বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম সকল প্রশংসা মহান আল্লাহ তায়ালার।
আসসালামু আলাইকুম রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু, সবাই কেমন আছেন আশা করি মহান রাব্বুল আলামিনের অশেষ রহমতে অনেক ভালোই আছেন ।
আমিও আপনাদের দোয়ায় এবং মহান রাব্বুল আলামিনের অশেষ রহমতে অনেক ভাল আছি ।
আজকে গল্প নিয়ে হাজির হলাম আপনাদের সামনে আশা করি আপনাদের কাছে খুবই ভালো লাগবে।
আজকের গল্পের নাম অমাবস্যার রাত ,
তো চলুন শুরু করি রহস্যময় খেলা সেই গল্প।
আমার নাম তনময় আমি ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারে পড়ি, আমি এখন আপনাদের সাথে যে কথাটা বলব সেটা হচ্ছে আমার এক বন্ধুর জন্মদিনের রাত সেদিন ছিল অমাবস্যার রাত বন্ধুর জন্মদিন পালন করে আসতে আসতে প্রায় রাত সাড়ে এগারোটা বেজে গিয়েছিলো গ্রামের বাড়ি বোঝেনই তো এগারটা মানেই অনেক রাত গ্রামের মানুষ তখন ঘুমের দেশে চলে যায়। যাইহোক ঘরবাড়ি থেকে আড্ডা মেরে খাওয়া-দাওয়া করে বাইরের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম মেইন রাস্তায় তেমন কাউকে দেখতে পাচ্ছি না দোকানপাট বন্ধ হয়ে গেছে রাস্তার মাঝে দুই তিনটা কুকুর ছাড়া আর কাউকে তেমন একটা দেখা যায়না আজকের রাতটা অমাবস্যার রাত এত অন্ধকার যে এক হাত সামনে কি সেই জিনিসটা ও দেখা যায় না অন্ধকারে।
আমি মেইন রোড ধরে হাঁটছি হাঁটছি মানে বাড়িতে যাচ্ছি যাই হোক শেষ করে একটা গলিতে ঢুকলাম কারণ আমাদের বাড়িতে যেতে হলে এই গলি দিয়ে যেতে হয়।
ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক কানে আসতেছে গলির মধ্যে ঢুকলাম হঠাৎ কেন যেন গা ছমছম করে উঠল আমি আবার ভূত-প্রেতে তেমন একটা ভয় পাই না কারণ রাত আড়াইটা তিনটের সময় আমি এইগুলো দিয়ে সে রাস্তার পাশের দোকান থেকে সিগারেট নিয়ে খেয়েছে যাইহোক হাঁটছি আনমনে হাতে জ্বলন্ত সিগারেট মোবাইলের আলোতে মাঝে মাঝে রাস্তাটা দেখে দেখে নিতে মনের আনন্দে গান গাইতেছি দেখাহে পেহেলি বার সাজন কি আখমে পেয়ার।
আমি তখন গলির অনেকটা পার হয়ে গেছে বলতে পারেন গলির মাঝামাঝিতে আছি হঠাৎ কানের মধ্যে বেজে উঠলো কেউ যেন একজন বলে উঠল এই যে শুনছেন ভাইয়া।
মোবাইলের আলোতে চারপাশটা ঘুরে দেখলাম কেউ তো নেই তখন মনে হলো গলির দুই পাশেই তো মানুষের বাসা অথবা কেউ বাসায় কারো সাথে কথা বলতেছ ।
আবার হাটা শুরু করলাম দুইদিন পর পর আবারও সেই একই শব্দ এজে শুনছেন এক্সকিউজ মি ভাইয়া।
একটু দাড়াবে আপনার সাথে আমার একটু কথা ছিল,
একটু হালকা পাতলা ভয় মনের মধ্যে আবচ্ছা দিয়ে উঠল তবে সেটা ভুতের নয় ছিনতাইকারীর এবার দাঁড়িয়ে পড়ে ভাবলাম ।
আমি যদি এখন এখান থেকে দৌড়ে পালায় আর এটা যদি আমার পরিচিত কেউ হয় তাহলে তো সবার কাছে বলে দেবে যে আমি ভয় পেয়ে ধরে পালিয়েছি আমার প্রেস্টিজের পাঞ্ছার হয়ে যাবে কি করা যায়।
হঠাৎ কেন মনে হল আমার গলা দিয়ে কথা বের হচ্ছে না তারপরও খুব কষ্টে কৃত্রিম সুরে বলে উঠলাম কে?
