দুনিয়া

mahmud50

এভাবে বুঝিয়ে দিবেন, 

ঝগড়া হবেনা ইন শা আল্লাহ।

 

জুমার পরে রুমে বসে আছি, কয়েকজন ভাই বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলছে, আমি চুপচাপ শুনতেছি আর হা, হু,,, করছি। হঠাৎ এক ভাই সালাম দিয়ে রুমে প্রবেশ করলেন। 

 

ভাইঃ আসসালামুআলাইকুম শায়েখ! একটু কথা বলা যাবে? 

 

আমিঃ ওয়া আলাইকুমুস সালাম 

জী বলেন। 

 

ভাইঃশায়েখ অনেক দূর থেকে আসি, আপনার বয়ান শুনি আলহামদুলিল্লাহ। 

শায়েখ! জুমার আজান নাকি একটা? 

আরেকটি নাকি হযরত উসমান রাঃ চালু করেছেন? 

 

আমিঃ জী হযরত উসমান চালু করেছেন। 

 

ভাইঃতাহলে আমরা নবীর আমল মানব নাকি সাহাবা উসমানের আমল? 

 

আমিঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও হযরত উসমান উভয়ের টা মানব। 

 

ভাইঃ নবীর আমল মানার বিষয়টা তো স্পষ্ট, কিন্ত উসমানের আমল মানার কোন দলীল সহীহ হাদীসে আছে? 

 

আমিঃ জী আছে। 

 

ভাইঃ কোন্ কিতাবে আছে? 

 

আমিঃ ইবনে মাজায় আছে। 

 

ভাইঃ এটা হাদীসের এপে পাওয়া যাবে? 

 

আমিঃ জী আছে। 

 

ভাইঃ সাথেসাথে পকেট থেকে উনার এনড্রয়েড মোবাইল টা বের করলেন।

 

আমিঃ ইবনে মাজাহ এর ৪২ নং হাদীস টা দেখেন, 

এবং আমাদের কে বাংলাটা পড়ে শোনান। 

 

ভাইঃ হাদীসের বাংলাটা পড়লেন, 

আপনারা পুরোটাই পড়ে নেন। 

 قَالَ سَمِعْتُ الْعِرْبَاضَ بْنَ سَارِيَةَ، يَقُولُ قَامَ فِينَا رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ذَاتَ يَوْمٍ فَوَعَظَنَا مَوْعِظَةً بَلِيغَةً وَجِلَتْ مِنْهَا الْقُلُوبُ وَذَرَفَتْ مِنْهَا الْعُيُونُ فَقِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَعَظْتَنَا مَوْعِظَةَ مُوَدِّعٍ فَاعْهَدْ إِلَيْنَا بِعَهْدٍ فَقَالَ ‏ "‏ عَلَيْكُمْ بِتَقْوَى اللَّهِ وَالسَّمْعِ وَالطَّاعَةِ وَإِنْ عَبْدًا حَبَشِيًّا وَسَتَرَوْنَ مِنْ بَعْدِي اخْتِلاَفًا شَدِيدًا فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ الْمَهْدِيِّينَ عَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ وَإِيَّاكُمْ وَالأُمُورَ الْمُحْدَثَاتِ فَإِنَّ كُلَّ بِدْعَةٍ ضَلاَلَةٌ

 ‏

ইরবাদ বিন সারিয়াহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:

একদিন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের মাঝে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত মর্মস্পর্শী ভাষায় আমাদের নাসীহাত করেন, যাতে অন্তরসমুহ ভীত হলো এবং চোখগুলো অশ্রু বর্ষণ করলো। তাঁকে বলা হলো, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আপনি তো বিদায় গ্রহণকারীর উপদেশ দিলেন। অতএব আমাদের নিকট থেকে একটি প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করুন (একটি সুনির্দিষ্ট আদেশ দিন)। তিনি বলেন, তোমরা আল্লাহ্‌ভীতি অবলম্বন করো, শ্রবণ করো ও আনুগত্য করো (নেতৃ-আদেশ), যদিও সে কাফ্রী গোলাম হয়। আমার পরে অচিরেই তোমরা মারাত্মক মতভেদ লক্ষ্য করবে। তখন তোমরা আমার সুন্নাত ও হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদ্বীনের সুন্নাত অবশ্যই অবলম্বন করবে, তা দাঁত দিয়ে শক্তভাবে কামড়ে ধরবে। অবশ্যই তোমরা বিদ‘আত কাজ পরিহার করবে। কারন প্রতিটি বিদ‘আতই ভ্রষ্টতা। 

সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৪২

 

আমিঃ কি বুঝলেন ভাই?

আমিই বুঝিয়ে বললাম যে নবিজীর এই হাদীস অনুসারে নবিজীর সুন্নতের পাশাপাশি সাহাবাদের সুন্নত ও আকড়ে ধরতে হবে। 

এটাই হলো শরীয়তের উপর চলার মাপকাঠি। 

 

ভাইঃ যাযাকাল্লাহ শায়েখ বলে সালাম দিয়ে বিদায় নিলেন। 

 

বাড়াবাড়ি পরিহার করে উসুল মোতাবেক যেন শরীয়ত মানতে পারি, তাহলে ঝগড়া বিবাদ মিটে যাবে ইন শা আল্লাহ।

Comments