আমি যখন গ্রাম থেকে আবার কলেজে আসি তখন আসার সময় অনেক সময় লাগে। ক্যানাডার রাস্তা তো অনেক জ্যাম ছিল। প্রথমে সকালে ঘুম থেকে উঠি তারপর আমি নামাজ আদায় করি। তারপর খেয়ে রওনা হয় আমার কলেজের উদ্দেশ্যে। যেখানে আমার কলেজা আসে আসতে সময় লাগে সাড়ে চার ঘন্টা সেখানে আর সময় লেগেছে সাড়ে সাত ঘণ্টা কেননা রাস্তায় ছিল প্রচুর জ্যাম। যার কারণে আমাদের গাড়িটা সামনের দিকে আসতেই পারে নাই। মনে হচ্ছিল পিপীলিকার মতো ধীরে ধীরে এগোতে গাড়ী। আবার কত সময় থমকে দাঁড়িয়ে আছে। আমার এমনিতে গাড়ি জার্নিতে খুবই সমস্যা হয়। আর এই প্রথম আমি এতক্ষন অথবা এত বেশি সময় ধরে গাড়ির ভেতর থেকেছি।
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় আজ আমার অতটাও খারাপ লাগে নাই। সারাটা রাস্তা আরজিনা ঘুমিয়ে এসেছি। এমনকি এই প্রথমবার আমি একা একা বাড়ি থেকে কলেজ আসলাম। আমার কলেজ টা অনেক দূরে কারন আমার বাড়ি সিরাজগঞ্জ কাজিপুর থানা আর আমার কলেজ পাবনা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট। রাস্তার ভিতর এত গাড়ি ছিল যে মনে হচ্ছিল কোন জায়গায় পা রাখার মত জায়গা নাই। আরেক গাড়িগুলো এমন ভাবে চলছিল যে মনে হচ্ছিল হেটে গেল গাড়ির আগে যাওয়া যাবে এমনকি এটাই সত্য। অনেকেতো গাড়ি থেকে নেমে রিকশায় চলে গেছে। এভাবে টানা 2 ঘন্টা জ্যামে আটকে থাকার পর একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম। গাড়িটা একটু জোরে এগোতে লাগলো। আর যখন যে আমি জ্যামে ছিলাম তখন এত গরম ছিল যে আমার শরীর থেকে ঘাম ঝরতে ছিল।
যখন গাড়িটা ছাড়লো তখন ঠান্ডা বাতাস গায় লাগাতেই খুব আরাম লাগলো। মনে হল যেন আমি আবার আমার গ্রামে ফিরে গেছি। তখন খুবই ভালো লাগতেছিল এবং গাড়িটা যখন চলতে শুরু করল তখন মনে হল খুব শীঘ্রই আমি আমার কলেজে চলে যাব আর কষ্ট করতে হবে না। এভাবে আস্তে আস্তে আমি আমার কলেজে পৌছে গেলাম। যেহেতু রাস্তায় জ্যামে আটকে ছিলাম এবং খুব গরম ছিল তাই আমি খুব ঘেমে গেছিলাম যার কারণে আমার অসুস্থ লাগতেছিল। আর তাই আমি প্রথমে ম্যাচে এসে গোসল সেরে নেই তারপর ভাত খাই। ভাতটা আমার বড় ভাই আগে রেখে দিয়েছিল তাই আমার অত কষ্ট করতে হয় নাই। কিভাবে আমি বাড়ি থেকে কলেজ পৌঁছে গেলাম।
আসসালামু আলাইকুম ওরহমাতুল্লাহ। সবাইকে ধন্যবাদ।

