বিছরায়ুর সম্মেলন ও স্বাধীনতার ঘোষণা :

mahmud50
হাঙ্গানো থেকে আমরা অনায়াসেই রক্ষা পেতে পারতাম। পরাশক্তির ক্রীড়নক আমাদেরকে হয়ত গোলামীর শৃঙ্খলে আবদ্ধ থাকতে হত না। সম্ভবত এ চিন্তাই তাদেরকে অবিভক্ত ভারতের স্বপ্ন দেখতে উদ্বুদ্ধ করেছিল ।

মি. ক্রপসের প্রস্তাব ছিল একটি ভবিষ্যত অঙ্গিকার মাত্র। কারণ যুদ্ধ শেষ হলেই কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সুতরাং এ প্রস্তাবে স্বাধীনতাকামী কোন নাই সম্মত হয়নি। বরং তারা আইন অমান্য আন্দোলন শুরু করে। ফলে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয়। এ সময় যারা কারাবরণ করেন তাদের মাঝে মাও. আহমদ ডান (সভাপতি, জ.উ.হি. পাঞ্জাব), মাও. হিফজুর রহমান সিউহারবা, মাও, কাসেম শাহজাহানপুরী, মাও. আবুল ওয়াফা শাহজাহানপুরী, মাও. শাহেদ মিয়া এলাহাবাদী, মাও. ইসমাইল সামলা, মাও. আখতারুল ইসলাম মুরাদাবাদীর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এ সময় কংগ্রেসেরও অনেক নেতাকে গ্রেফতার कटा

বিছরায়ুর সম্মেলন ও স্বাধীনতার ঘোষণা :

১৯৪২ সালের ২৫ জুন মুরাদাবাদ জিলার বিছরায়ুতে জমিয়তের এক কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় সভাপতির ভাষণে হযরত মদনী মুসলমানদেরকে ইংরেজ প্রকারের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেন। এ বক্তৃতা দানের অভিযোগে তাকে দু'সপ্তাহ পর পশ্চিম পাঞ্জাবে এক সম্মেলনে। যোগদানের জন্য যাওয়ার পথে সাহারানপুরে টিপরী স্টেশনে রাত বারোটার সময় গ্রেফতার করা হয় এবং সেখান থেকে তাকে মুরাদাবাদ জেলে প্রেরণ করা হয়। মুরাদাবাদ কোর্টে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। এ মুকাদ্দমায়ও তিনি কোন এডভোকেট নিযুক্ত না করে নিজেই আত্মপক্ষ সমর্থন করে লিখিত বক্তব্য পেশ করেন। সে বক্তৃতায় তিনি নিজেই ইংরেজ সরকারের বিরুদ্ধে যে সব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন তা অকপটে ব্যক্ত করেন। আদালত তাঁকে ছয় মাসের জেল প্রদান করে। প্রথমে তাঁকে মুরাদাবাদ কারাগারে পাঠানো হয়, পরে সেখান থেকে তাকে নৈনিতাল জেলে প্রেরণ করা হয়। এ সংবাদ দেওবন্দে পৌঁছলে সারা শহরে স্বতঃস্ফূর্তভাবে মিটিং মিছিলের ঢল নামে। অবশ্য দুই বৎসর দুইমাস পরে ১৯৪৪ সনের ২৬শে আগস্ট তাকে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া হয়।

শরিফুল ইসলাম মদনী জেলে যাওয়ার মাসখানিক পরে ৭/৮/১৯৪২ তারিখে বেদেইয়ে মাও. আবুল কালাম আযাদের সভাপতিত্বে কংগ্রেসের নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি মিটিংয়ে ইংরেজদের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এ সিদ্ধান্তকে 'কুয়িট ইন্ডিয়া আন্দোলন' নামে অভিহিত করা হয়। 4 সিদ্ধান্ত গ্রহণের অপরাধে কংগ্রেসের নির্বাহী পরিষদের সকল সদস্যকে অতার করে অজ্ঞাত স্থানে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেই সাথে জমিয়তে উলামায়ে হন্দেরও বহু সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।

Comments