হঠাৎ করেই বাড়িতে চলে আশা

M
mahmud552

      বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

আলহামদুলিল্লাহ সমস্ত প্রশংসা ঐ মহান রব্বুল আলামিনের জন্য যিনি একক যার কোন শরিক বা অংশীদার নাই ।

শত কোটি দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সায়্যিদুল মুরসালিন রহমাতাল্লিল আলামিন হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর উপর ।

বন্ধুরা আপনারা সবাই কেমন আছেন ? আশা করি আল্লাহ্ তায়ালার রহমতে ভাল আছেন । আমিও আপনাদের দোয়া এবং আল্লাহ্ তায়ালার রহমতে ভাল আছি ।

সবাইকে আমার আরো একটা পোস্টে স্বাগতম ।

গতকালের দিনটা ছিল একটু দুঃস্বপ্নের মত । গতকাল খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে ফজর নামাজ আদায় করি । ফজর নামাজ আদায় করে ছোট বোন, ছোট বোনের স্বামী এবং দুই ভাগিনা কোন একটা কাজে পুরাতন ঢাকায় যায় । আমি বাসায় একা থাকি এবং গতকালের লেখাটা লিখে পোস্ট করি । এর মধ্যে আমার স্ত্রী আমাকে ফোন দেয় । ফোনে কোন কঞথা বলতে পারে না । এরপর আমি ওর ভাই এর কাছে ফোন দেয় । ওর ভাই বলল তোমার স্ত্রী খুব অসুস্থ তাড়াতাড়ি আসো । 

কিছুক্ষণ পর আমার বড় ছেলে আফিফ আমার কাছে ফোন দিয়ে কান্না করতে থাকে আর বলতে থাকে আমি অসুস্থ আর তুমি এখনও আমার কাছে আসলা না । ছেলের একথা শোনার পর আমার চোখ দিয়ে পানি ঝরতে থাকে । বাসায় তখন কাজের বুয়া কাজ করছিল । বুয়াকে বললাম সব কাজ করতে হবে না । যে গুলি না করলে হবেই না সে গুলি তাড়াতাড়ি শেষ করেন আমি বাড়ি যাবো । বুয়া খুব তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করে চলে গেলো ।

এর মধ্যে আমি তৈরি হয়ে বাসায় তালা লাগিয়ে না খেয়েই বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই । তালার চাবিটা নিচে আমাদের পরিচিত এক ফার্মেসীর দোকান আছে নাম মিজান ভাই, তার কাছে দেই ।

এরপর বাসস্ট্যান্ডে যাই বাসের জন্য অপেক্ষা করতে থাকি । বাস আসতে অনেকক্ষণ সময় লেগে যায় । মনে চান করি আজকে তো শুক্রবার বাসে উঠলে জুমার নামাজ কোথায় আদায় করবো । এর মধ্যে বাস চলে আসে "এস আই এন্টারপ্রাইজ" আমাদের সিরাজগঞ্জের মধ্যে যেটা ভাল গাড়ি । গাড়িতে উঠে পরি, গাড়ি চলতে থাকে । মাঝপথে যুই যুথি ফিলিং স্টেশনে গাড়ি বিরতির জন্য দ্বাড়ায় ওখানে নেমে রুটি, কলা আর পানি কিনে সকালের নাস্তা করি । 

এরপর বাস আবার চলতে চলতে সিরাজগঞ্জ এসে পৌছায় । তখন সময় বারোটা পাড় হয়ে গেছে । এরপর সিএনজি তে উঠলাম, সিএনজি করে এসে আমাদের এখানে একটা বাজার আছে সীমান্ত বাজার নাম, সেখানে নামলাম । ততক্ষণে জুমার নামাজের সময় হয়ে গেছে । বাজারের মসজিদে গিয়ে জুমার নামাজ আদায় করলাম এরপর শ্বশুরবাড়ি গেলাম কারণ ছেলে আর ছেলের মা ওখানেই আছে ।

শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার সাথে সাথে ছোট ছেলে আমার কোলে চলে আর নামতে চায় না । বড় ছেলে ঘুমের মধ্যে ছিল আমার কথা শুনে ঘুম থেকে উঠে যায় । ঘুম থেকে উঠেই আমার গলা জরিয়ে ধরে । দেখি ছেলে  শরীরে অনেক জ্বর । ছেলের মা দেখি বিছানা থেকেই উঠতে পারতেছে না ।

যা হোক আমি আশার পর থেকে ছেলে দুইটা আমার সাথে থাকতেছে । কয়েকদিন শ্বশুরবাড়িতেই থাকতে  মনে হয় । এরপর স্ত্রী সুস্থ হলে বাড়িতে দিয়ে তারপর ঢাকা যাবো ইনশাআল্লাহ ।

এই কয়দিন হয়তো আর সেভাবে সময় দিতে পারবো না এবং হ্যাংআউটেও থাকতে পারবো না । এই সবাই, কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি । কেউ যেন ভুলে না যাই সে আশা করছি ।

সবার কাছে দোয়া চেয়ে শেষ করছি, দোয়া করবেন আল্লাহ্ তায়ালা যেন আমার ছেলে এবং ছেলের মাকে দ্রুত সুস্থতা দান করেন ।

Comments