ঈদের আগ মুহূর্ত

mahmud50

 

 

ঈদ 

ভুমিকা:

মুসলিমের জীবন ও চিন্তা, আনন্দ ও বেদনা হয় আখেরাতকেন্দ্রিক,

আর কাফেরের সবকিছু দুনিয়াকেন্দ্রিক। আল্লাহ তাআলা বলেন-

 

وَ فَرِحُوْا بِالْحَیٰوةِ الدُّنْیَا وَ مَا الْحَیٰوةُ الدُّنْیَا فِی الْاٰخِرَةِ اِلَّا مَتَاعٌ.

 

তারা (অর্থাৎ কাফেরগণ) পার্থিব জীবনেই উল্লসিত, অথচ আখেরাতের তুলনায় পার্থিব জীবন তো মামুলি ভোগমাত্র। -সূরা রা‘দ (১৩) : ২৬

 

এক, 

ঈদের হাকিকত, 

 عَنْ أَنَسٍ، قَالَ قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَةَ وَلَهُمْ يَوْمَانِ يَلْعَبُونَ فِيهِمَا فَقَالَ ‏"‏ مَا هَذَانِ الْيَوْمَانِ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا كُنَّا نَلْعَبُ فِيهِمَا فِي الْجَاهِلِيَّةِ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ إِنَّ اللَّهَ قَدْ أَبْدَلَكُمْ بِهِمَا خَيْرًا مِنْهُمَا يَوْمَ الأَضْحَى وَيَوْمَ الْفِطْرِ ‏"‏ ‏.‏

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাদীনাতে এসে দেখেন মাদীনাহ্বাসীরা নির্দিষ্ট দু’টি দিনে খেলাধূলা ও আনন্দ করে থাকে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেনঃ এ দু’টি দিন কিসের? সকলেই বললো, জাহিলী যুগে আমরা এ দু’ দিন খেলাধূলা করতাম। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, মহান আল্লাহ তোমাদের এ দু’ দিনের পরিবর্তে উত্তম দু’টি দিন দান করেছেন। তা হলো, ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিত্বরের দিন।

সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ১১৩৪

 

হাদীসটি থেকে স্পষ্ট যে, অমুসলিমদের কৃষ্টি কালচার বর্জন করার জন্যই আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে দুটি ঈদ দান করেছেন। সুতরাং আমরা আমাদের ঈদ উদযাপন করব, অমুসলিমদের ঈদ(কৃষ্টিকালচার )থেকে বিরত থাকব। 

 

দুই, 

মুসলমানদের ঈদ হলো সালাত ও সদকা, 

হাসান বসরী রাহ.-এর বক্তব্য অনুযায়ী আমাদের ঈদ তো হল-

                                         أ ما يوم الفطر فصلاة وصدقة،

                                      وأما يوم الأضحى فصلاة ونسك

ঈদুল ফিতর হল, ঈদের নামায পড়া ও সদাকাতুল ফিতর আদায় করা এবং ঈদুল আযহা হচ্ছে ঈদের নামায পড়া ও কুরবানী করা। -ফাযাইলুল আওকাত, বায়হাকী, পৃ. ৩০৩-৩০৪ (১৪৪); শুআবুল ঈমান, বায়হাকী ৫/৩৮৬ (৩৪৩৭)

 

তিন, 

ঈদের দিনের অঙ্গীকার

 

অঙ্গীকারনামা-১

পারস্পরিক দয়া, ভালবাসা ও সহানুভূতি প্রদর্শনে মুমিনগণ এক দেহের ন্যায় থাকার অঙ্গীকার। 

 عَنْ عَامِرٍ، قَالَ سَمِعْتُهُ يَقُولُ سَمِعْتُ النُّعْمَانَ بْنَ بَشِيرٍ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ تَرَى الْمُؤْمِنِينَ فِي تَرَاحُمِهِمْ وَتَوَادِّهِمْ وَتَعَاطُفِهِمْ كَمَثَلِ الْجَسَدِ إِذَا اشْتَكَى عُضْوًا تَدَاعَى لَهُ سَائِرُ جَسَدِهِ بِالسَّهَرِ وَالْحُمَّى

 

নু'মান ইবনু বাশীর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:

বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ পারস্পরিক দয়া, ভালবাসা ও সহানুভূতি প্রদর্শনে তুমি মু'মিনদের একটি দেহের মত দেখবে। যখন শরীরের একটি অঙ্গ রোগে আক্রান্ত হয়, তখন শরীরের সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ রাত জাগে এবং জ্বরে অংশ নেয়।

সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৬০১১

 

অঙ্গীকারনামা-২

ইসলামী ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখার অঙ্গীকার। 

 

                   উদাহরণ- ১

                   আল্লাহ বলেন

                                         اِنَّمَا الۡمُؤۡمِنُوۡنَ اِخۡوَۃٌ 

নিশ্চয় মুমিনরা পরস্পর ভাই ভাই।

হুজুরত আয়াত-১০

 

                    উদাহরণ- ২

সাহাবাদের কে ভাই বলে তাদের জন্য দুআ করার কথা আল্লাহ শিখিয়ে দিয়েছেন, 

وَ الَّذِیۡنَ جَآءُوۡ مِنۡۢ بَعۡدِہِمۡ یَقُوۡلُوۡنَ رَبَّنَا اغۡفِرۡ لَنَا وَ لِاِخۡوَانِنَا الَّذِیۡنَ سَبَقُوۡنَا بِالۡاِیۡمَانِ وَ لَا تَجۡعَلۡ فِیۡ قُلُوۡبِنَا غِلًّا لِّلَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا رَبَّنَاۤ اِنَّکَ رَءُوۡفٌ رَّحِیۡمٌ 

যারা তাদের পরে এসেছে তারা বলে: ‘হে আমাদের রব, আমাদেরকে ও আমাদের ভাই যারা ঈমান নিয়ে আমাদের পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে তাদেরকে ক্ষমা করুন; এবং যারা ঈমান এনেছিল তাদের জন্য আমাদের অন্তরে কোন বিদ্বেষ রাখবেন না; হে আমাদের রব, নিশ্চয় আপনি দয়াবান, পরম দয়ালু।

হাশর-১০

 

                    উদাহরণ-৩

বিদায় হজ্জ্বে নবিজীর ঐতিহাসিক ভাষন, 

                                                                 يا أيها الناس

হে লোকসকল! 

                                                                 اسمعوا قولي

তোমরা আমার কথা শোন, 

                                                                      واعقلوه

এবং বুঝো

                                           تعلمن أن كل مسلم أخ للمسلم

জেনে রাখো! প্রত্যেক মুসলিম প্রত্যেক মুসলমানের ভাই, 

                                                        وأن المسلمين إخوةٌ،

আর মুসলিমগন ভাই (তাদের সম্পর্কটা ভ্রাতৃত্বের) 

    فلا يحل لامرئ من أخيه إلا ما أعطاه عن طيب نفس منه، 

সুতরাং কোন মানুষের জন্য তার ভাইয়ের সম্পদ বৈধ নয় যতক্ষণ না সে সন্তুষ্টচিত্তে না দেয়, 

                                                           فلا تظلمن أنفسكم

তোমরা নিজেদের উপর জুলুম করোনা। 

(কারণ তোমরা তো ভাই) 

ইবনে হিসাম ২/৬০৩

 

                     উদাহরণ-৪

আনসার ও মুহাজিরদের মাঝে নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক করে দিতেন। 

 عَنْ أَنَسٍ قَالَ قَدِمَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ الْمَدِيْنَةَ فَآخَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بَيْنَهُ وَبَيْنَ سَعْدِ بْنِ الرَّبِيْعِ الأَنْصَارِيِّ

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:

তিনি বলেন, আবদুর রহমান ইব্‌নু ‘আউফ (রাঃ) যখন মদীনায় আসলেন, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর ও সা’দ ইব্‌নু রাবী’ আনসারী (রাঃ) - এর মধ্যে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন জুড়ে দিলেন।

                                    فَعَرَضَ عَلَيْهِ أَنْ يُنَاصِفَهُ أَهْلَهُ وَمَالَهُ

 সা’দ (রাঃ) তার সম্পদ ভাগ করে অর্ধেক সম্পদ এবং দু’জন স্ত্রীর যে কোন একজন নিয়ে যাওয়ার জন্য ‘আবদুর রহমানকে অনুরোধ করলেন।

