ইস্তেখারা করার পদ্ধতি

mahmud50

আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ।সম্মানিত সাথী ও বন্ধুগণ!! আশা করি সকলে ভালো আছেন? আপনাদের দোয়ায় আল্লাহর রহমতে আমিও ভাল আছি. বিষয় হলো: ইস্তেখারার জন্য কি দোয়া পড়ে ঘুমাতে হয়.এ বিষয়ে কিঞ্চিৎ পরিমাণ আলোচনা করব আল্লাহ রব্বুল আলামীন যদি আমাকে তৌফিক দান করেন ইনশাআল্লাহ.

 

ইস্তেখারার অর্থ কল্যাণ প্রার্থনা। কল্যান সম্পর্কে অবগত হওয়া নয়। তাই ইস্তেখারার হাকিকত এই যে, যে কাজের ইচ্ছা করা হয়েছে সে সম্পর্কে চিন্তা ও পরামর্শের পর দুই রাকাত ফল নামাজ পড়ে হাদিসে শিখানো দোয়া পাঠ করা। যার সারকথা হলো ইয়া আল্লাহ!! একাজে যদি আমার কল্যাণ থাকে তবে তুমি তা সহজ করে দাও এবং তাতে বরকত দান করো. আর যদি তা আমার জন্য উপযোগী না হয় তবে তা থেকে আমাকে বিরত রাখা এবং যেখানে অনলাইন আছে সেখানে নিয়ে যাও আর আমাকে তাতে সন্তুষ্ট থাকার তৌফিক দান করো.

 

সহি হাদিসের আলোকে এটাই হলো ইস্তেখারার হাকিকত। কিন্তু কেউ কেউ মনে করে ইস্তেখারার নামাজ ও দোয়া শোয়ার আগে করতে হয়। আর ইস্তেখারার ফলাফল অর্থাৎ কাজটি করা উচিত কি উচিত না তা স্বপ্নযোগে জানিয়ে দেওয়া হয়। এটি নিঃসন্দেহে ভিত্তিহীন ধারণা। ইস্তেখারার পর কেউ কোনো স্বপ্ন দেখতে ও পারে। কিন্তু স্বপ্ন তো ইস্তেখারা ছাড়াও দেখা যায়।স্বপ্নে কোন কিছু দেখলে তাকে বিচার করতে হবে স্বপ্নের বিষয়ে শরীয়তের বিধান আছে তারই ভিত্তিতে। এক্ষেত্রে করণীয় নির্ধারিত করতে হবে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সংবিধান অনুযায়ী। আর স্বপ্ন যে কোন দলিল নয় এ তো সবাই জানে।

 

ইস্তেখারার বিষয়ক আরেকটি ভুল হল।দোয়া ও অজিফা আর কোন অনির্ভরযোগ্য বইপত্রে ইস্তিখারার যে পদ্ধতি উল্লেখ রয়েছে তা পালন করা। অথচ ইস্তিখারার মাসনুন পদ্ধতি ছেড়ে কারো অভিজ্ঞতা উদ্ভাবন গ্রহণ করার কোনো অর্থ হতে পারে না। ইস্তেখারার একটি নব উদ্ভূত অভিধাটি পদ্ধতি হচ্ছে।কুরআন মাজীদ থেকে কিংবা দেওয়ানে হাফেজ মাসুম থেকে ইঙ্গিত গ্রহণ। এটি সম্পূর্ণ ভুল পদ্ধতি। কুয়ার কোরআন হাদিস থেকে এ জাতীয় সংগীত গ্রহণ মূলত কোরআনের সাথে বেয়াদবি।

 

আরেকটি ভুল হল নিজে না করে অন্যকে দিয়ে ইস্তেখারা করানো।অনেকে মসজিদের ইমাম সাহেব অথবা পরিচিত কোন আলেমের কাছে ইস্তেখারার আবেদন করে থাকেন। অথচ হাদীস শরীফে প্রয়োজন গ্রস্থ ব্যক্তিকেই ইস্তেখারা করার আদেশ করা হয়েছে। সবচেয়ে মারাত্মক ক্রান্তি এই যে কোন কোন মানুষ শুধু কাজের ইচ্ছার সময় নয় বরং গায়েবের বিভিন্ন কথা জানার জন্য বেসরা তদবিরকারী কাছে যায়। এবং এটা কেউ ইস্তিখারা বলে এমনকি ওই কথা বিশ্বাস করে। অথচ গায়েবের জানার জন্য কারো কাছে যাওয়া এবং তার কথা বিশ্বাস করা এক প্রকারের শিরিক। আল্লাহ আমাদেরকে এসব ধরনের শিরক থেকে হেফাজত করুন আমীন।

 

সমন্বিত সাথী ও বন্ধুগণ!! আজকের এই ছোট্ট আর্টিকেলটি এই পর্যন্তই, সকলে লেখাটির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়বেন, আশাকরি সকলে ফায়দা হবে, সকলে ভাল থাকুন সুস্থ থাকুন, আসসালামু আলাইকুম.

Comments