আমিন সাহেব খুব ধর্ম ও শান্ত বিশিষ্ট প্রকৃতির মানুষ নামাজ-কালাম নিয়ে মগ্ন থাকতেন তার স্ত্রী তাসলিমা বেগম মোটামুটি ধার্মিক কিন্তু এই দাম্পত্যের ভিতরে এক দুর্বিষহ ব্যথা সব সময় কুরে কুরে খায় কেননা এ দম্পতির একমাত্র কন্যা শাকিলা আধুনিকা কলেজ পড়ুয়া এক সুন্দরী তরুণী নামাজ-কালামের কোন ধার ধারেনা শত চেষ্টা করেও তাকে নামাজের দিকে নিতে পারেনা পদার্থ কোন বালাই নেই যখন সে রাস্তায় বের হয় তখন তার পোশাকের স্টাইল দেখলে শয়তান ও লজ্জা পায় কোন ভাবেই তার পোশাকের স্বাধীনতা আনতে পারেনি তার অভিভাবক এই জন্য প্রায় সময় স্ত্রী তাসলিমা বেগম স্বামীঃ আমিন সাহেব কে দোষারোপ করেন তিনি বলেন মেয়ের এমন আধুনিকতার জন্য আপনি দায়ী তাকে শৈশবকালে মাদ্রাসায় পড়ানোর জন্য একাধিকবার আপনার সাথে আমার কথা কাটাকাটি হয়েছে আপনি মাদ্রাসায় পড়াতে রাজি হননি আপনি মেয়েকে নিয়ে গেলেন সহশিক্ষার স্কুল-কলেজে সেখানে গিয়ে মেয়ে চলে গেল একেবারে ফ্রি স্টাইল ডিজাইন এবং ডিজিটাল ফ্যাশন।
এসএসসি পাস করে তারপর কলেজে ভর্তি হল শাকিলা কলেজে এসে ওর চলাফেরা উগ্রতা আরো অনেক বেড়ে গেছে এরই মধ্যে শিক্ষকগণ তার চলাফেরা লক্ষ করেছি কিন্তু কিছু কিছু বলতে পারেন না জানি ভালো করতে গিয়ে আবার কে কোন বিপদে পড়ে একদিন তাসলিমা বেগম স্বামীকে বলেন দেখো মেয়ের লেখাপড়া যথেষ্ট হয়েছে তার আর পড়ালেখা দরকার নেই তাকে এখন বিবাহ দেওয়া আবশ্যক আমিন সাহেব শান্তকণ্ঠে বললেন ঠিক বলেছ শাকিলার আম্মু আমি তাই ভাবছি একটি দ্বীনদার ছেলের হাতে যদি মেয়েকে সঁপে দিতে পারি তাহলে জীবনটা ধন্য হতো তিনি বলেন দ্বীনদার ছেলে দেখো তবে কি শাকিলার তবে বলে থামলে কেন দ্বীনদার ছেলের সমস্যা কি আমরাও তো মোটামুটি দিন রাত আর দিনের মধ্যে শান্তি দেখনা আল্লাহর মেহেরবানীতে আমাদের সংসার টি কত সুন্দর ভাবে।
স্ত্রীঃ এবার বলল না গো আমি ভাবছি অন্যটা শাকিলার আম্মু তুমি কি ভাবছো বলতো সহজ উত্তর দিলো আমি ভাবছি আমরা যেমন একজন দ্বীনদার ছেলেকে খুঁজি তার হাতে মেয়েকে তুলে দিতে চাচ্ছি ঠিক তারাও তো একটি দ্বীনদার মেয়ের সঙ্গে ছেলের বিয়ে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত সে ক্ষেত্রে আমাদের শাকিলা তো অনেক আধুনিক দ্বীনদারীর লেশমাত্র নেই সে ক্ষেত্রে যাক আল্লাহর কাছে দোয়া করি মহান আল্লাহ তা'আলা যেন একটি পাত্রের ব্যবস্থা করে দেন।
শাকিলা কলেজ থেকে এসে দেখল সুমাইয়া এসেছে সুমাইয়া শাকিলার খালাতো বোন যথেষ্ট ধার্মিক ও জ্ঞানী সুমাইয়াকে দেখেই শাকিলা চিৎকার দিয়ে বলে উঠলো এই যে হুজুর নেই কেমন আছিস সুমাইয়া হাসিমুখে বলল আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি তো তুই কেমন আছিস? আধুনিকা ললনা শাকিলা বেশ গর্ব করে বলল আমি খুব ভালো খুব ভালো আছি সারাদিন কলেজে হইহুল্লোড় করে আনন্দে কাটিয়ে এলাম ভালো থাকবো না মানে যাচ্ছে কথা আগে বল কি মহান উদ্দেশ্যে এতোকাল করে এসেছিস?
সুমাইয়া বলল কেন? কোন উদ্দেশ্য ছাড়া কি খালাম্মার বাসায় আসা যায় না? শাকিলা বলল-হ্যাঁ যায় কিন্তু তোরা হুজুর মানুষ কোন উদ্দেশ্য ছাড়া কোথাও বেড়াতে যাস না সত্যি করে বলত আসলে তোর আসার মতলব কী? সুমাইয়া হেসে বলল তুই সত্যি বলেছিস শাকিলা আমি একটি উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছি তবে তোকে এখন বলা যাবেনা কলেজ থেকে এসেছিস কাপড় পরিবর্তন কর খাবার খেয়ে ফ্রেস হয়ে নি তারপর তোকে বলব আব্বা কি এত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যাক এখন শুনে কোন কাজ নেই ক্ষুধায় পেট জ্বলে যাচ্ছে খেয়েদেয়ে তোর মূল্যবান বাণী শোনা যাবে/


