""""এরপর এশার নামাজ আদায় করে, তারা দুই ভাই রিফাত এবং মজনু, তার মার জন্য ঔষধ নিয়ে বাসার দিকে রওনা করে, বাসায় আসার পর, রিফাত তার মায়ের রুমে যায়, রিফাত তার মায়ের রুমে যাওয়ার পর, তার মাকে গিয়ে বলে, মা এই যে তোমার জন্য ঔষধ নিয়ে এসেছি,"""
""""তুমি কিন্তু নিয়ম মত ওষুধ গুলা খাবে, আর ওষুধ ফুরিয়ে গেলে আবার আমাকে জানিয়ে দিও, অথবা মীমকে বলে দিও বলে দিও, আর খাওয়া-দাওয়া ঠিকমতো করবে। কখনো আমার জন্য বা ভাইয়ার জন্য কোন টেনশন করবে না। এই কথাগুলো বলে, রিফাত তার মাকে জিজ্ঞেস করে,""""
"""আচ্ছা মা তুমি কি আমার উপর রাগ করেছো?
রিফাতের মা তার প্রত্যুত্তরে বলে, কেন রে আমি কেন তোর ওপর রাগ করবো? রিফাত বলল, আমি যে আজ তোমাকে না বলে না জিজ্ঞেস করে, অচেনা অজানা এক ছেলেকে বাড়িতে নিয়ে আসলাম। এতে তুমি কিছু মনে করোনি তো মা।
রিফাতের একথা শুনে তার মা মুচকি হাসি দিয়ে বলে। আরে বাবা তুমি তো একটি মহৎ কাজ করেছিস। তোর এই কাজে আমি অনেক খুশি হয়েছি"""
""""রিফাত তার মার কাছ থেকে এই কথাগুলো শোনার পর। রিফাত তার মাকে বলল, জানো মা আমি মজনুকে বাড়িতে নিয়ে আসতাম না? আমি যখন মাদ্রাসা থেকে বাড়ি ফিরছিলাম. তখন দেখি মজনু রাস্তায় কান্না করছে, তখন আমি ছেলেটি নিকট গেলাম, আর ছেলেটিকে জিজ্ঞেস করলাম,"""""
"""যে ভাইয়া তোমার কি হয়েছে তুমি কেন কান্না করছো? তখন ছেলেটি আমাকে বলল, এই দুনিয়াতে আমার কেউ নেই। আজ তিনদিন যাবত আমি কোন খাবার খাই না। খাবার খাবেন বা কোথা থেকে, তাকে তো কেউ খাবারও দেয় না। তাই আমার ছেলেটিকে দেখে অনেক মায়া হল. তখন আমি ছেলেটিকে কে বললাম।""""
"""ভাইয়া তুমি কি আমার সাথে আমার বাড়িতে যাবে, সেখানে থাকবে খাবে এবং আমার পরিবারের সাথে একসাথে থাকবে, সেখানে গেলে তোমার কোন সমস্যা হবে না। তখন ছেলেটি আমাকে কি বলেছিল জানো মা!!
ছেলেটি আমাকে বলেছিল, ভাইয়া আপনি আমাকে আপনার বাড়িতে কেন নিয়ে যাবেন? আমি তো একজন রাস্তার ছেলে, আমাকে আপনি আপনার বাসায় নিয়ে কী করবেন।""""
""'তখন আমি ছেলেটিকে বললাম, শোনো আমার মা অনেক ভালো মানুষ, তোমাকে অনেক আদর যত্ন করবে, তুমি আমার সঙ্গে থাকবে আমার ছোটভাই হিসাবে, আমাদের বাসায় গেলে সবাই তোমাকে আদর করবে, এই কথাগুলো বলা মাত্রই ছেলেটি তার চোখ দিয়ে পানি ফেলতে লাগলো!!
আমি ছেলেটির চোখের পানি দেখে ছেলেটিকে জিজ্ঞেস করলাম, কি ছোট ভাইয়া তুমি কেন কান্না করছো?"""
