লেখাটি সবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ,বিশেষ করে ছাত্র ছাত্রীদের জন্য লেখাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
অভিভাবকগণ! লেখাটি মন দিয়ে পড়েন।
গুনাহের ক্ষতিসমুহ,
এক,
আল্লাহর ক্রোধ আপতিত হওয়ার কারণ
উদাহরণ-১
، عَامِرُ بْنُ وَاثِلَةَ قَالَ كُنْتُ عِنْدَ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ فَأَتَاهُ رَجُلٌ فَقَالَ مَا كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُسِرُّ إِلَيْكَ قَالَ فَغَضِبَ وَقَالَ مَا كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُسِرُّ إِلَىَّ شَيْئًا يَكْتُمُهُ النَّاسَ غَيْرَ أَنَّهُ قَدْ حَدَّثَنِي بِكَلِمَاتٍ أَرْبَعٍ . قَالَ فَقَالَ مَا هُنَّ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ قَالَ قَالَ " لَعَنَ اللَّهُ مَنْ لَعَنَ وَالِدَهُ وَلَعَنَ اللَّهُ مَنْ ذَبَحَ لِغَيْرِ اللَّهِ وَلَعَنَ اللَّهُ مَنْ آوَى مُحْدِثًا وَلَعَنَ اللَّهُ مَنْ غَيَّرَ مَنَارَ الأَرْضِ " .
আবূ তুফায়ল ‘আমির ইবনু ওয়াসিলাহ্ (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
তিনি বলেন, আমি ‘আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) এর কাছে উপস্থিত ছিলাম। এক লোক তাঁর নিকট এসে বলল, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আপনাকে আড়ালে কি বলেছিলেন? রাবী বলেন, তিনি রেগে গেলেন এবং বললেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) লোকদের কাছ থেকে গোপন রেখে আমার নিকট একান্তে কিছু বলেননি। তবে তিনি আমাকে চারটি (বিশেষ শিক্ষণীয়) কথা বলেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর লোকটি বলল হে আমীরুল মু’মিনীন! সে চারটি কথা কি? তিনি বললেনঃ
১. যে লোক তার পিতা-মাতাকে অভিসম্পাত করে, আল্লাহ তাকে অভিসম্পাত করেন,
২. যে লোক আল্লাহ ব্যতীত ভিন্ন কারো নামে যাবাহ করে আল্লাহ তার উপরও অভিসম্পাত করেন,
৩. ঐ ব্যক্তির উপরও আল্লাহ অভিসম্পাত করেন, যে কোন বিদ‘আতী লোককে আশ্রয় দেয় এবং
৪. যে ব্যক্তি জমিনের (সীমানার) চিহ্নসমূহ অন্যায়ভাবে পরিবর্তন করে, তার উপরও আল্লাহ অভিসম্পাত করেন।
সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৫০১৮
উদাহরণ-২
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَعَنَ اللهُ السَّارِقَ يَسْرِقُ الْبَيْضَةَ فَتُقْطَعُ يَدُهُ وَيَسْرِقُ الْحَبْلَ فَتُقْطَعُ يَدُهُ قَالَ الأَعْمَشُ كَانُوا يَرَوْنَ أَنَّهُ بَيْضُ الْحَدِيدِ وَالْحَبْلُ كَانُوا يَرَوْنَ أَنَّهُ مِنْهَا مَا يَسْوَى دَرَاهِمَ.
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, চোরের উপর আল্লাহ্র লা’নত হোক, যখন সে একটি হেলমেট চুরি করে এবং এ জন্য তার হাত কাটা হয় এবং সে একটি রশি চুরি করে এ জন্য তার হাত কাটা হয়।
আ’মাশ (রহঃ) বলেন, তারা মনে করত যে, হেলমেট লোহার হতে হবে আর রশির ব্যাপারে তারা ধারণা করত তা কয়েক দিরহামের সমমূল্যের হবে।
সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৬৭৮৩
উদাহরণ-৩
عَنْ أَبِي عَلْقَمَةَ، مَوْلاَهُمْ وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْغَافِقِيِّ أَنَّهُمَا سَمِعَا ابْنَ عُمَرَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَعَنَ اللَّهُ الْخَمْرَ وَشَارِبَهَا وَسَاقِيَهَا وَبَائِعَهَا وَمُبْتَاعَهَا وَعَاصِرَهَا وَمُعْتَصِرَهَا وَحَامِلَهَا وَالْمَحْمُولَةَ إِلَيْهِ " .
ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মদ, তা পানকারী, পরিবেশনকারী, বিক্রেতা, ক্রেতা, উৎপাদক ও শোধনকারী, যে উৎপাদন করায়, সরবরাহকারী এবং যার জন্য সরবরাহ করা হয়- এদের সকলকে আল্লাহ লা‘নত করেছেন।
সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৩৬৭৪
দুই,
গুনাহ মানুষ কে অপমানিত করে
قال عبدالله بن المبارك:
رأيتُ الذنوبَ تميتُ القلوبَ
আমি দেখেছি গুনাহ অন্তরকে মৃত বানিয়ে দেয়,
وقد يورثُ الذُّلَّ إدمانُها
আর অবিরত গুনাহ মানুষ কে লাঞ্চিত করে,
وتركُ الذنوبِ حياةُ القلوبِ
গুনাহ ছেড়ে দেওয়া মানে কলব্ জীবিত হওয়া,
وخيرٌ لنفسِك عصيانُها
গুনাহ ছেড়ে দেওয়া নফসের জন্য উত্তম।
الآداب الشرعية - لابن مفلح الحنبلي
খন্ড-১
পৃষ্ঠা-১৪৪
তিন,
গুনাহ ইলম্ ভুলে যাওয়ার কারণ
উদাহরণ-১
قال عبدالله بن مسعودٍ رضي الله عنه: "إني لأحسب أن الرجلَ ينسى العلم قد علِمه بالذنب يعمَله
ইবনে মাসউদ রাঃ বলেন, মানুষ গুনাহের কারণে তার জানা ইলম্ ভুলে যায়।
جامع بيان العلم - لابن عبدالبر
খন্ড-১
পৃষ্ঠা-৬৭৫
উদাহরণ-২
كان الإمام أبو حنيفة إذا أشكَلت عليه مسألة قال لأصحابه: "ما هذا إلا لذنبٍ أحدثتُه"،
ইমাম আবু হানিফা রহিমাহুল্লার কাছে কোন মাসআলা খটকা লাগলে তিনি তার ছাত্রদের কে বলতেন,আমার কোন গুনাহের কারণে এমনটি হচ্ছে,
وكان يستغفر،
তখন তিনি ইস্তেগফার পড়তেন,
وربما قام وصلى،
কখনো সালাতে দাড়িয়ে যেতেন,
فتنكشف له المسألة،
তখন মাসআলা সমাধান হয়ে যেত,
ويقول: "رجوتُ أني تِيبَ علَيَّ"؛
তখন তিনি বলতেন যে আমি আশাবাদী আমার তাওবা কবুল হয়েছে।
(الجواهر المضية - محيي الدين الحنفي )
খন্ড-২
পৃষ্ঠা ৪৭৮
উদাহরণ-৩
قال علي بن خشرم: "رأيت وكيع بن الجراح وما رأيتُ بيده كتابًا قط، إنما هو يحفظ،
আলি ইবনে খসরম রহঃ বলেন, আমি ওয়াকি ইবনুল জাররাহ কে কখনো লিখতে দেখিনি, তিনি সব মুখস্থ করে ফেলতেন,
فسألتُه عن دواء الحفظ،
আমি তাকে তার মুখস্থের রহস্য জানতে চাইলাম,
فقال: تركُ المعاصي، ما جرَّبْتُ مِثلَه للحفظ"
তিনি বললেন যে মুখস্থের রহস্য হলোঃ গুনাহ ছেড়ে দেওয়া, গুনাহ ছেড়ে মুখস্থের মতো অভিজ্ঞতা অন্য কোন বিষয়ে পাইনি। (গুনাহ ছেড়ে দেওয়া মুখস্থ শক্তি বাড়ানোর শ্রেষ্ঠ উপায়।
تهذيب التهذيب - لابن حجر العسقلاني
খন্ড-২
পৃষ্ঠা-১২৯
উদাহরণ-৪
قال مالك بن أنس للشافعي: "إن اللهَ ألقى على قلبك نورًا، فلا تُطفئه بظُلمة المعصية"؛ (تهذيب الأسماء - للنووي -
মালিক ইবনে আনাস ইমাম শাফেয়ী রহঃ কে বললেন, আল্লাহ তোমার অন্তরে নুর দান করেছেন, সতরাং এই নুর গুনাহের মাধ্যমে নিভিয়ে দিওনা।
তাহযীবুল আসমা
খন্ড-১পৃষ্ঠা-৪৭উদাহরণ-৫
قال الإمام الشافعي: شكوتُ إلى وكيعٍ سوءَ حِفظي *** فأرشَدني إلى ترك المعاصي وأخبَرني بأن العلمَ نورٌ *** ونورُ الله لا يُهدى لعاصي
ইমাম শাফেয়ী রহঃ বলেন, আমি ওয়াকি রহঃ এর নিকট স্বরন শক্তির দূর্বলতার (মুখস্থ কম থাকে)
অভিযোগ করলাম, তিনি আমাকে গুনাহ ছেড়ে দেওয়ার উপদেশ দিলেন,,, এবং আমাকে তিনি বললেন যে ইলম্ হলো আল্লাহর নুর, আল্লাহর নূর কোন গুনাহগার কে দেওয়া হয়না।
ديوانالشافعيপৃষ্ঠা-৬১চার,
গুনাহ দিলকে মৃত এবং শক্ত বানিয়ে দেয়,
ؕ فَوَیۡلٌ لِّلۡقٰسِیَۃِ قُلُوۡبُہُمۡ مِّنۡ ذِکۡرِ اللّٰہِ ؕ اُولٰٓئِکَ فِیۡ ضَلٰلٍ مُّبِیۡنٍ
অতএব ধ্বংস সে লোকদের জন্য যাদের হৃদয় কঠিন হয়ে গেছে আল্লাহর স্মরণ থেকে। তারা স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে নিপতিত।
যুমার-২২