দেখুন ভাইয়া আমি আপনার একটা ছোট বোনের মত আমি খুব বিপদে পড়েছি আপনার একটু উপকার দরকার এবার কণ্ঠের মধ্যে বিরক্তি নিয়ে বললাম তাহলে তুমি ভূতের মত কেন কথা বলতেছ।
তখন ওপাশ থেকে আওয়াজ আসলো আমি তো ভূত আমি ভূতের মত কথা বলব না তো কিসের মত কথা বলব ছাগলের মত।
কি বলবো বুঝতে পারতেছি না মনে মনে বলতেছি ওরে কে আছিস আমারে বাচা চিৎকার দেবো নাকি সাথে সাথে ওপাশ থেকে আওয়াজ আসলো ভাইয়া আপনাকে একটা অনুরোধ করতেছি আপনার হাতে সিগারেটটা নিভিয়ে ফেলেন আমি আপনার সামনে এসে আপনার সাথে কথা বলতে চাই আপনি তো জানেন ভুতের আগুন দেখলে ভয় পায়।
আগুনের ভয় আমার শরীরের সকল লোম নেতিয়ে গেছে তখন আমি বললাম আমি তো এতদিন শুনে এসেছি ভয় মানুষের লোম দাঁড়িয়ে যায় আর তুমি বলতেছ নিতেই গেছে তখন ।
তখন ওপাশ থেকে আওয়াজ আসলো আমি তো ভূত আমাদের লোম সব সময় খারাপ থাকে যদি ভয় পাই তখন নেতিয়ে যায় আর আপনারা তো মানুষ আপনাদের ভয় পেলে লোম দাঁড়িয়ে যায়।
আমি এবার সিগারেটটা বন্ধ না করে মুখে নিয়ে জোর একটা টান দিলেন তখন ভূতটা আঁতকে উঠে বলল ভাইয়া এভাবে ভয় দেখাবেন না। আপনার পায়ে ধরি ভাই প্লিজ এভাবে কেন আমাকে ভয় দেখাবেন না আমার এমনিতেই হার্টের সমস্যা আছে ।
তখন আমি বললাম আচ্ছা তুমি একটু সত্যি করে বল তো কে তুমি?
দেখো আমি ভূত প্রেতে বিশ্বাস করি না ,
তখন ওপাশ থেকে আওয়াজ আসলো ভাইয়া এভাবে বলবেন না আমরা ভূত বলে কি আমাদের কোন মান সম্মান নেই।
আপনি এইভাবে আমাদের অস্তিত্বকে নষ্ট করতে পারেন না আমি কি কখনো বলেছি মানুষ বলে কিছু নেই আমি বিশ্বাস করি মানুষ আছে।
আচ্ছা ঠিক আছে আমি বুঝলাম তুমি বেশ আত্মমর্যাদাসম্পন্ন একটা ভূত এবার বলো আমার কাছে তোমার কি দরকার? আরে আমি তোমার কি বা উপকার করতে পারি।
তখন ও আমাকে বলল ভাইয়া দয়া করে আপনি সিগারেট টা নিভিয়ে ফেলে দেন সিগারেট তো এমনিতেই শেষ হয়ে গেছে আরেকটু আপনার হাতে থাকলে আপনি হাতের মধ্যে ছ্যাকা খাবেন।
আমি সিগারেট এর দিকে তাকিয়ে দেখি ওমা এটা তো শেষ আসলেই তো আমি একটু পরে তো হাতে ছ্যাকা খেতাম।
কি আর করা হাত থেকে সিগারেটটা মাটিতে ফেলে দিলাম পায়ের নিচে চাপা দিয়ে আগুনটা নিভে দিলাম এবার বললাম এবার বল তোমার কি সমস্যা আর আমি তোমাকে কিভাবে উপকার করতে পারি।
তখন ভূতটা তার গল্প বলা শুরু করলো সে বললো ভাইয়া আমার নাম উৎপল মরার পরে আমার নাম হয়ে গেছে উদ্ভট সবাই আমাকে ভূতের দেশে উদ্ভট বলেই ডাকে তখন আমি ওকে জিজ্ঞেস করছিলাম আচ্ছা তুমি কতদিন আগে মারা গিয়েছে তখন সে আমাকে বলল আমিতো অনেক বছর আগে কয়েক লাখ বছর আগে মারা গিয়েছিলাম। আচ্ছা ভাইয়া চলেন আমরা চা খাব চা খেতে খেতে আমার গল্প আপনাকে বলব আমি একটু অবাক হয়ে ওকে জিজ্ঞেস করলাম ভূতের আবার চাও খায় তখন ও বলল কেন খাবে না চা খাওয়া কি নিষেধ নাকি ভূতেদের। আমি বললাম আরে না নিষেধ হবে কেন,
