টগর

mahmud50
অপর এক নির্বাচনী বক্তৃতায় তিনি বলেন- পাকিস্তান অর্জন করার জন্য যদি আমার শরীরের রক্তও দিতে হয় তাহলে এ রক্ত দেওয়াকে আমি নিজের জন্য গৌরবের বিষয় বলে মনে করব। কারণ এদেশে মুসলমানদের ধর্ম ও জাতীয়তা নিয়ে টিকে থাকা এবং ইজ্জত ও সম্মানের সাথে বেঁচে থাকা বস্তুতঃ পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার উপরই নির্ভরশীল।

এ ধরনের অসংখ্য উদ্ধৃতি দেওয়া যাবে। তবে সকল উদ্ধৃতির মাঝে একটি সত্যই। চরমভাবে ফুটে উঠে যে, পাকিস্তান কেবল মাত্র মুসলমানদের একটি পৃথক আবাসভূমিই হবে না; বরং সেটি হবে একটি ইসলামী রাষ্ট্র। যার শাসন ব্যবস্থা পরিচালিত হবে 'মিনহাজআলান নবুয়্যাহ'-এর আঙ্গিকে। যার পরিচালকরা সাহাবীগণের প্রতিকৃতি না হলেও তার কাছাকাছি অবশ্যই হবে।

ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার এই আবেগময় প্রেরণা নিয়ে তাঁরা সারা দেশের মানুষকে পাকিস্তান প্রস্তাব সমর্থন করা ও পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অংশগ্রহণ করার নিমিত্তে আগামী নির্বাচনে মুসলিম লীগকে ভোট দেওয়ার জন্য বুঝাতে থাকেন। তাদের এই আবেগময় বক্তৃতায় অনুপ্রাণিত হয়ে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ পাকিস্তান প্রস্তাবের পক্ষে ঝুঁকে পড়ে। দেওবন্দী আলেমদের উল্লেখযোগ্য বেশ কিছু ব্যক্তি মুসলিম লীগকে সমর্থন করায় এবং তাদের সমর্থনের ফলে মুসলিম লীগ ভারতে মুসলমানদের একক প্রতিনিধিত্বকারী দল হিসেবে স্বীকৃত হয়ে যাওয়ার কারণে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের জন্য নির্বাচন অত্যন্ত জটিল হয়ে পড়ে। তাই তাঁরা সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সমমনা ইসলামী দলসমূহের সমন্বয়ে একটি ঐক্যজোট গঠন করার নিমিত্তে 'অল-পার্টি কনফারেন্স' আহ্বান করে। জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ ছাড়ও 'অলইন্ডিয়া মুসলিম মজলিশ' মজলিশে আহরাব, অলইন্ডিয়া মুসলিম কনফারেন্স, ইন্ডিপেডেন্ট পার্টি বিহার, কৃষক প্রজা পার্টি বাঙ্গাল, আঞ্জুমানে ওয়াতান বেলুচিস্থান, অল ইন্ডিয়া শীয়া পলিটিকেল কনফারেন্স এবং সীমান্তের খোদায়ী খেদমতগার পার্টির দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ উক্ত কনকারেন্সে অংশ গ্রহণ করেন। আলোচনা পর্যালোচনার পর মুসলিম পার্লামেন্টারী বোর্ড নামে একটি ঐক্যজোট গঠন করা হয়। হযরত মদনী রাহ. কে এর সভাপতি মনোনীত করা হয়।

হযরত মদনী রাহ. তার দূরদর্শী রাজনৈতিক প্রজ্ঞা দ্বারা একথা আঁচ করে নিতে পেরেছিলেন যে, পাকিস্তান প্রস্তাবের পিছনে মূলতঃ কাজ করছে সাম্রাজ্যবাদের দোসর, পুঁজিপতি ও বুর্জুয়া শ্রেণীর ক্ষমতা লিপ্সা ও আখের গোছানোর ফিকির। আর ইসলামী রাষ্ট্রের আবেগময় শ্লোগান দিয়ে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে উলামায়ে কিরাম ও মুসলমানদেরকে । কেননা যে নেতৃবৃন্দ ব্যক্তি জীবনে ইসলামের অনুশাসন মেনে চলতে আগ্রহী নন, তারা কি করে রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসলামী হুকুমত কায়েম করবেন? ইসলামী হুকুমত তো আদর্শিক চেতনার চূড়ান্ত বিকাশের প্রতিফল মাত্র। অথচ শুধুমাত্র মুসলমানদের জন্য একটি পৃথক আবাসভূমির প্রস্তাব বর্তমান ও

Comments