স্বাধীনতা ও ধর্মীয় লক্ষ্যগুলো সফলতার দিকে এগিয়ে যেতে হ করেছে। আল-হামদুলিল্লাহ। দেশ ও জাতি অত্যন্ত দ্রুত গতিতে অগ্রসর হচ্ছে। আমরা দুর্বল হলেও আল্লাহর সাহায্যে আমাদের সঙ্গে রয়েছে। আল্ল মেহেরবানীতে আমরা ঐ ইংরেজ বেনিয়া গোষ্ঠীকে বিভিন্ন দিক থেকে আ করে জাহান্নামের অতল গহবরে নিক্ষেপ করে ছাড়ব ইনশা-আল্লাহ।।
মূলতঃ এ সকল বক্তব্য থেকে হযরত মাদানী রাহ. এর রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি সুস্পষ্ট হয়ে উঠে যে, তিনি মুসলিম উম্মার মুক্তির জন্য ইংরেজ বিভাজনের প্রশ্নকেই বড় করে দেখেছেন। তার দৃষ্টিভঙ্গি ছিল- আধুনিক মারণাস্ত্রে সজ্জিত ক্ষমতাসীন শক্তিকে বিতাড়িত করা কোন এক বিশেষ সম্প্রদায়ের দ্বারা সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন সর্বভারতীয় ঐক্য। তাই এ প্রশ্নে জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সকল ভারতীয়কে ঐকব্যবদ্ধ হয়ে একজাতির ন্যায় একই প্লাটফর্মে সমবেত হয়ে জোর তৎপরতা চালাতে হবে। ইংরেজ বিতাড়নের প্রশ্নে তিনি ছিলেন আপোষহীন, শর্তহীন। যদিও তখন অনেকেই ইংরেজদের শাসনকে আপাদত মেনে নিয়ে আপোষ রফার মাধ্যমে ভারতীদের অধিকার আদায়ের চেষ্টা তদবীরে লিপ্ত সেদিন। এ সে ছিলেন। কিন্তু হযরত শায়খুল হিন্দ ও তার শিষ্য বুজুর্গানে দ্বীন অন্তরদৃষ্টি দ্বারা যেন স্পষ্টতই দেখতে পেয়েছিলেন যে, এসব প্রচেষ্টা অর্থহীন। এ পন্থায় ইংরেজদের শোষণ থেকে, তাদের সামগ্রিক আগ্রাসন থেকে মুক্তি লাভ কিছুতেই সম্ভব হবে না। বরং ওরা ভারতের শাসন ক্ষমতায় আধিষ্ঠিত থেকে গোটা মুসলিম বিশ্বের উপর আধিপত্য বিস্তার করে আছে, চালিয়ে যাচ্ছে শোষণ ও নির্যাতন। সুতরাং তাদেরকে ভারতের মাটি থেকে বিতাড়িত করার কোন দুসরা বিকল্প নেই। এ কারণে প্রথম দিন থেকেই জমিয়তে ওলামার দাবী ছিল, বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদকে এদেশের মাটি থেকে উৎখাত করা, স্বায়ত্ত্ব শাসন নয়, নিঃশর্ত স্বাধীনতা। এ প্রশ্নে যে কোন ত্যাগ ও কোরবানীর জন্য তারা প্রস্তুত ছিলেন। আর একারণেই তাঁরা বিভিন্ন সভা = সর্বভারতীয় ঐক্যের প্রয়োজন অনুভব করে ছিলেন তীব্রভাবে।
১৯২৩ সালে জেল থেকে ছাড়া পেয়ে হযরত মদনী দেওবন্দে চলে আসেন। এ সময় সারা দেশে তাকে সংবর্ধনা দেওয়ার বিপুল আয়োজন শুরু হয়। সংবর্ধনা ১৯২৭ ইং স অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণের জন্য লোকেরা পীড়াপীড়ি শুরু করলে তিনি রাগ হয়ে হাবীবুর রহমা বলেন, কিসের সম্মেলন কিসের সংবর্ধনা! আমরা কি বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদকে পরাজিত করতে পেরেছি? তিনি কোন সম্মেলনেই যোগদান করেননি।
কুকানাডায় জমিয়তের বার্ষিক সম্মেলন ঃ
তাঁর মুক্তির কিছু দিন পর ১৯২৩ সালে ডিসেম্বর মাসে কুকানাডায় বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সম্মেলনেও তিনি সভাপতি ছিলেন। জমিয়তের
এ সময় সারাদেশের রাজনৈতিক অবস্থা অনেকটা ঘোলাটে রূপ ধারণ করেছিল। খিলাফত আন্দোলন ঝিমিয়ে পড়েছিল। কেননা যে চেতনার ভিত্তিতে তুর্কী খিলাফতকে সহযোগিতা করার জন্য মুসলিম বিশ্বে জাগরণের জোয়ার সৃি আমার অসম্ম
হয়। কেননা