ভূতেরা মানুষের তুলনায় অনেক বেশি চা খায় কারণ তাদেরকে সারারাত জাগতে হয় মানুষদের ভয় দেখাতে হয় চা না খেলে কি এত রাত জাগা যায়।
কি বলব বুঝতে পারছি না এক ঢোক গিলে মনে মনে বলতে লাগলাম এত রাতে একটা ভূতের সাথে চা খাওয়ার ইচ্ছে আমার কখনোই জানবে না তখন আমি ওকে বললাম দেখো উদ্ভট, তোমরা তো চা খাওয়া মানুষদের ভয় দেখানোর জন্য কিন্তু আমি তো মানুষ আমিতো কোন বুট কে ভয় দেখাবো না তাহলে আমি এত রাতে চা খেয়ে কি করব, আমি এখন বাসায় যাব বাসায় গিয়ে ঘুমিয়ে পড়বো তুমি তোমার প্রবলেমের কথা বলো আমি দেখি কি করতে পারি তখন সে আবার ওর কথা বলা শুরু করলো সে বলল দেখেন ভাই আমি কিন্তু অনেক শিক্ষিত একটা ভূত আমি ক্লাস থ্রি পর্যন্ত পড়াশুনা করছে।
আমি ক্লাস এইটে এবং ক্লাস নাইনে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি পেয়েছি তখন আমি ওকে থামিয়ে দিয়ে বললাম তুমি এখন ক্লাস থ্রিতে পড়ো তাহলে তুমি ক্লাস এইটে এবং নাইনে কিভাবে উপবৃত্তি পেলে তখন ও আমাকে বলল দেখেন ভাই আপনাদের সমাজে তো ক্লাস ওয়ান থেকে পড়াশোনা শুরু হয় আমাদের সমাজে অনার্স-মাস্টার্স থেকে পড়াশোনা শুরু করে আমরা উপর থেকে পড়ে নিচের দিকে আসে নিচ থেকে উপর দিকে যান তখন আমি বললাম যতসব ফালতু নিয়ম কারণ তখন ও আমাকে বলল আরে না ভাই আমার একটা ফালতু হবে কেন আপনাদের নিয়মটা ফালতু।
আমি ওর কথা শুনে কিছুটা হতভম্ব হয়ে গেলাম কে এই আরকি বলতেছ আমাকে এসব আমি কিন্তু ওকে দেখতেছি না শুধু ওর আওয়াজটা শুনতেছি এরপর হঠাৎ করে কিছুক্ষণ পর পর আওয়াজ বন্ধ হয়ে গেল আমি ওকে অনেকবার ডাকাডাকি করলাম উদ্ভট উদ্ভট তুমি কোথায় কিন্তু আমি ওর কোন সাড়া শব্দ পেলাম না।
এরপরের হঠাৎ কেন জানি মনে হল শরীরটা ভারি হয়ে আসছে ওখানে আর দাঁড়িয়ে না থাকে তাড়াতাড়ি বাড়িতে চলে আসলাম বাড়িতে আসার পর আমার খুব জ্বর আসলো দুইদিন ধরে শোয়া থেকে উঠতে পারলাম না এরপরে যাইহোক একটু ভালো হলাম আর মনে মনে চিন্তা করলাম কে ছিল আর ওর কি বিপদ ছিল আমার কাছে কি উপকার চাইছিল সেটা তো আমি শুনতে পারলাম না।
সেরা থেকে আমি আর ঘর থেকে তেমন একটা বের হই না পড়াশোনায় মন বসে না বন্ধুদের সাথে ও তেমন আড্ডায় যায় না চুপচাপ ঘরের কোণে বসে থাকে আর ওর কথাগুলো নিয়ে ভাবতে থাকি ও আমার কাছে কি উপকার চাইছিল আজ পর্যন্ত আমি আর কোন উত্তর পাইনি এ রহস্যের আমি আজ পর্যন্ত করতে পারে নি।
তো এই ছিল আমার গল্প ,আশাকরি আপনাদের কাছে খুবই ভালো লাগবে ।
কেমন হল অবশ্যই কমেন্ট বক্সে জানাবেন ,সবাই ভাল থাকেন সুস্থ থাকেন এই কামনা করি মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে।
যদি বেঁচে থাকি তাহলে আবার নতুন কোন গল্প নিয়ে হাজির হয়ে যাবো আপনাদের সামনে আসসালামু আলাইকুম রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।