"''"""তখন ছেলেটি আমাকে বলল, ভাইয়া আজ আপনি আমাকে যেভাবে আপনার বাসায় নিয়ে যেতে চাচ্ছেন, সত্যি বলতে আমি ছোট থেকে আজ পর্যন্ত কারো কাছে এই কথাটা শুনতে পারিনি। আদর করা তো দূরের কথা। জীবনে তো কারো থেকে কখনো কোন আদর জিনিসটা কি এটাই কারো থেকে পায়নি। যখন ছেলেটি আমাকে এই কথাগুলো বলল, তখন ছেলেটির কথা শুনে, তুমি বিশ্বাস করো মা। আমার চোখের পানি চলে আসলো।"""
"""তখন আমি ছেলেটিকে বাড়িতে নিয়ে আসলাম। আর নিয়ে আসার আগে আমি বলে নিয়ে এসেছিলাম। এই কথা আমি মজনুকে বলেছি, যে মজনু আমার মা কিন্তু অনেক ভালো মানুষ। সে তোমাকে অনেক আদর করবে। ঠিক তুমি দেখবে নিজের সন্তানের মত আদর করবে তোমাকে। তাই আমি মজনুকে নিয়ে এসেছি, তুমি তো আমার উপর রাগ করো নি মা, আমি ভয়ে ভয়ে আছি যে তুমি কি আমার উপর রাগ করেছ কিনা?"""
""""এই কথাগুলো বলে, রিফাত তার মাথাটা উঁচু করে, তার মায়ের দিকে তাকিয়ে দেখে, তার মা চোখ দুটো পানিতে ভিজে গেছে, তখন তার মা রিফাতকে বলে, বাবা শোন আমি আসলে জানতাম না, যে ছেলেটা এত কষ্টর মধ্যে রয়েছে। তাই তুই তাকে নিয়ে এসেছিস। আমি ভেবেছিলাম কোত্থেকে না কোত্থেকে কাকে না কাকে নিয়ে এসেছিস। তাই তোকে ওই কথা বলেছিলাম।"""
""আর শোন আমি তোর উপর রাগ করিনি, বরং আমি তোর উপর আরো খুশি হয়েছি, তুই আমার ছেলে হয়ে আরেকটি ছেলের প্রতি দয়া দেখেছিস। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তোর ভালো করুক।
এই কথাগুলো বলার পর। রিফাতের মা রিফাত কে বলল, কিরে রিফাত খাবার খাবিনা? রাত তো অনেক হয়ে যাচ্ছে? ছেলেটিকে নিয়ে এসেছিস. যা খাবার খেয়ে শুয়ে পর. বাহিরে গিয়েছিলি শরীরটা হয়তো অনেক ক্লান্ত হয়েছে,তাড়াতাড়ি শুয়ে পর ফজরের নামাজ আদায় করতে হবে।"""
""""এই কথা বলার পর, রিফাত তার মাকে বলল, হ্যাঁ মা এখনই খাবার খেয়ে শুয়ে পড়বো।একথা বলে রিফাত আমার রুম থেকে বের হয়ে আসে। আসার পর মীমকে ডাকে, ডেকে বলে মিম খাবার রেডি কর, আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি, তখন রিফাত ফ্রেশ হওয়ার আগে। একবার মজনুর রুমে গেল, গিয়ে দেখে মজনু কোরআন শরীফ তেলাওয়াত করছে, এরপর রিফাত মজনু কে বলল, মজনু খাবার খেয়ে যাও, বাহিরে ডাইনিং রুমে আসো, আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি।""""
"""""""এর একটু পরেই, তারা দুই ভাই একসাথে ড্রইংরুমে যায়, এবং খাবার খেয়ে। তারা নিজ নিজ রুমে গিয়ে, ঘুমের জন্য প্রস্তুতি নেয়, এবং রিফাত, রিফাত এর রুমে গিয়ে, নফল নামাজ আদায় করে, বিছানায় শুয়ে যায়। মজনু তার রুমে গিয়ে, সাথে সাথে ঘুমিয়ে পড়েন কারণ তার শরীরটা অনেক ক্লান্ত""""""
সময়টা সাথী ও বন্ধুগণ!! এই গল্পের বাকি অংশ পরবর্তী পর্বে বলা হবে ইনশাআল্লাহ. সকলে ভাল থাকুন সুস্থ থাকুন। আসসালামু আলাইকুম।