                   فَقَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بَارَكَ اللهُ لَكَ فِيْ أَهْلِكَ وَمَالِكَ

তিনি উত্তরে বললেন, আল্লাহ্‌ আপনার পরিবারবর্গ ও ধন-সম্পদে বরকত দান করুন।

                                                            دُلَّنِيْ عَلَى السُّوقِ

আমাকে এখানকার বাজারের রাস্তাটি দেখিয়ে দিন।

                                               فَرَبِحَ شَيْئًا مِنْ أَقِطٍ وَسَمْنٍ 

তিনি মুনাফা হিসেবে কিছু ঘি ও পনির লাভ করলেন।

فَرَآهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بَعْدَ أَيَّامٍ وَعَلَيْهِ وَضَرٌ مِنْ صُفْرَةٍ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مَهْيَمْ يَا عَبْدَ الرَّحْمَنِ قَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ تَزَوَّجْتُ امْرَأَةً مِنْ الأَنْصَارِ قَالَ فَمَا سُقْتَ فِيْهَا فَقَالَ وَزْنَ نَوَاةٍ مِنْ ذَهَبٍ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَوْلِمْ وَلَوْ بِشَاةٍ

  কিছুদিন পরে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর সঙ্গে তার দেখা হল। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তখন তার গায়ে ও কাপড়ে হলুদ রং-এর চিহ্ন দেখতে পেয়ে বললেন, হে আবদুর রাহমান, ব্যাপার কি! তিনি বললেন, আমি একজন আনসারী মহিলাকে বিয়ে করেছি। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন, তাকে কি পরিমাণ মোহর দিয়েছ? তিনি বললেন, তাকে খেজুর বিচির পরিমাণ সোনা দিয়েছি। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, একটি বকরি দিয়ে হলেও ওয়ালীমাহ করে নাও। 

সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৩৯৩৭

                                                   كِتَابٌ : مَنَاقِبُ الْأَنْصَارِ.

                                    بَابٌ : كَيْفَ آخَى النَّبِيُّ بَيْنَ أَصْحَابِهِ

 

                       উদাহরণ-৫

নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্পেশালি আমাদের কে ভাই বলেছেন, 

                                                               عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ

আবূ হুরাইরাহ্(রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:

          أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَتَى الْمَقْبُرَةَ فَقَالَ

একবার রসূলুল্লাহ্‌(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি কবরস্থানে এসে বললেন,

                                         السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ دَارَ قَوْمٍ مُؤْمِنِينَ

তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। হে কবরবাসী মু’মিনগণ!

                                            وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ بِكُمْ لاَحِقُونَ

ইন্‌শাআল্লাহ আমরাও তোমাদের সাথে এসে মিলব।

                                                وَدِدْتُ أَنَّا قَدْ رَأَيْنَا إِخْوَانَنَا ‏

আমার বড় ইচ্ছা হয় যে আমাদের ভাইদেরকে দেখি।

                                     قَالُوا أَوَلَسْنَا إِخْوَانَكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ 

সহাবায়ে কিরাম আরয করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! আমরা কি আপনার ভাই নই?

                   قَالَ ‏"‏ أَنْتُمْ أَصْحَابِي وَإِخْوَانُنَا الَّذِينَ لَمْ يَأْتُوا بَعْدُ ‏

তিনি বললেন, তোমরা তো আমার সহাবা। আর যারা এখনো (পৃথিবীতে) আসেনি তারা আমাদের ভাই।

     ‏.‏ فَقَالُوا كَيْفَ تَعْرِفُ مَنْ لَمْ يَأْتِ بَعْدُ مِنْ أُمَّتِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ

সহাবায়ে কিরাম আরয করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! আপনার উম্মাতের মধ্যে যারা এখনো (পৃথিবীতে) আসেনি তাদেরকে আপনি কিভাবে চিনবেন?

