বিসমিল্লাহির রাহমানির রহিম। শুরু করছি পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে,সম্মানিত প্রিয় বন্ধু আজকে আপনাদের সামনে আলোচনা করব মুঘল সাম্রাজ্যের পতন সম্পর্কে::
আজকের আলোচ্য বিষয় হল:: মুঘল সাম্রাজ্যের পতন।এই বিষয়ে কিঞ্চিৎ পরিমাণ আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ যদি মহান রব্বুল আলামীন আমাকে তোফিক দান করেন।
মুঘলদের পতন 1707 সালে আওরঙ্গজেব আলমগীর এর মৃত্যু থেকে শুরু হয়।আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর তার ছেলে শাসনের অযোগ্য প্রমাণিত হয়। সে সম্রাজ্য কে পরিচালনা করতে সক্ষম ছিল না। ফলে মোগল সাম্রাজ্য দুর্বল হয়ে যায়।এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে যারা পূর্বে মোগলদের অধীনে ছিল তারা আস্তে আস্তে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে যায়।
তাদের গভর্নর বাদশাহ এর থেকে বেশি শক্তিশালী হওয়া শুরু হয়। শুরুতে আলাদা তিনটি রাষ্ট্র জন্ম নেয়। যার মধ্যে দক্ষিণ ও মধ্য হিন্দুস্থানে হায়দারাবাদ, তাকানো মিরাট হীরা প্রতিষ্ঠিত হয়। উত্তর হিন্দুস্থানে অযোধ্যায় ছিল সালাতুল মালিকের রাষ্ট্র, তবে সে যুগে হিন্দুস্থানে এই বিশ্বাস খুব গভীরভাবে বদ্ধমূল ছিল যে, সেই ব্যক্তি নবাব ও গভর্নর হতে পারবে, যাকে মোঘলরা নির্ধারণ করবে।
যার ফলে মোঘলরা ক্ষমতার কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হতো। ফলে হিন্দুস্তানের রাজনীতি এক নতুন দিক চলা শুরু করে।প্রত্যেক রাষ্ট্র মোগল দরবারে নিজেদের প্রভাব বৃদ্ধি করা শুরু করে। মোগলদের দরবারে সবচেয়ে বড় পদ ছিল আমিরুল ও মারা, এই পথ দখলের জন্য এই রাজ্য গুলোর মধ্যে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব শুরু হয়ে যায়।
আমিরুল তোমারা হাওয়ার দ্বন্দ্ব ও নিজেদের সীমানা বৃদ্ধির রাজনীতি তাদের অভ্যন্তরীণ অবস্থা আরও দুর্বল করে দেয়। সেই সময় আরও একটি দাবিদার বৃদ্ধি পায়, তারা ছিলো রোহিলখন্ড রাজ্যের পাঠান নজিমুদ্দৌল ও হাফিজুর রহমান খান,দিল্লির মফস্বল এলাকা গুলোতে লুণ্ঠন করতে থাকে,
1737 সালে মিঠা খিরা দিল্লিতে হামলা করে শাহী খাজানা লুটে নেয় এবং বাদশা থেকে নিজেদের মাফ করিয়ে চলে যায়। দিল্লি এই হামলা থেকে তখনো সামলে উঠতে পারেনি, এর মধ্যেই ইরানের বাদশা নাদির শাহ দিল্লিতে হামলা করে শাহী খাজানা লুণ্ঠন করে এবং বাদশা শাহজাহানের সিংহাসন নিজের সাথে নিয়ে যায়।ফিরে যাওয়ার সময় লাহোর পর্যন্ত নিজেদের সীমানার ভেতর অন্তর্ভুক্ত করে নে,বিরাটি ওনাদের শাহের এই হামলার ফলে মুঘল বাদশাহ এর চূড়ান্তরূপে দুর্বল হয়ে যায়।
সম্মানিত সাথী ও বন্ধুগণ আজকের আলোচনা এই পর্যন্তই সকলে ভাল থাকুন সুস্থ থাকুন,এই আর্টিকেলটি আশা করি সকলের ভাল লাগবে সকলে শেষ পর্যন্ত পড়বেন।


