আল হেরা পাঞ্জাবী টেইলার্স @Al Hera Punjabi Tailors@

M
mahmud552

        বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

আলহামদুলিল্লাহ সমস্ত প্রশংসা ঐ মহান রব্বুল আলামিনের জন্য যিনি আমাদেরকে এখনও পর্যন্ত এই দুনিয়াতে বাঁচিয়ে রেখেছেন এবং এই দুনিয়ার সব ধরনের নিয়ামত ভোগ করার তৌফিক দিতেছেন ।

বন্ধুরা আবারো হাজির হয়ে গেলাম আরো একটা নতুন পোস্ট নিয়ে । আজকের পোস্টে আপনাদের সবাইকে স্বাগতম ।

আজকের পোস্টে একটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান (পাঞ্জাবী টেইলার্স) এর কথা বলব । টেইলার্স এর নাম "আল হেরা পাঞ্জাবী টেইলার্স" ।

Image source

সাভার বাসস্ট্যান্ড এর পূর্ব পাশে বাংলাদেশ দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সুপার মার্কেট আছে যেটাকে সবাই অন্ধ মার্কেট হিসেবে চিনে । এই মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় অনেকগুলি পাঞ্জাবীর কাপড়ের দোকান আছে এবং অনেকগুলি পাঞ্জাবী টেইলার্স আছে ।

এর মধ্যে আল হেরা পাঞ্জাবী টেইলার্স আমার এক বন্ধুর দোকান, ওর নাম হাফেজ মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহ সাইম । আমার প্রায় সব গুলি পাঞ্জাবীই এখানে থেকে বানানো । ঐ দিন কথায় কথায় তার এই টেইলার্স করার গল্পটা শুনলাম ।

Image source

মুহিব্বুল্লাহ সাইম মাদ্রাসা থেকে হাফেজ হওয়ার পর কেতাব বিভাগে ভর্তি হয়, কিন্তু বেশি দিন লেখা পড়া করতে পারে নাই । লেখা পড়া বাদ দিয়ে এই মার্কেটে একটা দোকানে থাকা শুরু করে । তখন ওর বাবা ওর সাথে কথা বলা বন্ধ করে দেয় । সে এখানে থেকেই পাঞ্জাবীর কাটিং থেকে শুরু করে সব ধরনের কাজ শেখে ।

কাজ শিখে যখন অভিজ্ঞতা অর্জন করে ফেলে তখন মনে মনে চিন্তা করে নিজেই একটা দোকান দিবে । কিন্তু দোকান দিতে অনেক টাকার প্রয়োজন আর ওর বাড়ি থেকে কোন টাকা দিবে একদম সাফ জানিয়ে দিয়েছে । ওর বাবা তো ওর সাথে কথাই বলে না ।

Image source

কোন জায়গা থেকে কোন ধরনের সহযোগিতা না পেয়ে সে তার মামার সাথে কথা বলে তার মামা অংশীদার হিসেবে অর্ধেক টাকা দিতে রাজি হয় ।

এদিকে তার বাবা শুনে ভিশন রেগে যায় । তার বাবাকে তার মা অনেক বুঝায় যে ছেলে তো ঢাকা শহরে ব্যবসা শুরু করতে চাচ্ছে একটু দেখো না কি হয়? তার বাবা রাজি হয় । 

সে তার মামাকে বলে যদি অংশীদার হিসেবে ব্যবসা শুরু কর তা হলে কিছু দিন পর তোমাদের মামা ভাগিনার মাঝে ঝগড়া সৃষ্টি হবে । হয় তো তুমি তোমার ভাগিনাকে ব্যবসা দিয়ে দেও না হলে তুমি ব্যবসা কর তোমার ভাগিনাকে বেতন হিসেবে কর্মচারী রাখো ।

তার মামা খুব রেগে যায় এবং টাকা দিতে অস্বীকার করে । তার বাবা বিভিন্ন জায়গা থেকে দুই লক্ষ সংগ্রহ করে ছেলেকে দেয় । সাইম ভাই এই দুই লক্ষ টাকা দিয়ে দোকানে জন্য কিছু এডভান্স দেয় আর দুইটা মেশিন কিনে ছোট পরিসরে ব্যবসা শুরু করে ।

সাইম ভাই আমাকে বলে যে, ভাই প্রথমে অনেক কষ্ট করছি । দোকানের ভাড়া ঠিক মতে দিতে পারি নাই । অনেক দিন এরকম গেছে যে সারা দিনে এক বেলা খেয়ে থেকেছি । কিন্তু এখন আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ্ তায়ালা অনেক ভাল রেখেছেন । সে আরো বলে আমার একটা টার্গেট ছিল যে একদিন ইনশাআল্লাহ একটা কিছু করতে পরাব এই জন্য কষ্ট করছি, চেষ্টা করেছি । আল্লাহ্ তায়ালা এখন সফল করেছেন । এখন আমার অধীনে দশজন মানুষ কাজ করে । এই দশ জনের বেতন আমিই দেই ।

আসলেই আমরা যদি নিজের লক্ষ ঠিক রাখতে পারি এবং সে অনুযায়ী চেষ্টা করতে পারি তা হলে ইনশাআল্লাহ আল্লাহ্ তায়ালা আমাদেরকে একদিন সফলতা দান করবেন ।

Comments