মুসলিম লীগের সম্মেলনে মুসলমানদের জন্য আলাদা আবাস ভূমির প্রস্ত তাব গৃহীত হয়। অবশ্য 'মিনহাজ আলান নবুওয়্যা'-এর আঙ্গিকে একটি ইসলামী রাষ্ট্র গড়ে তোলা ছিল উলামায়ে কিরামের বহুদিনের লালিত স্বপ্ন । মাও. আবদুল মজীদ দরিয়াবাদী উল্লেখ করেছেন যে, ১৯২৮ সালের জুন মাসে আমি হযরত থানভী রাহ.-এর খিদমতে হাজির হলে তিনি ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে বললেন যে, নির্ভেজাল ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠা ছাড়া এদেশে ইসলামের প্রাধান্য বিস্তার করা সম্ভব হবে না। এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য মুসলমানদের একটি পৃথক আবাসভূমি ও একজন আমীরুল মু'মিনীনের প্রয়োজন। আমি সে লক্ষ্যে জনসমাবেশগুলোতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। আপনার সামনেও বিষয়টি পেশ করলাম ।
এ থেকে বুঝা যায় যে, হযরত থানভী রাহ, প্রকৃত অর্থে পাকিস্তানের একজন স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন। ১৯৩০ সালের সেপ্টেম্বরে চৌধুরী রহমত আলীও মুসলমানদের জন্য স্বতন্ত্র আবাসভূমির দাবী জানান। ১৯৩০ সালের ২৯ শে ডিসেম্বরে এলাহাবাদে অনুষ্ঠিত অল-ইন্ডিয়া মুসলিম লীগের এক জনসভায় সভাপতির ভাষণে ডা. ইকবালও মুসলমানদের জন্য পৃথক আবাসভূমির দাবী জানিয়ে ছিলেন। এই দাবীগুলোই ক্রমান্বয়ে ঘনীভূত হয়ে ১৯৪০ সালে এসে চূড়ান্ত রূপ লাভ করে এবং লাহোর সম্মেলনে তা প্রস্তাব আকারে পেশ করা হয়।
বিবাদমান এই পরিস্থিতিতে পৃথক আবাস ভূমির এ প্রস্তাব ভবিষ্যতের বিচারে যাই হউক আপাতঃ দৃষ্টিতে ছিল খুবই আবেগময় ও শ্রুতিমধুর। যে কারণে সাধারণ মুসলমানদের কাছে মুসলিম লীগের জনপ্রিয়তা তড়িৎ বেগে বৃদ্ধি পেতে থাকে। এ সময় মাও. শাব্বীর আহমদ উসমানী রাহ.সহ বেশ কিছু আলেম জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ ত্যাগ করে মুসলিম লীগে এসে যোগদান করেন। যেহেতু হযরত থানভী রাহ. মুসলমানদের জন্য পৃথক আবাসভূমির দর্শনে বিশ্বাসী ছিলেন। এ কারণে তাঁর মুরীদ-মুতাআল্লিকগণ মুসলিম লীগকেই সমর্থন জানায়। তাঁদের জোর প্রচেষ্টায়ই পাকিস্তান প্রস্তাব দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করে। সে সঙ্গে জনপ্রিয়তা লাভ করে মুসলিম লীগও।
পাকিস্তান আন্দোলন ও হযরত মদনীর দৃষ্টিভঙ্গি ঃ
১৯৪০ সালের ৭, ৮, ৯ জুন জৈনপুরে জমিয়তে উলামার বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সম্মেলনে হযরত মদনী রাহ. সভাপতির ভাষণ দিতে গিয়ে প্রথমে ভারত বর্ষের উপর ইংরেজদের আগ্রাসন ও নির্যাতনের ইতিহাসের প্রতি আলোকপাত করেন। অতঃপর বর্তমান বিশ্বযুদ্ধে বৃটিশ সরকারকে কেন সহযোগিতা করা হবে না এবং বৃটিশ সেনাবাহিনীতে এদেশের মানুষ কেন যোগদান করবে না এর কারণ উল্লেখ করেন। সবশেষে তিনি পাকিস্তান প্রস্তাবের ব্যাপারে তার উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন যে, বর্তমানে পাকিস্তান আন্দোলনের শ্লোগান খুব জোরে সোরে শোনা যাচ্ছে। যদি নববী আদর্শের উপর ইসলামী রাষ্ট্র কায়ে


