আমাদের মানব দেহের জন্য শ্বসনতন্ত্রের ভূমিকা অপরিহার্য। আমরা বায়ু থেকে যে অক্সিজেন গ্রহণ করি তা এই শ্বসনতন্ত্রের মাধ্যমে। কোন প্রাণী অক্সিজেন ছাড়া বাঁচতে পারে না। মানবদেহে বাতাসের সাথে অক্সিজেন ফুসফুসে প্রবেশ করে এবং তা রক্তের মাধ্যমে দেহের সব অঙ্গে পৌঁছায়। দেহকোষে পরিপাক হওয়া খাদ্যের সাথে অক্সিজেনের বিক্রিয়া ঘটে ফলে তাপ এবং শক্তি উৎপন্ন হয় ।এই তাব দেহকে উষ্ণ রাখে এবং প্রয়োজনীয় শক্তি যোগান দেয়।
অক্সিজেন এবং খাদ্য উৎপাদনের মধ্যে বিক্রিয়ার ফলে কার্বন-ডাই-অক্সাইড ও পানি উৎপন্ন হয়। রক্ত উপাদানগুলোকে ফুসফুসে নিয়ে যায়। যেখানে অক্সিজেন শোষিত হয় এবং কার্বন ডাই অক্সাইড ছেড়ে দেয়। যে প্রক্রিয়া দিয়ে অক্সিজেন গ্রহণ এবং কার্বন-ডাই-অক্সাইড নিষ্কাশন করা হয় তাকে শাসনকার্য বলে। যে জৈবিক প্রক্রিয়া প্রাণীদেহের খাদ্যবস্তুকে বায়ুর অক্সিজেনের সাথে জড়িত করে মজুদ শক্তিকে ব্যবহারযোগ্য শক্তিতে রূপান্তর এবং কার্বন-ডাই-অক্সাইড নিষ্কাশন করে তাকেই শোষণ বলে। গ্যাসীয় আদান-প্রদান একবার ফুসফুসে এবং পরে দেহের প্রতিটি কোষে পর্যায়ক্রমে সম্পাদিত হয়।
প্রশাসক দিন এবং নিঃশ্বাসে কার্বন-ডাই-অক্সাইড দেহ থেকে বের করতে হয় তা না হলে আমাদের পক্ষে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। তার কারণ তিন চার মিনিটের বেশি সেদিনের সরবরাহ বন্ধ থাকলে মৃত্যু অনিবার্য। দেহের সচেতন অচেতন উভয় অবস্থাতেই অবিরাম অক্সিজেন গ্রহণ এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন চলে। আর সাথে সাথে প্রতিনিয়ত দেহরক্ষার নানান বিধি প্রক্রিয়া চলতে থাকে যার ফলে প্রাণী বেঁচে থাকে।
যে অঙ্গ গুলোর সাহায্যে শ্বাসকার্য পরিচালিত হয় সেগুলো কে একত্রে শ্বসনতন্ত্র বলে।
শ্বসনতন্ত্রের প্রথম অংশের নাম নাসিকা বা নাক। এটা মুখ গহ্বরের ওপরে অবস্থিত একটি ত্রিকোণাকার গহবর। নাক বা নাসীকার সাহায্যে কোন বস্তুর সুগন্ধ দুর্গন্ধ বুঝা যায় । এক বিশেষ ধরনের স্নায়ুকে উদ্দীপিত করে ফলে আমরা গন্ধ পাই। নাসিকা এমনভাবে বিবর্তিত হয়েছে যে সেটি প্রশ্বাসের সময় বাতাসকে ফুসফুসের গ্রহণের উপযোগী করে দেয়।
নাসাপথ সামনে নাসিকা ছিদ্র এবং পিছনে গভীর পর্যন্ত বিস্তৃত। একটি পাতলা প্রাচির দিয়ে এটি দুই ভাগে বিভক্ত। এর সামনের অংশ লোমাবৃত এবং পিছনের অংশ শ্লোষ্মা প্রস্তুতকারী একটি পাতলা পর্দা দিয়ে আবৃত। আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় বায়ুতে বিদ্যমান ধূলিকণা রোগজীবাণু এবং আবর্জনা থাকলে তা এই লোম এবং পরদা তে আটকে যায়। এতে বায়ু ফুসফুসে প্রবেশ করার পূর্বে কিছু পরিমাণে নির্মল হয়ে যায়। এছাড়া শোষণের জন্য গৃহীত বায়ু নাসা পথ দিয়ে যাওয়ার সময় কিছুটা উষ্ণ এবং আদ্র হয়। এর ফলে হঠাৎ ঠান্ডা বায়ু ফুসফুসে প্রবেশ করে সাধারণত কোন প্রকার ক্ষতি করতে পারে না।
এই শ্বসনতন্ত্রের একটি শ্বাসনালী রয়েছে। এটি খাদ্যনালীর সামনে অবস্থিত একটি ফাঁপা নল। এই নলটি ষড়যন্ত্রের নিচের অংশ থেকে শুরু করে কিছুদুর নিচে গিয়ে দু'ভাগে বিভক্ত হয়ে দুটি বায়ু নলের সৃষ্টি হয় এগুলো শ্বাসনালী। এর প্রাচীর কতগুলোর অসম্পূর্ণ বলায়াকার তরুণাস্থি ও পেশি দিয়ে গঠিত।
এইসব প্রক্রিয়ায় আমরা আমাদের শ্বসনতন্ত্র কার্যকর করি।
তাই নির্দ্বিধায় বলা যায় শ্বসনতন্ত্র আমাদের জীবনে অক্সিজেনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