 فَقَالَ ‏"‏ أَرَأَيْتَ لَوْ أَنَّ رَجُلاً لَهُ خَيْلٌ غُرٌّ مُحَجَّلَةٌ بَيْنَ ظَهْرَىْ خَيْلٍ دُهْمٍ بُهْمٍ أَلاَ يَعْرِفُ خَيْلَهُ ‏

তিনি বললেন, “কেন, যদি কোন ব্যক্তি সাদা রঙের কপাল ও সাদা রঙের হাত-পা বিশিষ্ট ঘোড়া অনেকগুলো কালো ঘোড়ার মধ্যে মিশে যায় তবে সে ক��� তার ঘোড়াকে চিনে নিতে পারবে না?

                                                    قَالُوا بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ ‏

তাঁরা বললেন, হ্যাঁ, ইয়া রসূলাল্লাহ!

                        قَالَ ‏"‏ فَإِنَّهُمْ يَأْتُونَ غُرًّا مُحَجَّلِينَ مِنَ الْوُضُوءِ

তিনি বললেন, তাঁরা (আমার উম্মাত) সেদিন এমন অবস্থা আসবে যে, ওযূর ফলে তাদের মুখমন্ডল, হাত-পা জ্যোতির্ময় হবে।

                                                وَأَنَا فَرَطُهُمْ عَلَى الْحَوْضِ 

আর হাওযের পাড়ে আমি হব তাদের অগ্রনায়ক।

               أَلاَ لَيُذَادَنَّ رِجَالٌ عَنْ حَوْضِي كَمَا يُذَادُ الْبَعِيرُ الضَّالُّ

জেনে রাখ, কিছু সংখ্যক লোককে সেদিন আমার হাওয থেকে তাড়িয়ে দেয়া হবে যেমনিভাবে বেওয়ারিশ উটকে তাড়িয়ে দেয়া হবে।

 أُنَادِيهِمْ أَلاَ هَلُمَّ ‏.‏ فَيُقَالُ إِنَّهُمْ قَدْ بَدَّلُوا بَعْدَكَ ‏.‏ فَأَقُولُ سُحْقًا سُحْقًا ‏

 আমি তাদেরকে ডাকব, এসো এসো। তখন বলা হবে, “এরা আপনার পরে (আপনার দীনকে) পরিবর্তন করে দিয়েছিল”। 

সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৪৭২

                                                             كِتَابٌ : الطَّهَارَةُ

               بَابٌ : اسْتِحْبَابُ إِطَالَةِ الْغُرَّةِ وَالتَّحْجِيلِ فِي الْوُضُوءِ

 

                          উদাহরণ-৬

খাদেম, দাস-দাসীগনকেও নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভাই বলেছেন, আহ!কি মুহাব্বতের আওয়াজ! (প্রতিটাবাসায়,দোকানে,রেস্তোরায় স্বর্ণাক্ষরে লিখে রাখা আবশ্যক) 

 عَنِ الْمَعْرُورِ، قَالَ لَقِيتُ أَبَا ذَرٍّ بِالرَّبَذَةِ، وَعَلَيْهِ حُلَّةٌ، وَعَلَى غُلاَمِهِ حُلَّةٌ، فَسَأَلْتُهُ عَنْ ذَلِكَ، فَقَالَ إِنِّي سَابَبْتُ رَجُلاً، فَعَيَّرْتُهُ بِأُمِّهِ، فَقَالَ لِيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ يَا أَبَا ذَرٍّ أَعَيَّرْتَهُ بِأُمِّهِ إِنَّكَ امْرُؤٌ فِيكَ جَاهِلِيَّةٌ، إِخْوَانُكُمْ خَوَلُكُمْ، جَعَلَهُمُ اللَّهُ تَحْتَ أَيْدِيكُمْ، فَمَنْ كَانَ أَخُوهُ تَحْتَ يَدِهِ فَلْيُطْعِمْهُ مِمَّا يَأْكُلُ، وَلْيُلْبِسْهُ مِمَّا يَلْبَسُ، وَلاَ تُكَلِّفُوهُمْ مَا يَغْلِبُهُمْ، فَإِنْ كَلَّفْتُمُوهُمْ فَأَعِينُوهُمْ

 

মা‘রূর (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ:

