আজান হলেই বাজার বন্ধ - সৌদি আরব নয়, বাংলাদেশে |

M
 ঢাকা থেকে সিলেট যাওয়ার পথেই পড়বে তাজপুর ইউনিয়ন প্রধান সড়ক থেকে প্রায় 100 মিটার ভেতরে প্রবেশ করলেই রাজপুর বাজার বাজারের ভেতরে শেষমাথায় মাছের বাজারে অবস্থান মহারাজপুর ইউনিয়ন এবং পাশের উপজেলাসহ দূর-দূরান্ত থেকে গ্রামের বাসিন্দারা মাছ কিনতে আসেন এই বাজারে এখানে খুচরা এবং পাইকারি দরে মাছ বেচাকেনা হয় তাজা বর্ণিল মাছ লাফাচ্ছে ডালের ওপর আরো আছে বর্খেরা ছোট বড় মাছের সব ধরনের মাছের সমারোহ মিলছে রুই কাতলা বোয়াল চিংড়ি মলা-ঢ্যালা কই প্রতিশহর দেশীয় অসংখ্য প্রজাতির মাছ বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতাদের ঢোল আর বিক্রেতাদের হাঁকডাকে মুখরিত থাকে বাজারের চারপাশ সকাল থেকে শুরু করে বেচাকেনা চলে রাত পর্যন্ত মাছ বাজার কমিটি একদিন সকল মাছ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনায় বসলেন সেদিন এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্তে এক হলেন বাজারের ব্যবসায়ী বৃন্দ আলোচনা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাছবাজারে সভাপতি ও সেক্রেটারি সকল ব্যবসায়ীকে আহ্বান জানান প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ে মসজিদে জামাতের সাথে নামাজ আদায় করার আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ থেকে মোয়াজ্জিনের সুমধুর কন্ঠে আযান দিতে হলে ব্যবসায়ীরা 

দোকান সহ যাবতীয় কাজকর্ম স্থগিত রেখে জামাতের সাথে নামায আদায়ের লক্ষ্যে যাত্রা করেন মসজিদের পথে পবিত্র কুরআনের সূরা যুমার 9 নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে অভিযানে ঈমান এনেছ জুম্মার দিনে যখন নামাযের আযান দেয়া হয় তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের প্রতি ধাবিত হও এবং বন্ধ করে দাও বেচাকেনা এটাই তোমাদের জন্যে উত্তম যদি তোমরা জানতে দর্শক দেখতে পাচ্ছেন খোলা দোকান সামনে সারি সারি মাছ সাধনা অবস্থায় আছে ক্রেতা নেই বিক্রেতা নেই কোন জিনিস আমরা জানতে পারলাম সবকিছু এইভাবে উন্মুক্ত অবস্থায় থাকলেও কোনো রকম চুরির ভয় নেই মুসলিম মৎস্য ব্যবসায়ীদের এমন সিদ্ধান্তে খুশি অন্যান্য ধর্মাবলম্বী মাছ ব্যবসায়ীরা তাই মুসল্লীরা নামাজ শেষে বাজারে ফিরে না আসা পর্যন্ত তারাও তাদের বেচাকেনা সাময়িক বন্ধ রাখেন নামাজ শেষে ব্যবসায়ীরা যথারীতি দলে দলে ফিরে আসেন বাজারে সেইসাথে শুরু হয় ক্রেতা সমাগম 

বাগানবাজার আমরা সবাই নামাজ আদায় মাসিক বন্ধ করিয়া ছাড়িয়া দেওয়ার সময় যায় সবাই আমিও যাই এবং আমরা মাছ দিয়া যাই এখন মাস্টার সন্ধ্যার কোন কিছু হয় না আমরা জেলা জাপার সদিআরব কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও এমন নিরাপদ পরিবেশে বাস্তব চিত্র সম্ভব করে তুলেছেন সিলেট বিভাগের তাজপুর উপজেলার ধর্মপ্রাণ মুসলিম মৎস্য ব্যবসায়ীরা এই অভূতপূর্ব দৃষ্টান্তকে চোখে এক নজর দেখতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সৌখিন ক্রেতা-দর্শনার্থীরা ছুটে আসেন এই বাজারে 

Comments

piya3
আসলে বিষয়টি অনেক শিক্ষণীয়। যে স্থানে বাজে এলাকায় ধর্মকে সবার উপরে স্থান দেয়া হয়েছে এই লেখাটি পরিদর্শন করে আমার এটাই মনে হল। বাংলাদেশের সকল এলাকায় এরকম কিছু করা উচিত যাতে ধর্মকে সবার উপরে স্থান দেওয়া সম্ভব হবে। ধন্যবাদ ভাই শিক্ষণীয় এই লেখাটি আমাদের সামনে প্রকাশ করার জন্য।