সন্তুষ্টি

mahmud50
সে রাষ্ট্রের সংবিধানের মূল ভিত্তি হবে ইউরোপীয় গণতন্ত্র। যদি মুসলমানদের জন্য পৃথক ভূ-খণ্ড করা হয় তাহলে অবশিষ্ট হিন্দু অধ্যুষিত ভূ-খণ্ডে মুসলমানদের সর্বোচ্চ সংখ্যা দাঁড়াবে শতকরা চৌদ্দজন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ সংখ্যা শতকরা ৫% থেকে ৬% এ নেমে আসবে। পক্ষান্তরে মুসলমানদের জন্য পৃথক করা ভূ-খন্ডে অমুসলিমদের সংখ্যা হবে শতকরা ৪৫ জন। এমতাবস্থায় এ সংখ্যাডারী সংখ্যা লঘু সম্প্রদায় প্রস্তাবিত মুসলিম রাষ্ট্রের জন্য এক বিরাট হুমকী হয়ে দাড়াবে। অথচ হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় অবস্থানরত প্রায় সাড়ে তিন কোটি মুসলমানকে এক করুণ পরিণতি ও অসহায় মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হবে। একি কোন দূরদর্শী রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হবে? এটা বরং আত্মহননেরই নামান্তর। কেননা এ প্রস্তাবে যেখানে মুসলমানরা সংখ্যা গরিষ্ঠ সেখানে মুসলমানদের হিফাযত। নিশ্চিত জীবনের ব্যবস্থা রয়েছে বটে কিন্তু যেখানে তারা সংখ্যালঘু অসহায় সেখানে তাদেরকে নিশ্চিত ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়ার আয়োজন করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি স্বাধীন ভারতের রূপরেখা সম্পর্কে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের দৃষ্টিভঙ্গির কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অন্য একটি চিন্তা ভাবনা এরূপ যে, প্রত্যেক প্রদেশ স্বাধীন ও স্বায়ত্বশাসিত সরকার কর্তৃক পরিচালিত হবে, স্বাধীন ভারতকে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য সুনির্দিষ্ট কতিপয় মৌলিক নীতিমালার আওতায় প্রত্যেক প্রদেশ থেকে সদস্য নিয়ে একটি কেন্দ্রীয় সরকার গঠিত হবে। কেন্দ্রীয় সরকার প্রাদেশিক সরকারের স্বাধীনতার উপর কোনরূপ হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য নির্বাচিত সকল প্রদেশের সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে যে সব অধিকার কেন্দ্রকে প্রদান করবে কেন্দ্রীয় সরকার কেবল মাত্র সে সব বিষয়ে নিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রাপ্ত হবে। প্রত্যেক সরকারই সংখ্যালঘুদের সভ্যতা সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় অধিকার সংরক্ষণের প্রতি যত্নবান হতে আইনগতভাবে বাধ্য থাকবে। প্রত্যেক সম্প্রদায়ই তাদের ধর্মীয় ও সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করবে। এ পন্থায় প্রশাসনিক অবকাঠামো গড়ে উঠলে প্রত্যেক অঞ্চলেই সংখ্যালঘুরা নিরাপত্তার সাথে বসবাস করতে পারবে। আর যেহেতু কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ থাকবে সুতরাং কোন অঞ্চলেই সংখ্যাগুরুরা সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার করতে পারবে না।

প্রিয় পাঠক, আপনারা অবশ্যই লক্ষ্য করেছেন যে, এ প্রস্তাবের মাঝে ভারতকে একটি বৃহৎ সাম্রাজ্য হিসাবে টিকিয়ে রাখার প্রাণান্তকর চেষ্টা নিহিত রয়েছে। সম্ভবত এ প্রস্তাবের স্বপ্নদ্রষ্টারা আন্তবিশ্বে ভারত একটি পরাশক্তি হিসেবে টিকে থাক এই সুদূর প্রসারী চিন্তা নিয়েই অগ্রসর হয়েছিলেন। কারণ আন্তর্জাতিক দুরাচার ও আগ্রাসন থেকে বাঁচার জন্য অত্র এলাকায় এরূপ একটি উপস্থিতি ছিল একান্ত অপরিহার্য। এ প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে ভারতও আন্তবিশে যুক্তরাষ্ট্র কিংবা যুক্তরাজ্যের ন্যায় একটি বৃহৎশক্তি হিসাবে দাপটের সাথেই মাধ্য উঁচু করে দাঁড়াতে পারত। আর তা যদি হত, তাহলে হয়ত পরাশক্তির চে বৃহৎ শক্তির


Comments