কাছের মানুষকে উপকার করলে তার ফলাফল খুবই খারাপ হয়।

M
mdbayezid
মানুষকে উপকার করলে পরে ফল পেতে হয় অবহেলা তাদের কাছ থেকে।এই কথাটি কে মানেন বা না মানেন কিন্তু আমার মনে হয় কথাটি একদম সত্য কথা।


উপকারের প্রতিদান মানুষ এমন ভাবে আমাদের কে দিয়ে থাকে সেই প্রতিদান কখনো ভোলার মতো নয় একটি মানুষের উপকার করলে সে আমাদেরকে এমন কিছু উপহার হিসেবে দেয় পরবর্তীতে অন্য মানুষ বিপদে পড়লে তার পাশে গিয়ে দাঁড়াতে ভয় হয়।

source


সেই মানুষটির জন্য অন্য আরেকটি মানুষের বিপদে দাঁড়াতে গেলে নিজেকে মনে হয় আগে অন্য আরেক জনকে উপকার করতে গিয়ে ছিলাম বলে তার কাছে আজ আমি খারাপ একেও উপকার করতে গিয়ে আমি খারাপ হতে পারি এই ভয়টি কিন্তু মনের ভেতরে কাজ করে ।

তেমন আমার সাথে ঘটে গিয়েছে একটি ঘটনা সেই ঘটনার মাঝ থেকে কিছু বর্ণনা আপনাদের সাথে শেয়ার করবো বলে আজ চলে এসেছি বন্ধুরা।

ঘটনাটি ঘটেছে দুই মাস আগে আমি মালয়েশিয়াতে আছি আপনারা সবাই জানেন আমি মালয়েশিয়া আসার চার মাস পরে আমার মেজো খালার ছেলে এবং মেজো খালা আমাদের বাসায় এসেছিলো তার ছেলেকে বিদেশ পাঠাবে বলে।

আমার বড় ভাইয়ার সাথে অনেক সময় কথা বলছিলো আমার মেজো খালা অনেক কান্না করছিলো আর বলছিলো আমার ছেলেকে যেভাবে হয় তোমরা তুলে নাও আমার বড় ভাইয়া আমার কাছে শুনছিলো কি করা যায় বলতো আমি প্রথমে বলছিলাম আমি এসেছি এখনো চার মাস হলো না আমাদের কাছে এখন টাকা পয়সা কোথায়।


ওকে টাকা-পয়সা দিয়ে সাহায্য করবো এখন বর্তমানে কিভাবে তারপরেও ভাবলাম মেজো খালার ছেলে যখন আমাদের ভাই ভাইকে উপকার করবো না আমরা এটাই স্বাভাবিক আমরা ছাড়া কে উপকার করতে আসবে।

তখন ভাইকে বলছিলাম আচ্ছা ঠিক আছে আমরা টাকা পয়সা দিয়ে সাহায্য করবো সমস্যা নাই এবং আমরা যেখানে পাসপোর্টটি দিতে বলি সেখানে দিয়ে আসবি।

আমার পরিচিত একটি লোকের কাছে পাসপোর্ট জমা দিয়ে ছিলাম জমা দেয়ার পরে ১৯ দিন পরে সে মালয়েশিয়ায় এসে পৌঁছাই গেলো বাংলাদেশ থেকে আমরা পঞ্চাশ হাজার টাকা দিয়ে ছিলাম এবং তার রিসিভ করছিলাম মালাই ৪০০ রিঙ্গিত দিয়ে।


অবশেষে সে আসার পরে আমাদেরকে বলতে লাগলো তোমরা যেখানে কাজ দেবে আমি সেখানে কাজ করবো সেই সময়টি আমাদের খুবই খারাপ যাচ্ছিলো বললেও ভুল হবেনা কারণ আমাদের কাজের খুবই সমস্যা ছিলো।

