বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
হ্যালো বন্ধুগন আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি আপনারা সবাই অনেক ভাল আছেন, আমিও আপনাদের দোয়া এবং সৃষ্টিকর্তার রহমতে অনেক ভাল আছি।
বর্তমান পৃথিবীতে প্রায় সাতশ কোটি মানুষ আছে, একেক মানুষ একেক রকম। প্রত্যেক মানুষ দেখতে যেমন একরকম না, ঠিক তাদের চরিত্র এবং বৈশিষ্ট্য এক রকম না। কেউ বড় জ্ঞানী হয়েও নিজেকে বড় কিছু মনে করে না, আবার অনেকে মূর্খ হয়েও নিজেকে অনেক বড় কিছু মনে করে থাকে।
এই পৃথিবীতে মানুষের জন্য সব থেকে বড় উপহার হচ্ছে জ্ঞান, আর সব থেকে ছোট এবং নিকৃষ্ট উপহার হচ্ছে মূর্খতা। জ্ঞানী মানুষরা নিজেদের জ্ঞানের কারণে অনেক সময় বড় বড় বিপদ থেকে রক্ষা পায়, আবার অনেক মূর্খ মানুষ তাদের মূর্খতার কারণে অনেক বিপদে পতিত হয়।
এই জন্য বন্ধু নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে জ্ঞানী ব্যক্তিকেই নির্ধারণ করতে হবে, কারণ জ্ঞানী ব্যক্তি তার জ্ঞানের কারণে আপনাকে বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারবে, কিন্তু মূর্খ ব্যক্তি অনেক সময় উপকার করতে গিয়ে আপনার ক্ষতি করে দিবে।
এই বিষয়ে ছোট্ট একটা উদাহরণ দিলে আরও ভাল ভাবে বুঝে আসবে। এক মূর্খ লোক শেখ সাদী (রঃ) এর একটা কথা শুনেছে যে, বন্ধু যদি বিপদে পরে তাহলে "বিপদে বন্ধুর হাত ধরতে হয়"। সে এই কথা শোনার পর মনে মনে চিন্তা করল, এখন থেকে সব সময়ই সে তার বন্ধুদের উপকার করবে।
একদিন তার এক বন্ধুর সাথে অন্য আরেক লোকের ঝগড়া শুরু হয়েছে, অন্য লোকটা তার বন্ধুকে মারতে শুরু করেছে, এখন এই মূর্খ লোক গিয়ে তার বন্ধুর দুই হাতে ধরে আছে। অন্য লোকটি তো মহা খুশি সে আরও ভাল ভাবে এই মূর্খ লোকের বন্ধু লাঠি দিয়ে মেরে চলে গেল।
ঐ ব্যাক্তি যখন চলে গেল তখন মূর্খ লোকটা তার বন্ধুর হাত ছেড়ে দিল। তার বন্ধু তো রেগে আগুন, সে বলল এটা তুই কি করল? মূর্খ লোকটি বলল, কেনো আমি শেখ সাদী (রঃ) এর কথার উপর কাজ করেছি, তুই কি তার কথা শুনিস নাই? সে বলেছে "বিপদে বন্ধুর হাত ধরতে হবে" এই জন্য আমি তোর দুই হাত ধরে ছিলাম।
তখন তার বন্ধু বলল, আরে মূর্খ এই হাত ধরার অর্থ উপকার করা, সহযোগিতা করা, হাত ধরে রেখে বিপদে ফেলা না। তখন সেই মূর্খ লোকটি বুঝতে পারল। এরকম আরও অনেক ঘটনা আছে, যে গুলো আমরা সবাই জানি।
এই আমাদের উচিত নিজেরা জ্ঞান অর্জন করে জ্ঞানী হওয়া এবং অন্য জ্ঞানী মানুষের সাথে বন্ধুত্ব রাখা।
ধন্যবাদ সবাইকে আমার আজকের পোস্ট পড়ার জন্য।

