হবেনা বুখারি হাদিস নম্বর 2065
প্রিয় মুসলিম বোনেরা যে কথাগুলো আলোচিত এই কথাগুলো গভীরভাবে চিন্তা করুন এবং স্বামীর সেবা যত্ন করুন এবং নিজের অন্দরমহলে নামাজ আদায় করুন আল্লাহ তা'আলা সকল মা-বোনদেরকে জান্নাত অর্জন করার তৌফিক দান করুন আমিন

