স্বাধীনতা আন্দোলনের জন্য নতুন ক্ষেত্র তৈরির উদ্দেশ্যে রাশিয়ার পথে गा করেন । এ ভাবেই তাদের এ পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়ে যায়। আপত দৃষ্টিতে তাদের আন্দোলনের যবনিকাপাত ঘটলেও মূলতঃ সে আন্দোলনই যুগে যুগে যুগিয়েছে স্বাধীনতার ইচ্ছন।
বিলাফত আন্দোলন ও জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের প্রতিষ্ঠা উল্লেখ্য যে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে তুরস্কের খিলাফতের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করা এবং তুরস্কের পক্ষে যুদ্ধ করার জন্য ভারতবর্ষ থেকে মুজাহিদ প্রেরণ ও বৃটিশ সম্রাজ্যবাদকে উৎখাত করে স্বদেশের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের সুমহান লক্ষ্যকে সামনে রেখে মাও, মুহাম্মদ আলা জওহরের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয় খিলাফত আন্দোলন এবং ভারতীয় মুসলমানদের অধিকারকে নিশ্চিত করা ও বৃটিশ বিতাড়নে উলামায়ে কিরামের তৎপরতাকে বলিষ্ঠ করার মানসে ১৯১৯ সালের ২৮ শে ডিসেম্বর সর্বভারতীয় উলামাদের সমন্বয়ে গঠিত হয় “জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ"। সে সময় আবুল কালাম আযাদসহ বেশ কিছু আলেম কংগ্রেসেই থেকে যান। কিছু কিছু আলেম খিলাফত আন্দোলনে যোগ দেন। তবে ওলামায়ে দেওবন্দের অধিকাংশ লোক জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়েই কাজ করে যান। যেহেতু ইংরেজ বিতাড়নের প্রশ্নে সকল দলের লক্ষ্য উদ্দেশ্য ছিল অভিন্ন। তাই তাদের একদলকে অন্য দলের সাথে সংহতি বজায় রেখে কর্মসূচী গ্রহণ করতে দেখা যায় এবং যৌথ উদ্যোগে বিভিন্ন সভা সমাবেশ করতেও দেখা যায়।
মাল্টা থেকে ফেরার পর শায়খুল হিন্দ রাহ. মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুস্থ অবস্থায় কয়েক মাস কেটে যায়। ১৯২০ সালের ডিসেম্বর মাসের শেষ দিকে চির স্বাধীনতাকামী আপোষহীন সংগ্রামী এই আধ্যাত্মিক সাধক স্বদেশের স্বাধীনতার স্বপ্নে বিভোর থেকে ইন্তিকাল করেন।
শায়খুল ইসলাম হযরত হুসাইন আহমদ মদনী রাহ. সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: শায়খুল ইসলাম হযরত হুসাইন আহমদ মদনী রাহ. ১৮৭৯ ইং মুতাবিক ১২৯৬ হিজরীর ১৯ শে শাওয়াল ভারতের ফয়েজাবাদ জিলার ট্যান্ডায় জন গ্রহণ করেন। তার মাতা-পিতা উভয়েই হযরত হুসাইন রা. এর বংশধর ছিলেন। তার ১৯তম পূর্ব পুরুষেরা দ্বীনের প্রচার কার্যে ভারত বর্ষে আগমন করেছিল। সুলতানী আমল থেকেই তারা অত্র অঞ্চলের জায়গীরদারী ও জমিদারী লাভ করেছিলেন। শিক্ষা-দীক্ষার দিক থেকেও পরিবারটি বিশেষ সুখ্যাতির অধিকারী ছিল। তার পিতা হাবীবুল্লাহ সাহেব ছিলেন স্থানীয় স্কুলের প্রধান শিক্ষক।
প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করার পর ১৪ বৎসর বয়সে তিনি দারুল উলূম দেওবন্দে এসে মীযান জামাতে ভর্তি হন। তখন থেকে শায়খুল হিন্দ রাহ. এর সাথে তাঁর ঘনিষ্ঠতা গড়ে উঠে। ১৩১৫ হিজরীতে দারুল উলূম থেকে শিক্ষা সমস্ত করে নিজ বাড়িতে ফিরে যান।


