করে। এ সময় মাওলানা সিন্ধীও এই ধরপাকড়ের আওতায় পড়বেন এই অনুমান। করে শায়খুল হিন্দ রাহ, সিন্ধীকে এ মর্মে নির্দেশ দিয়ে পাঠান যে, তুমি কাবুলের পথ ধর আর আমি হিজাযের পথে রওয়ানা হয়ে যাচ্ছি। দু'জনেই দু পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে ১৯১৫ সালে দু'দেশের উদ্দেশ্যে রওয়ানা যান।
শায়খুল হিন্দ রাহ. এর উদ্দেশ্য ছিল হিজাযের পথে তুরস্কে পৌঁছা এবং চূ কর্তৃক ভারত আক্রমণের চুক্তিকে চূড়ান্ত করা। আর উবায়দুল্লাহ সিন্ধীকে কাবুলে প্রেরণের উদ্দেশ্য ছিল; কাবুল সরকারকে এ ব্যাপারে সহযোগিতা করার চূড়ান্তভাবে প্রস্তুত করা। তাছাড়া আফগানিস্তানের সীমান্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা শায়খুল হিন্দ রাহ.এর ছাত্র ও ভক্তদেরকে সংগঠিত করে আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত করা। আফগানিরা ছিল স্বাধীনচেতা, যুদ্ধপ্রিয় জাতি। কিন্তু উপজাতীয় অঞ্চলসমূহ ছিল বিচ্ছিন্নতার শিকার। বলিষ্ঠ নেতৃত্বের মাধ্যমে এদেরকে সংগঠিত করতে পারলে ইংরেজ বিতাড়নে একটি বলিষ্ঠ শক্তি হিসাবে তাদেরকে কাছে লাগানোর সম্ভাবনা ছিল প্রচুর। এতদুভয় কর্মসূচী বাস্তবায়নের জন্য শায়খুল হিন্দ রাহ সিন্ধীকেই সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি মনে করেছিলেন।
উস্তাদের নির্দেশানুসারে সিন্ধী রাহ. আব্দুল্লাহ, ফাতেহ্ মুহাম্মদ ও মুহাম্মদ আলী এই তিন ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে বিনা পাসপোর্টে বেলুচিস্তান ও ইয়াগিস্তান হয়ে কাবুলের পথে যাত্রা করেন। ১৯১৫ সালের ১৫ই আগস্ট তিনি আফগান সীমান্তে পৌঁছেন। পরে মাওলানা মনসুর আনসারী উরফে মুহাম্মদ মিয়াকেও কাবুলে প্রেরণ করা হয়। এ সময় স্বাধীনতাকামী বহু ভারতীয় ব্যক্তিকে তিনি কাবুলে অবস্থারনত দেখতে পান। কাবুলে পৌঁছে তিনি আফগান বাদশাহ হাবীবুল্লাহ খান, মুঈনুস সুলতানাত এনায়েত উল্লাহ খান ও নায়েবুস্ সুলতানাত সর্দার নাসরুল্লাহ খানের সাথে দেখা করেন। বাদশাহ সিন্ধীর কথাবার্তা ও বুদ্ধিমত্তায় সন্তুষ্ট হয়ে তাঁকে ভারত স্বাধীনতার পক্ষে
সেখানে কাজ করে যাওয়ার অনুমতি দেন এবং তাঁকে তুর্কী জার্মান মিশনের সাথেও যোগাযোগ করিয়ে দিয়ে একযোগে কাজ করার নির্দেশ প্রদান করেন। তুর্কী-জার্মান মিশনের প্রতিনিধি রাজা মহেন্দ্র প্রতাপ ও বরকতুল্লার সাথে পরিচিত। হওয়ার পরে সিন্ধা কাবুলে একটি 'অস্থায়ী ভারত সরকার' গঠন করার সিদ্ধান্তে উপনীত হন। রাজা মহেন্দ্র প্রতাপকে অস্থায়ী সরকারের প্রেসিডেন্ট, বরকতুল্লাহকে প্রধানমন্ত্রী ও সিন্ধীকে ভারতমন্ত্রী তথা প্রতিরক্ষামন্ত্রী করে অস্থায়ী সরকারের অবকাঠামো ঘোষণা করা হয়। কিন্তু সিন্ধী তাঁর অসাধারণ প্রতিভা ও কর্মদক্ষতার স্বাক্ষর রেখে অচিরেই অস্থায়ী সরকারের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব হিসাবে স্বীকৃতি অর্জন করেন।
এই অস্থায়ী সরকারে কতিপয় তুর্কী ও জার্মানীও ছিল। কিছুকালের মাঝেই জার্মান। সদস্যদের সাথে মিশনের কর্মসূচীর ব্যাপারে ভারতীয়দের মতানৈক্য সৃষ্টি হয়।


