বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
মানুষের জীবনে প্রথম যা কিছু ঘটে, সেগুলোর অনুভূতি থাকে অন্যরকম। সেই অনুভূতি গুলো কখনও ভোলা যায় না, সেই অনুভূতি গুলো কষ্টের হোক বা সুখের। যদি কষ্টের হয় তা হলেই মনে হলেই আপনার মনে একটু হলেও কষ্ট অনুভব হবে, আর যদি সুখের হয় তা হলে যখনই মনে হবে তখনই আপনার মনে অজান্তেই মুখে হাসি চলে আসবে।
আমাদের জীবনে যা কিছু ঘটে এর সবই প্রথম থেকে শুরু হয়, যেমন প্রথম স্কুলে যাওয়া, প্রথম কোথাও ঘুরতে যাওয়া, প্রথম প্রেম, প্রথম চাকরি, এরকম আরো অনেক কিছু আছে, যেগুলো এখানে বলা উদ্দেশ্য না। এখানে আমি প্রথম স্কুলে যাওয়া নিয়ে কিছু আলোচনা করার চেষ্টা করব।
আমাদের জীবনের একটা অংশ হচ্ছে ছাত্রজীবন, এই ছাত্র জীবনের শুরুটা হয় স্কুল থেকে। আমাদের সবার জীবনেই স্কুলে যাওয়ার অভিজ্ঞতা আছে এবং সবার জীবনে প্রথম স্কুলে যাওয়ার অনুভূতি আছে।
আমরা যখন প্রথম স্কুলে যাই, তখন আমরা খুব ছোট থাকি, আমাদের বয়স পাঁচ অথবা সাত এর মধ্যেই থাকে, এই জন্য সবার মনেই একটু ভয় কাজ করে। কিন্তু আমার প্রথম স্কুল যাওয়াটা একটু ভিন্ন ছিল।
আমি আমার বাবার স্কুলে প্রথম ভর্তি হই, কি ভাবে ভর্তি হয়েছি, আমি নিজেই জানি না। আমার বাবা স্কুলের শিক্ষক হওয়ার কারণে ভর্তি কার্যক্রম তিনিই শেষ করেছেন।
স্কুলে ভর্তি হওয়ার আগে অনেক বার বাবার হাত ধরে স্কুলে গিয়েছি, কিন্তু ছাত্র হিসেবে এই প্রথমবার যাচ্ছি। আমাদের স্কুলে ক্লাস শুরু হওয়ার আগে সকল ছাত্র ছাত্রীদের লাইনে দ্বাড় করিয়ে শপথ বাক্য এবং জাতীয় সঙ্গীত পড়ানো হত।
আমি অনেকবার স্কুলে এসে বাবার সাথে দ্বাড়িয়ে এগুলো শুনতাম, শুনে শুনে শপথ বাক্য পুরাটা মুখস্ত হয়ে গেছে আর জাতীয় সঙ্গীত একটু মুখস্ত হয়েছে। আজকে আমাকে আর বাবার সাথে দ্বাড়াতে দেওয়া হয় নাই, সেই কারণে লাইনে দ্বাড়িয়েছি।
কিছুক্ষণ পর শপথ বাক্য পাঠ করার জন্য একজন ছাত্রকে ডাকা হয়, বাবা তাকে আসতে নিষেধ করে দেয় এবং আমাকে ডাকে, আমি তো ভয় পেয়ে যাই, শপথ বাক্য পাঠ করার জন্য রাজি হই না। তখন বাবা বলে তুমি এসে শপথ বাক্য পাঠ কর তোমাকে একটা খেলনা কিনে দিব। বাবার কথায় রাজি হয়ে শপথ বাক্য পাঠ করি। আমি এতো ছোট মানুষ শপথ বাক্য পাঠ করার কারণে আমাদের স্কুলের প্রধান শিক্ষক আমাকে দশ টাকা উপহার দেন। এটাই ছিল আমার জীবনের প্রথম উপহার।
এরপর সবাই ক্লাসে চলে যাই, আমাদের ক্লাস শুরু হয়। জীবনের প্রথম ক্লাস নেন আমাদের মোকতাল স্যার, স্যার আমাদের বাংলা ক্লাস নেন। এরপর আমার বাবা অংক ক্লাস নিতে আসেন। এসেই আমাকে ডাকেন এবং এক-দুই একশ পর্যন্ত পড়াতে বলেন। আমি বললাম, আমার ভুল যায়। বাবা বলেন, ভুল গেলে আমি বলে দিব।
অনেকক্ষণ বলার পর যখন রাজি না হই, তখন এক ছাত্রকে দিয়ে একটা বেতের লাঠি আনেন, ঐ লাঠি দিয়ে আমাকে একটা বাড়ি মারেন, আমি কান্না শুরু করে দেই। স্কুলের অন্য শিক্ষকরা এগিয়ে আসেন, একজন আমাকে কোলে নিয়ে অফিস রুমে যান, বাকিরা বাবাকে বলে, এতো ছোট ছেলেকে কেউ মারে?
আমি আগে থেকেই স্কুলে যাইতাম, এই কারণে স্কুলের শিক্ষক ছাত্র সবাই আমাকে খুব ভালবাসত। আজকে আমাকে বাবা মারার কারণে সবাই আমাকে আরো বেশি আদর করা শুরু করে।
আজকে আর ক্লাস করা হয় নি, স্কুল শেষে বাবা আমাকে খেলনা কিনে দেয় এবং আমার পছন্দের কিছু খাবার কিনে দেয়। এই দিন আমার বাবার চোখেও পানি দেখেছি। বাবা আমাকে স্কুল থেকে বাড়ি পর্যন্ত কোলে করে নিয়ে এসেছে।
আমার স্কুল জীবনের প্রথম দিনের কথা আমি কখনও ভুলতে পারব না। স্কুল জীবনের প্রথম দিনের কথা মনে পড়তেই আমার বাবার কথা বেশি মনে পড়ে।
আমার বাবা এখনও বেঁচে আছেন কিন্তু একটু অসুস্থ, হাটতে পারে না, সবার কাছে দোয়া চাই।


Congratulations! @mahmud552, you have won the second place on "Weekly Writing Contest - 2" organised by SereyBangladesh.
Your rewards:
i) 80% upvote from @opsin.
ii) 60% upvote from @looking.
iii) 100% upvote from @sereyibu351.
iv) 100% upvote from @killerkuasha.
v) 100 serey coin ( liquid ).