ছিল। মুসলিম লীগ পার্লামেন্টারী বোর্ডের অধীনে নির্বাচন করতে গিয়ে মুসলিম লীগের ভাবমূর্তি ফুটিয়ে তুলতে হয় সঙ্গত কারণেই।
হযরত মদনী দারুল উলুম থেকে দুই মাসের ছুটি মঞ্জুর করিয়ে নির্বাচনে নিজেদের প্যানেলকে বিজয়ী করার জন্য ছুটে বেড়ান দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে। বিভিন্ন সমিতিতে নিজে বক্তৃতা দেওয়া ছাড়াও নিজের মুরীদ, মুতাআল্লিক, ছাত্র-শিষ্য সকলকে এবং জমিয়তের সকল শাখা সংগঠনকে এ নির্বাচনে জোর তৎপরতা চালানোর জন্য নির্দেশ দেন। হযরত মদনীর ব্যক্তিত্বের প্রভাবও কম কাজ করেনি। কারণ তখন তিনি ছিলেন দারুল উলূমের সদরুল মুদাররিসীন ও শায়খুল হাদীস। তাছাড়া মসজিদে নববীতে দরস দান, মাল্টায় কারা বরণ, করা মামলায় বলিষ্ঠ বক্তব্য প্রদান এবং অসহযোগের অন্যতম নেতা হিসাবে, সর্বোপরি আওলাদে রাসূল হিসাবে সারা দেশের মানুষের নিকট তিনি ছিলেন। শ্রদ্ধাভাজন। এহেন ব্যক্তিত্ব এবং সারাদেশের আলেম উলামারা যখন মুসলি লীগের পক্ষে কথা বলেছেন তখন জনমনে মুসলিম লীগের প্রতি সাধারণভাবেই একটি ভিন্ন ধরনের আস্থা সৃষ্টি হয়েছে। সর্বদলীয় উলামায়ে কিরাম ও পীর মাশায়েখগণের মেহনতের বদৌলতে সে নির্বাচনে মোট ৫২টি আসনের ৩০টিতে মুসলিম লীগ নির্বাচনী প্যানেলের সদস্যরা বিজয়ী হয়। এতে মুসলিম লীগ রাজনৈতিক ময়দানে মুসলমানদের আশা আকাংখার প্রতীক হয়ে দাঁড়ায় এবং মুসলমানদের একক প্রতিনিধিত্ব কারী দল হিসাবে স্বীকৃত হয়ে পড়ে। অনেক আলেম উলামা তখন মুসলিম লীগে যোগদান করে। কেননা সাধারণ বিচারে জমিয়ত ও মুসলিম লীগ তখন একই অর্থবোধক ছিল। এভাবে এক দিনের নগর
কেন্দ্রিক মুসলিম লীগ তখন গ্রাম-গঞ্জ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে পড়ে। মুসলিম লীগ থেকে জমিয়তের সমর্থন প্রত্যাহার
কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার পরই মি. জিন্না চিরাচরিত রাজনৈতিক স্রোতে গা ভাসিয়ে দেন এবং পাশ্চাত্যের রাজনৈতিক চিন্তাধারার আলোকে নিজের দল ভারী করা ও ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় সকল কিছুই তিনি নির্বিচারে করতে শুরু করেন। যে অধীনতা প্রিয় লোকদেরকে তিনি দল থেকে ছাটাই করবেন বলে অঙ্গীকার করেছিলেন, সেই অধীনতা প্রিয় লোকদেরকে বরং তিনি ডেকে ডেকে দলভুক্ত করতে শুরু করলেন জিন্নার উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা না গেলেও বিষয়টি যে, নির্বাচন পূর্বকালের ওয়াদা অঙ্গিকারের পরিপন্থী ছিল তা খুবই সুষ্পষ্ট।
জয়লাভের পর লক্ষ্ণৌতে অনুষ্ঠিত লীগের প্রথম সম্মেলনেই লীগের এহেন আচরণে কথা জিন্নাকে জানানো হয়। তিনি তখন অকপটেই বলে ফেলেন যে, “সে সব ছিল। নির্বাচনী ঐক্যের শর্ত, নির্বাচন উত্তর কালে তার গুরুত্ব শেষ হয়ে গেছে। তাছাড় কেন্দ্রীয় এসেম্বলীতে তিনি শরীয়তী বিল পাশ হতে দেননি, কাজী প্রথা পুনঃবহাল