তারপরেও আমাদের পাশে যারা আছে তাদের সাথে কথা বলে একটি কাজ আমরা ঠিক করেছিলাম ভালো টাকা বেতনও দিবে বলে সেই জায়গায় কাজটা ঠিক করা হয়েছিলো।

হঠাৎ করে আমার মেজো খালার ছেলের সুমন্দি ফোন দিছিলো আমার সেই ভাইয়ের কাছে সে কথা বলার পরে শোনা গিয়েছিলো ৯০ টাকা করে দেবে অনেক ভালো কাজ এমনটা বলছে।

পরে আমার সেই খালাতো ভাই বলে আমি এখানে কাজ করবো না আমি আমার সুমুন্দির কাছে চলে যাবো এখন তাকে তো আর জোর করে রাখা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয় আমরা বললাম আচ্ছা ঠিক আছে সমস্যা নাই সকাল হলে গাড়িতে উঠিয়ে দেবো।

আরো ২০০ রিঙ্গিত দিয়ে তাকে পাঠিয়ে দিলাম তার কুটুম এর কাছে যাওয়ার পরে সে আমাদের সাথে আর কথাও বলে না এবং আমার মেজো খালাও কথা বলে না আমরা বিষয়টি বুঝতে পারলাম না যে কিসের জন্য তারা কথা বলতে চাচ্ছে না।



পরে আমরা শুনতে পেলাম আমরা নাকি তাদের উপরে অনেক রাগ করেছি কারণ তার ছেলে ৯০ টাকা করে কাজ করছে বলে আমরা কম টাকা করে কাজ করি বলে আমাদের নাকি তার প্রতি হিংসা হচ্ছে।


source 


তখন বুঝলাম মানুষের উপকার করলে এমনটাই উপহার হিসেবে পাওয়া যায় তবে আমি পরে আমার সেই ভাইয়ের কাছে ফোন দিয়ে বলছিলাম তুই এই কথাগুলো কি বলেছিস সে আমার মুখের উপরে বলে উঠলো আমি বলি নাই আমি বললাম ও কোন সমস্যা নাই।

তোর কাজের কি খবর আমাকে বলল বেশ ভালোই যাচ্ছে আমার দিনকাল পরে আমি আমার ভাইয়ের সাথে বলছিলাম ও অনেক টাকার কাজ করতে গিয়েছে ওকি কাজ ঠিক ভাবে করতে পারবে।

তখন আমার ভাই আমাকে বলছিলো যেমন কাজ করবে তেমন টাকা পাবে ওর শরীর ও খারাপ হতে পারে কারণ টাকা যখন বেশি দিচ্ছে তাহলে কাজটাও একটু বেশি করা লাগবে।

দুই মাস কাজ করার পরে আমাদের কাছে ফোন দিয়ে বলে ভাই আমি এখানে কাজ করতে পারছি না আমাকে একটি ভালো কাজ ঠিক করে দাও এখন থেকে তার সাথে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছি কারণ তাকে একবার উপকার করতে গিয়ে অনেক কথা শুনতে আমাদের হয়েছে।


আবার যাদের সাথে কাজটি আমরা ঠিক করে দিয়ে ছিলাম তারাও আমাদের অনেক বড় বড় কথা বলছে কারণ তাদের সাথে ও কাজে যায়নি বলে তারা অন্য মানুষ দেখছিলো আমাদের জন্য সেই অন্য লোকটি কে বাদ দিয়েছিলো অবশেষে তারা আর লোক পাচ্ছিলো না তার জন্য আমাদের সাথে সেই মানুষদেরও সম্পর্কটা নষ্ট হয়ে গিয়েছিলো।

এখান থেকে আমার জীবনে একটি শিক্ষা পেলাম কাউকে উপকার করতে গেলে একটু ভেবেচিন্তে উপকার করতে হয় নিজেদের মানুষকে বেশি উপকার করতে গেলে তার কাছে বেশি খারাপ হতে হয় এটাই বাস্তব জীবন।

Comments