যখন কেউ অন্য কারো সাথে ভাল সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং তার সাথে সময় কাটাতে শুরু করে, তখন তারা সুন্দর সুন্দর মুহুর্তগুলোকে দেখে মনের ভিতর থেকে অনুভব করে। সুন্দর সম্পর্ক সুন্দর সুন্দর
মুহর্তগুলোকে শীঘ্রই সময় কেটে যেতে থাকে।
যখন তারা অন্য ব্যক্তির সংস্পর্শে নাও থাকে তাদের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য হতে পারে, এটি এমন একটি সময় যখন তারা তাদের সম্পর্কে চিন্তা করলে ভাল অনুভূতিগুলো অনুভব করবে।
তবে বর্তমান যুগে সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখাটাই হলো সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ। এই সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখতে চাই আত্মত্যাগ ও পরস্পরের ভালো মন্দ বোঝার ক্ষমতা। আমরা অনেকেই জানি যে, প্রেমের সম্পর্কের অনুভূতিটা সবার কাছে দারুন লাগে। প্রতি মুহূর্তে উত্তেজনা, একে অপরের জন্য অপেক্ষা করা , মাঝে মাঝে দুজনের মধ্যে দু্ষ্টু মিষ্টি ঝগড়া, এই ঝগড়ার পর আবার মিল হওয়া, তার পরে দুজনের আবেগঘন আলাপ। প্রকৃত সম্পর্কের মাঝে এসব কিছুরই দেখা মেলে।
একটা সময় এসে আবার ধীরে ধীরে সম্পর্কের পরিবর্তন---
যাইহোক, এভাবে দিন যায়, সপ্তাহ যায়, মাস যায় এভাবে যেতে যেতে, তারা দেখতে পারে যে তাদের মধ্যে মানসিক অভিজ্ঞতা পরিবর্তন হতে শুরু করেছে। এমনটাও দেখা যায় যখন তারা তাদের সঙ্গীর সাথে থাকাকালীন ভাল অনুভূতি গুলোও ভাল লাগে না।
বর্তমানে এই ইট-পাথরের আধুনিকতার ছোঁয়ায় পুরোনো দিনের সম্পর্কগুলো কোথায় যেন হারিয়ে যাচ্ছে। এখন সম্পর্ক নামের জিনিটি ধরে রাখার পরিবর্তে সম্পর্ক ভাঙ্গার প্রবনতাটাই বেশি দেখা যাচ্ছে।
প্রথমত সম্পর্কাটা কিন্তু প্রাকৃতিক ভাবেই চলে আসে যেমন- বাবা-মা, ভাই-বোন ও পরিবারের সাথে। কিন্তু এই সম্পর্কের বাইরেও কখন, কীভাবে যেন মনের অনুভূতির এক গুচ্ছ ভালবাসা দিয়ে আরেকটি মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হয়ে যায়। কিন্তু এই সম্পর্ক যে শুধু প্রেমের সম্পর্ক নয়, এই সম্পর্ক হতে পারে বন্ধুত্বের সম্পর্ক। তারপর সেই বন্ধুত্ব থেকে রূপ নেয় ভালোবাসায়।
যখন সম্পর্কে কোন ফাটল ধরে তখন একজন ব্যক্তি যথেষ্ট পরিমাণে মানসিক যন্ত্রণার সম্মুখীন হতে পারেন।
আজকাল সম্পর্কটি যেন হয়ে গেছে ‘গিভ অ্যান্ড টেক’। সে কারনে নিঃস্বার্থ ভালোবাসার সম্পর্ক যেন খুঁজে পাওয়া খুবই দুষ্কর।
এ্যামেরিকা সহ পশ্চিমা অনেক দেশগুলোতে বর্তমানে সন্তানদের নিয়ে তাদের বাবা-মা অনেকেই সীমাহীন দুশ্চিন্তায় থাকেন।বাবা-মায়ের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার শেষ নেই। কখন তাদের ছেলে মেয়েরা কী করে বসে সেই চিন্তায় তারা অস্থির থাকেন। পাশ্চাত্ব দেশের ছেলেমেয়েদের একটি বড় অংশ মোবাইল ফোনে ব্যাস্ত অথবা এককথায় আসক্ত হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভিডিও গেম খেলা, ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে ছেলে কিংবা মেয়ে বন্ধুর সঙ্গে চ্যাট করা, সারা রাত বিছানার চাদরের নিচে মুখ লুকিয়ে রেখে মোবাইলে চ্যাট করা, ভিডিও দেখা ও গেম খেলা যাতে তাদের পরিবার টের না পায়।
বর্তমানে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, বাংলাদেশেও সংসারে অশান্তি, ডিভোর্স, সন্দেহ এক মহামারি আকার ধারণ করেছে। অথচ এই দুজনই একসময় পরস্পরের ভালো লাগা, ভালোবাসার সম্পর্ককে যে সামাজিক রুপ দিয়ে গ্রহণযোগ্যতার জন্য বিয়ে করা হয়, তারাই সারাজীবন একসঙ্গে থাকার অঙ্গীকার নিয়ে সংসার জীবন শুরু করে, কিন্তু একটা সময় আবার সেই দুজনই আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত নেয়। শেষপর্যন্ত সেই সম্পর্কে ফাটল ধরে ডিভোর্সে রুপ নেয়।
তখন দেখা যায় তারা জীবন যুদ্ধে তাদের মন ভেঙ্গে যায়। কারও কারও আবার তাদের কাছের লোকের সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে কারণ সে হয়তো এই ক্ষতগুলি নিজেই সামলাতে সক্ষম হবে না।
কিন্তু আমাদের দেশের সমাজ ব্যবস্থা এখনো এতটা সহনশীল হয় নাই ।আমরা যারা মুসলমান আছি তাদের মধ্যে অনেকে আছে যে, তারা ভাবে এই সম্পর্ক করলে তখন ধর্ম, পরিবারের মান-সম্মান ক্ষুন্ন হয়। তখন হয়তো দেখা যায় এই সম্পর্কের সামাজিক দিক দিয়ে গ্রহণযোগ্যতা পাওয়া যায় না এবং পরবর্তীতে দেখা যায় নিজেদের বাচ্চাদের জন্য পরিচয় সংকট হয়ে দাঁড়ায়, কিন্তু এটা হয়তো কোন বাচ্চার মানসিক বিকাশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
তাই একটি সুন্দর সম্পর্ক বা একটি সুন্দর সংসার গড়ার আগে সেই জায়গায় স্বচ্ছতা রাখাটা আমাদের জন্য খুবই জরুরি। সম্পর্ক করতে হয় ভেবেচিন্তে, আর ভেবেচিন্তে জীবন সঙ্গী করাই সবচেয়ে ভাল। কারণ সম্পর্ক গড়া খুবই সহজ, কিন্তু ধরে রাখাটাই হলো সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ। তবে আমি যে কথাগুলো বললাম সেই বিষয়গুলো ধরে রাখলে সুসম্পর্ক গড়ে তোলাও সহজ হবে।
সবশেষে বলা যায়, সম্পর্ক এমন একটি অনুভুতির নাম, সেটি হয়তো কোন কারনে খারাপ হয় গেলেও এর রেশ থেকে যায়। আর একটি সুসম্পর্কই একজন মানুষের জীবনের মুহূর্তগুলোকেও সুন্দর করে তুলতে পারে। ---ধন্যবাদ


