Bangladesh
স্যাটেলাইট প্রযুক্তির মাধ্যমে আমাদের দেশের মানুষ আজ দেশি বিদেশি নানামুখী চ্যানেল ও ইন্টারনেট সুবিধা পাচ্ছে। আগে যেখানে বাংলাদেশে বিটিভি-ই ছিল একমাত্র ইলেকট্রনিক বিনোদনের মাধ্যম সেখানে স্যাটেলাইটের সুবাদে এখন বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি মোট ৪১টি টিভি চ্যানেল চালু রয়েছে। যার মধ্যে ৩টি সরকারি ও বাকীগুলো বেসরকারি । এর মধ্যে এটিএন বাংলা, চ্যানেল আই, আরটিভি, এনটিভি, বৈশাখী, বাংলাভিশন, যমুনা টিভি, মাছরাঙা, দেশ টিভি, সময়, ইনডিপেন্ডেন্ট ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।২০০৪ সালে অশ্লীলতার বিবেচনায় সরকার এটিভি, টিভি-৬, চ্যানেল-ভিসহ বেশ কটি চ্যানেলের অনুষ্ঠান প্রচারের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও এমটিভি, সনিটিভি, জিটিভি, এইচবিও, স্টার মুভি, ইটিসি, বিফোরইউসহ আরও অনেক মিউজিক ও মুভি চ্যানেলের অনুষ্ঠান শহর থেকে শুরু গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত ঘরে ঘরে প্রচারিত হচ্ছে। তাছাড়া বিবিসি, সিএনএন, আল জাজিরা ইত্যাদি চ্যানেলগুলোতে আন্তর্জাতিক সংবাদ পরিবেশন করা হচ্ছে। পাশাপাশি ডিসকভারি, এনিমেল প্লানেট, অ্যাডভেঞ্চারার্সসহ বেশ কিছু চ্যানেল আছে যেগুলো পৃথিবীর আনাচে কানাচে ছড়িয়ে থাকা প্রকৃতির আশ্চর্য সৃষ্টিকে দর্শকের সামনে তুলে ধরছে। এভাবে প্রতিনিয়ত আকাশ সংস্কৃতির বিস্তার ঘটছে।কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের অনুষ্ঠান সম্প্রচার হয়। এর মাধ্যমে আমরা পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন অনুষ্ঠান গ্রাহক যন্ত্রের মাধ্যমে সরাসরি উপভোগ করতে পাচ্ছি। আর এভাবেই উদ্ভব ঘটেছে আকাশ সংস্কৃতির। আমরা টেলিভিশন ও রেডিওতে আবহাওয়াসহ বিভিন্ন খবর দেখি ও শুনি এগুলো মূলত সম্ভব হয়েছে স্যাটেলাইট এর মাধ্যমে যেটিকে আমরা আকাশ সংস্কৃতি বলি। আকাশ সংস্কৃতির মাধ্যমেই একটি দেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে অন্য দেশ সম্যক ধারণা পাচ্ছেমানুষের জীবনাচরণই তার সংস্কৃতি। ডিজিটাল ডিভাইস, স্যাটেলাইট তথা ডিশ এন্টেনার মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানই হলো আকাশ সংস্কৃতি। স্যাটেলাইট ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে আকাশ সংস্কৃতির বিস্তারে আমাদের তরুণ ও যুব সমাজের মাঝে দেশীয় সংস্কৃতির প্রতি যেমন অনীহা বাড়ছে তেমনি বিদেশি সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণের সর্বনাশা প্রবণতা দেখা দিচ্ছে। এভাবে আকাশ সংস্কৃতির প্রভাবে আমাদের দেশীয় সংস্কৃতি হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে।সংস্কৃতি একটি জাতি ও রাষ্ট্রের দর্পণস্বরূপ। প্রতিটি জাতি ও সমাজেরই আলাদা সংস্কৃতি থাকে। এই সংস্কৃতির মাধ্যমেই একটি জাতি ও রাষ্ট্র বিশ্বের দরবারে তাদের গৌরব ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে পারে। কিন্তু আধুনিককালে বিশ্বায়নের কারণে সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য বিনষ্ট হচ্ছে। সাংস্কৃতিক যোগাযোগ ও আকাশ সংস্কৃতির ব্যাপকতায় পৃথিবীর বিভিন্ন সংস্কৃতির আদান-প্রদানও অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বায়নের যুগে এসে বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইসের সুবাদে আকাশ সংস্কৃতি নামে অনুন্নত দেশের সংস্কৃতিকে গ্রাস করছে উন্নত দেশগুলোর সংস্কৃতি। ফলশ্রুতিতে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো তাদের সাংস্কৃতিক স্বকীয়তা হারাচ্ছে।P5K7eDzisSapM4Zjnb5KDz2USCjmXCNnLmYQBPM1QSXoUTQ5hzPx

