গতকাল স্মৃতির পাতায় ধরে রাখার মত একটা দিন অতিবাহিত করেছি

M
mahmud552

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

হ্যালো বন্ধুগন আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি আপনারা সবাই অনেক ভাল আছেন, আমিও আপনাদের দোয়া এবং সৃষ্টিকর্তার রহমতে অনেক ভাল আছি।

প্রত্যেক মানুষের জীবনে এমন কিছু সময় আসে, বা এমন কিছু মুহূর্ত আসে যেগুলো কখনও ভোলা যায় না, যেগুলো স্মৃতির পাতায় রয়ে যায় আজীবন। সেই মুহূর্ত গুলো যদি জীবনে না আসে তাহলে জীবনের আসল শান্তি পাওয়া যায় না, জীবন হয়ে ওঠে ক্লান্তিময়।

আমার জীবনের এরকম অনেক স্মৃতি আছে যেগুলো আমি চাইলেও ভুলতে পারব না, সেই সুখময় স্মৃতিগুলোর সাথে যোগ হল আরও একটা আনন্দের স্মৃতি, যেটা ইচ্ছা করলেও কোন দিন ভুলতে পারব না।

গতকাল স্মৃতির পাতায় ধরে রাখার মত একটা দিন অতিবাহিত করলাম।

গতকাল ছিল শুক্রবার, শুক্রবারে আমাদের মাদ্রাসা বন্ধ থাকে। গতকাল সকাল বেলা আমার মাদ্রাসার পাশের একজন লোক আমাকে নৌকা ভ্রমণের কথা বলল। আমি স্বাভাবিকভাবেই একটু ভ্রমণ প্রিয় মানুষ, তার উপর নৌকা ভ্রমণ করা আমার সব থেকে বেশি প্রিয়।

নৌকা ভ্রমণের প্রস্তাব পেয়ে দ্বিতীয়বার চিন্তা না করেই রাজি হয়ে যাই। নৌকা ভ্রমণের জন্য প্রতিজন ২০০ টাকা করে চাঁদা নির্ধারণ করা হয়।

দুপুর দুইটা ত্রিশ মিনিট এর সময় বালিয়াডাঙ্গা নৌকা ঘাট থেকে নৌকা ছেড়ে যাওয়ার কথা। আমরা দুপুরে জুমার নামাজ আদায় করার পর খুব দ্রুত দুপুরের খাবার শেষ করি এবং ঠিক দুইটা ত্রিশ মিনিটে নৌকা ঘাটে পৌঁছে যাই।

আমরা ভ্রমণের জন্য যেই নৌকা ঠিক করেছিলাম, সেই নৌকা আসতে একটু দেরী হয়, তিনটার সময় নৌকা আসে। এরপর আমরা সবাই নৌকাতে উঠে যাই। দুপুরের সময় রোদ একটু বেশি ছিল, এই জন্য অনেকেই বিরক্ত হচ্ছিলেন। কিন্তু বেলা বাড়ার সাথে রোদ কমে যায়, তখন সবাই শান্ত হয়ে যায়।

নৌকাতে কিছুদূর যাওয়ার পর আসর নামাজের সময় হয় আমরা নৌকা একটা মসজিদের কাছে ঠেকিয়ে আসর নামাজ আদায় করি। এরপর সবার জন্য হাল্কা নাস্তার ব্যবস্থা করা হয়। এই সময় হাল্কা নাস্তার পাশাপাশি সবাইকে চকলেট দেওয়া হয়। সবাই খুব মজা করে খায়।

এরপর নৌকা আবার চলতে শুরু করে। এবার নৌকার মধ্যে শুরু হয় বিনোদন পর্ব, অনেকে গান পরিবেশন করেন অনেকে কৌতুক পরিবেশন করেন, অনেকে কবিতা আবৃতী করেন।

এরপর মাগরিব নামাজের সময় হয়, আমরা সবাই নদীর পানি দিয়ে অযু করে নৌকার মধ্যেই মাগরিব নামাজ আদায় করি। মাগরিব নামাজের পর শুরু হয় বিনোদন এর দ্বিতীয় পর্ব, বিনোদনের দ্বিতীয় পর্বে গান, কৌতুক, কবিতার পাশাপাশি অভিনয় এবং বক্তৃতার আয়োজন করা হয়। অনেকেই অনেক সুন্দর সুন্দর বক্তব্য পেশ করেন।

এরপর এশার নামাজের সময় হলে, আমরা আরেকটা মসজিদের পাশে নৌকা ঠেকিয়ে এশার নামাজ আদায় করি। এশার নামাজের পর রাতের খাবারের আয়োজন করা হয়। রাতের খাবারে বিরিয়ানির প্যাকেট করা হয়। বিরিয়ানির সাথে একটা কোক, এক বোতল পানি, দই, লেবু, শশা এর ব্যবস্থা করা হয়।

আমরা নদীর মাঝখানে এসে রাতের খাবার খাই, রাতের খাবার শেষে সবার মতামত জিজ্ঞেস করা হয়, এবং ভবিষ্যতে এরকম আরও আয়োজন করার কথা বলা হয়। সব শেষে আয়োজন এর সভাপতি এবং পরিচালক বৃন্দ কিছু কথা বলেন এবং রাত এগারোটার সময় আমাদের নৌকা ভ্রমণ শেষ হয়।

গতকাল এর নৌকা ভ্রমণের নাম দেওয়া হয় "শিক্ষা সফর ২০২২" আয়োজন করেন তাকরিজুল আনাম হজ্ব কাফেলা। অনেক সুন্দর একটা আয়োজন ছিল। সবাই অনেক আনন্দ করেছে। এরকম অনুষ্ঠানে বারবার যেতে ইচ্ছে করে।

ধন্যবাদ সবাইকে আমার আজকের পোস্ট পড়ার জন্য। 

Comments

riyadx2

আপনাদের অনেক মজা হয়েছে।নদী ভ্রমণ করতে অনেক ভালো লাগে

jony365
এনেক সুন্দর একটা পোস্ট। পড়ে এনেক ভালো লাগতেছে।