তিনি বলেনঃ আমি একবার রাবাযা নামক স্থানে আবূ যর (রাঃ)-এর সঙ্গে দেখা করলাম। তখন তাঁর পরনে ছিল এক জোড়া কাপড় (লুঙ্গি ও চাদর) আর তাঁর ভৃত্যের পরনেও ছিল ঠিক একই ধরনের এক জোড়া কাপড়। আমি তাঁকে এর কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেনঃ একবার আমি জনৈক ব্যক্তিকে গালি দিয়েছিলাম এবং আমি তাকে তার মা সম্পর্কে লজ্জা দিয়েছিলাম। তখন আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেন, আবূ যার! তুমি তাকে তার মা সম্পর্কে লজ্জা দিয়েছ? তুমি তো এমন ব্যক্তি, তোমার মধ্যে এখনো অন্ধকার যুগের স্বভাব বিদ্যমান। জেনে রেখো, তোমাদের দাস-দাসী তোমাদেরই ভাই। আল্লাহ তা‘আলা তাদের তোমাদের অধীনস্থ করে দিয়েছেন। তাই যার ভাই তার অধীনে থাকবে, সে যেন নিজে যা খায় তাকে তা-ই খাওয়ায় এবং নিজে যা পরিধান করে, তাকেও তা-ই পরায়। তাদের উপর এমন কাজ চাপিয়ে দিও না, যা তাদের জন্য অধিক কষ্টদায়ক। যদি এমন কষ্টকর কাজ করতে দাও, তাহলে তোমরাও তাদের সে কাজে সহযোগিতা করবে।

সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৩০

                                                          كِتَابٌ : الْإِيمَانُ 

                                        بَابٌ : الْمَعَاصِي مِنْ أَمْرِ الْجَاهِلِيَّةِ

 

                           উদাহরণ-৭

কঠিন মুহুর্তে নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবাদের কে ভাই বলে সম্বোধন করেছেন। 

 عَنِ الْبَرَاءِ، قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فِي جِنَازَةٍ فَجَلَسَ عَلَى شَفِيرِ الْقَبْرِ فَبَكَى حَتَّى بَلَّ الثَّرَى

ثُمَّ قَالَ ‏ "‏ يَا إِخْوَانِي لِمِثْلِ هَذَا فَأَعِدُّوا ‏.‏

বারা’ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:

আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সাথে এক জানাযায় উপস্থিত ছিলাম। তিনি কবরের কিনারে বসে কাঁদলেন, এমনকি তাঁর চোখের পানিতে মাটি ভিজে গেলো। অতঃপর তিনি বলেনঃ “হে ভাইসব! তোমাদের অবস্থাও তার মতই হবে, সুতরাং তোমরা প্রস্তুতি গ্রহণ করো”।

সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৪১৯৫

                                                              كِتَابُ الزُّهْدِ  

                                                         بَابٌ : الْحُزْنُ وَالْبُكَاءُ

 

অঙ্গীকারনামা-৩

হিংসা বিদ্বেষ ভুলে ভাই ভাই হয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার। 

 

নবিজী আমাদের কে ভাই ভাই হয়ে থাকতে বলেছেন, 

 عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم

    ‏ 

                               لاَ تَحَاسَدُوا 

                               وَلاَ تَنَاجَشُوا

                               وَلاَ تَبَاغَضُوا

                               وَلاَ تَدَابَرُوا

                               وَلاَ يَبِعْ بَعْضُكُمْ عَلَى بَيْعِ بَعْضٍ

                              وَكُونُوا عِبَادَ اللَّهِ إِخْوَانًا

                             ‏ الْمُسْلِمُ أَخُو الْمُسْلِمِ

                              لاَ يَظْلِمُهُ

                             وَلاَ يَخْذُلُهُ

                             وَلاَ يَحْقِرُهُ

 ‏.‏ التَّقْوَى هَا هُنَا ‏"‏ ‏.‏ وَيُشِيرُ إِلَى صَدْرِهِ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ ‏"‏ بِحَسْبِ امْرِئٍ مِنَ الشَّرِّ أَنْ يَحْقِرَ أَخَاهُ الْمُسْلِمَ كُلُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ حَرَامٌ دَمُهُ وَمَالُهُ وَعِرْضُهُ ‏"‏ ‏.‏

আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ 

তোমরা পরস্পর হিংসা করো না, 

পরস্পর ধোঁকাবাজি করো না, 

পরস্পর বিদ্বেষ পোষণ করো না, 

একে অপরের ক্ষতি করার উদ্দেশে আগোচরে শত্রুতা করো না 

এবং একে অন্যের ক্রয়-বিক্রয়ের উপর ক্রয়-বিক্রয়ের চেষ্টা করবে না। 

তোমরা আল্লাহর বান্দা হিসেবে ভাই ভাই হয়ে থাকো। 

এক মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই। 

সে তার উপর অত্যাচার করবে না, 

তাকে অপদস্ত করবে না 

এবং হেয় প্রতিপন্ন করবে না। তাক্‌ওয়া এখানে, এ কথা বলে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তিনবার তাঁর বক্ষের প্রতি ইঙ্গিত করলেন। একজন মানুষের মন্দ হওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, সে তার ভাইকে হেয় জ্ঞান করে। কোন মুসলিমের উপর প্রত্যেক মুসলিমের জান-মাল ও ইয্‌যত-আবরু হারাম।

সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৬৪৩৫

                                              كِتَابٌ : الْبِرُّ وَالصِّلَةُ وَالْآدَابُ

                                                بَابٌ : تَحْرِيمُ ظُلْمِ الْمُسْلِمِ

 

অঙ্গীকারনামা-৪

গুনাহ মুক্ত জীবনের অঙ্গীকার। 

 قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُوْلُ وَاللهِ إِنِّي لأَسْتَغْفِرُ اللهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ فِي الْيَوْمِ أَكْثَرَ مِنْ سَبْعِينَ مَرَّةً.

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:

আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -কে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ্‌র শপথ! আমি প্রতিদিন আল্লাহ্‌র কাছে সত্তরবারেরও অধিক ইস্তিগফার ও তাওবাহ করে থাকি।

সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৬৩০৭

 

চার, 

ঈদের দিনের তামান্না

মৃত্যু পর্যন্ত ঈমানের উপর অবিচল থাকার তামান্না। 

 حَدَّثَنِي النَّوَّاسُ بْنُ سَمْعَانَ الْكِلاَبِيُّ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏"‏ مَا مِنْ قَلْبٍ إِلاَّ بَيْنَ إِصْبَعَيْنِ مِنْ أَصَابِعِ الرَّحْمَنِ إِنْ شَاءَ أَقَامَهُ وَإِنْ شَاءَ أَزَاغَهُ ‏"‏ ‏.‏ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ

 ‏"‏ يَا مُثَبِّتَ الْقُلُوبِ ثَبِّتْ قُلُوبَنَا عَلَى دِينِكَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ وَالْمِيزَانُ بِيَدِ الرَّحْمَنِ يَرْفَعُ أَقْوَامًا وَيَخْفِضُ آخَرِينَ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ ‏

আন-নাওওয়াস বিন সামআন আল-কিলাবী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:

আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছিঃ প্রতিটি অন্তঃকরণ দয়াময় আল্লাহ্‌র দু' আঙ্গুলের মাঝখানে অবস্থিত। তিনি চাইলে তা সোজা পথে প্রতিষ্ঠিত রাখেন এবং তিনি চাইলে তা বক্র পথে চালিত করেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতেনঃ ''হে অন্তরসমূহের স্থিরতাদানকারী! আমাদের অন্তরসমূহকে আপনার দ্বীনের উপর স্থির রাখুন।'' তিনি আরো বলেন, তুলাদন্ডও দয়াময় আল্লাহ্‌র হাতে। তিনি কিয়ামত পর্যন্ত কোন সম্প্রদায়কে উন্নত করবেন এবং কোন সম্প্রদায়কে অবনত করবেন। 

সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ১৯৯

 

সর্বশেষ কথা

সদকাতুল ফিতর, যাকাতসহ সাধারণ দান, হাদিয়া ও উপহারের চর্চা দরিদ্র মুসলমানদের প্রতি ব্যাপক হলে ঈদের দিনের আনন্দের চিত্রটি অনেক বেশি সুন্দর হবে, সুখের হবে, ছওয়াবেরও হবে ইন শা আল্লাহ।

দ্বীনি ভ্রাতৃত্ব বেড়ে গেলে হিংসা বিদ্বেষ কমে যাবে ইন শা আল্লাহ

Comments