বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
আলহামদুলিল্লাহ সমস্ত প্রশংসা মহান রব্বুল আলামিন আল্লাহ্ তায়ালার জন্য যিনি আমাদের গুনাহ সমূহ মাফ করার জন্য বিভিন্ন মাধ্যম দিয়ে রেখেছেন । তার মধ্যে আছে বিশেষ কিছু দিন এবং বিশেষ কিছু মাস, দিন সমূহের মধ্যে শুক্রবার হচ্ছে অন্যতম ।
আজ শুক্রবার তাই এই দিনটি নিয়ে আজকে কিছু লেখার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ ।
শুক্রবারকে জুমার দিনও বলা হয় । জুমা অর্থ একত্রিত হওয়া । শুক্রবারকে জুমার দিন কেনো বলা হয় এ নিয়ে অনেক মতভেদ আছে ।
এক হাদিসের মধ্যে হযরত সোলায়মান (রাঃ) বলেন আমাকে আল্লাহ্ এর রসুল (সাঃ) জিজ্ঞেস করেন, হে সোলায়মান তুমি কি জানো শুক্রবারের নাম কেনো জুমা হলো ? আমি বললাম আল্লাহ্ এবং তার রসুলই (সাঃ) ভাল জানেন । তিনি বললেন এই দিনে আদম (আঃ) কে সৃষ্টি করার জন্য মাটি সমূহ একত্রিত করা হয়েছিল এই কারণে এই দিনকে জুমার দিন বলা হয় ।
কেউ কেউ বলেন এই দিনে আদম (আঃ) এবং হওয়া (আঃ) প্রথম এক সাথে মিলিত হন ।
কেউ কেউ বলেন এই দিনে আদম (আঃ) এবং হওয়া (আঃ) কে দুনিয়াতে পাঠানো হয় এবং এই দিনেই আবার একত্রিত হন ।
কেউ কেউ বলেন এই জুমার দিনেই আল্লাহ্ তায়ালা দুনিয়াকে ধংস্ করে দিবেন এবং এই দিনেই হাশরের ময়দান কায়েম হবে ।
কেউ কেউ বলেন শুক্রবারে যেহেতু সকল মুসলমান গন নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদে একত্রিত হয় এই জন্য শুক্রবারকে জুমার দিন বলা হয় ।
সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন হচ্ছে জুমার দিন । জুমার দিনের অনেক ফজিলত রয়েছে । জুমার দিনকে গরিবের হজ্বের দিন বা ঈদের দিন বলা হয় ।
জুমার দিন সম্পর্কে আল্লাহ্ তায়ালা সুরা জুমআ এর নয় নম্বর আয়াতের মধ্যে বলেন "হে ইমানদারগন জুমার দিনে যখন তোমাদেরকে নামাজের জন্য ডাকা হয় তখন অতি দ্রুত মসজিদের দিকে আসো এবং বেচা কেনাকে বন্ধ করো এটাই তোমাদের জন্য মঙ্গল যদি তোমরা বোঝ" । এই আয়াত দ্বারা বোঝা যায় শুক্রবারে জুমার আজানের পরে সব ধরনের কাজ নিষেধ ।
কোন ব্যক্তি জুমার দিনে উত্তম রূপে গোসল করে, সুগন্ধি ব্যবহার করে, সাধ্যমত উত্তম কাপড় পরিধান করে, আগে আগেই মসজিদে পায়ে হেঁটে যায়, সাধ্যমত নামাজ আদায় করে, ইমামের নিকটবর্তী যেখানে যায়গা পায় সেখানেই বসে, কাউকে কষ্ট না দেয়, কোন কথা না বলে, মনোযোগ সহকারে খোতবা শুনে তো আল্লাহ্ তায়ালা তার প্রতি কদমে এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেন এবং এক বছরের নেকী দান করেন ।
অনেকে জুমার দিনে পরে এসে সামনে যাওয়ার চেষ্টা করে এগুলো ঠিক না, যেখানে যায়গা পায় সেখানেই বসা প্রয়োজন । হাদিসে এসেছে কোন ব্যক্তি মসজিদে পরে আসে এবং মানুষের ঘাড়ের উপর দিয়ে সামনে যায় সে যেন জাহান্নামের দিকে অগ্রসর হলো ।
জুমার দিনে যে উত্তম রূপে গোসল করে আল্লাহ্ তায়ালা তার শরীরের পশমের গোড়া থেকে পর্যন্ত গুনাহ গুলি বের করে দেন ।
জুমার দিনের কিছু আমল আছে, হাত পায়ের নখ কাটা, গোঁফ ছোট করা, গুপ্তস্থান পরিস্কার করা, মেসওয়াক করা, উত্তম রূপে গোসল করা সুগন্ধি ব্যবহার করা, উত্তম কাপড় পরিধান করে সবার আগে মসজিদে পায়ে হেঁটে যাওয়া, যথাসাধ্য নামাজ আদায় করা ।
জুমার দিনে বেশি বেশি দরুদ শরীফ পড়া, সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করা । কোন ব্যক্তি জুমার দিনে সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করে আগামী এক সপ্তাহ তার থেকে আসমান পর্যন্ত একটা নূর চমকাইতে থাকে (অন্য এক বর্ণনায় আছে তার থেকে বাইতুল্লাহ পর্যন্ত)। যার কারনে তার উপর আগামী এক সপ্তাহ পর্যন্ত বড় কোন মসিবত আসে না ।
জুমার দিনে একটা সময় আছে যখন আল্লাহ্ তায়ালা বান্দার দোয়া কবুল করে থাকেন । সময়টা কখন এ নিয়ে কিছু মতভেদ আছে । তবে গ্রহণযোগ্য মত হচ্ছে আসরের পর সূর্য ডোবার কিছুক্ষণ পূর্বে ।
জুমার দিন আসরের নামাজের পরে ঐ যায়গায় বসে কোন ব্যক্তি একটি দরুদ শরীফ আশি বার পড়ে আল্লাহ্ তায়ালা তার আশি বছরের গুনাহ মাফ করে দিবেন । দরুদ শরীফটি হচ্ছে "আল্লাহুম্মা সল্লিআলা মুহাম্মদিনিন নাবিয়্যিল উম্মিয়্যি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লিম তাসলিমা" ।
জুমার দিনের আরো অনেক গুরুত্ব এবং ফজিলত রয়েছে, সংক্ষেপে এখানেই শেষ করছি ।
আল্লাহ্ তায়ালা আমাদের সকলকে জুমার দিনের গুরুত্ব বোঝার এবং আমল করার তৌফিক দান করেন, এবং সকল ফজিলত গুলো দান করেন ।আমিন


অভিনন্দন! আপনার পোস্টটি সেরিবাংলাদেশের কমিউনিটি আইডি থেকে ��িউরেশন করা হয়েছে। আপনি সেরি বাংলাদেশ ডিসকর্ড সার্ভারে get_upvote_serey চ্যানেলে আপনার পোস্ট লিঙ্ক জমা দিয়ে প্রতি 24 ঘন্টার মধ্যে একবার আমাদের কমিউনিটি থেকে ভোটের অনুরোধ করতে পারবেন, ধন্যবাদ।
Join sereyBangladesh Discord server:- Join Discord (https://discord.com/invite/kdatp2dX)
Join sereyBangladesh Telegram :- Join Telegram (https://t.me/SereyBangladesh)