খাঁটি তওবার শর্ত এবং পদ্ধতি নিয়ে।

বিসমিল্লাহির রহমানের রাহিম সকল প্রশংসা মহান আল্লাহতালার আসসালামুআলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ।
কেমন আছেন সবাই আশা করি মহান রাব্বুল আলামিনের অশেষ রহমতে আপনারা সবাই অনেক ভাল আছেন আমিও আপনাদের দোয়ায় এবং মহান রাব্বুল আলামিনের অশেষ রহমতে আলহামদুলিল্লাহ অনেক ভালো আছি আজকের নতুন আরেকটি বিষয় নিয়ে আপনাদের সাথে কথা বলবো আজকে কথা বলব, খাঁটি তওবার শর্ত এবং পদ্ধতি নিয়ে।
খাঁটি তওবা এবং পরিপূর্ণ হওয়ার জন্য অন্তত তিনটি শর্তের প্রয়োজন।
এতে মানুষের হক জড়িত থাকলে 4 শর্ত প্রয়োজন হবে, আর এই শর্তগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোন মানুষের কোন তওবা কবুল হবে না।
তাহলে আমাদেরকে যেটা করতে হবে তাও বা পরিপূর্ণ হওয়ার জন্য যে শর্ত গুলো আছে সেগুলো জানতে হবে আজকে আমি আপনাদের সাথে সেই শর্ত গুলো নিয়ে কথা বলবো।
মানুষের গুনহা যদি শুধু আল্লাহর সাথে অবাধ্যতার সাথে থাকে তাহলে সে ক্ষেত্রে তিনটি শর্ত প্রয়োজন সঠিকভাবে তওবা করার জন্য।
যদি কোন গুণের সাথে মানুষের অধিকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে তাহলে সেই ক্ষেত্রে চারটি শর্ত এর প্রয়োজন সঠিকভাবে তওবা করার জন্য।
তবে সৌদি আরবের শায়খ মুহাম্মদ বিন সালিহ আল উসাইমিন রহমতুল্লাহি আলাইহি তাওবার শর্ত মোট পাঁচটি।
১ তওবা করতে হবে আল্লাহর কাছে তওবা হবে শুধু আল্লাহর জন্য।
২ গুনাহের কাজ করার জন্য আল্লাহর কাছে লজ্জিত এবং অনুতপ্ত হতে হবে।
৩ যে গুনহা এর জন্য তওবা করা হচ্ছে সেই গুনা থেকে সম্পূর্ণ নিজেকে সরিয়ে আনতে হবে।
৪ ভবিষ্যতে যাতে এই গোনা আর না হয় সে জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করতে হবে।
৫ মানুষের অধিকার তাকে ফিরিয়ে দিতে হবে সেই অধিকারে নিজে আর কখনো হক জ্বালাতে পারবেন না।
# তওবা করার পদ্ধতি
আল্লাহর কাছে কিভাবে দোয়া করবেন তার জন্য কিছু সঠিক পদ্ধতি রয়েছে, আর সেই পদ্ধতি গুলো যথাযথভাবে পালন করার মাধ্যমেই আল্লাহতালা কবুল করে নেবেন।
১ তাওবা হবে আল্লাহর জন্য
আল্লাহ তাআলার ভয় বা সন্তুষ্টি ছাড়া অন্য কোন কিছুর প্রতি ভয় পেয়ে বা অন্য কিছুর জন্য সন্তুষ্ট করার জন্য যদি তওবা করা হয় তাহলে সেই তবা কখনো কবুল হবে না, কোন মানুষকে দেখানোর জন্য নয় ওকে পাওয়ার জন্য বা কোন মানুষের মন রক্ষার্থে বা কোনো স্বার্থ উদ্ধারের জন্য যদি তওবা করা হয় তাহলে সেই তওবা কখনো সঠিক তওবা হিসেবের পরিপূর্ণতা লাভ করবে না।
তওবা করার মূল উদ্দেশ্য থাকবে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি এবং পরকালের শান্তি কামনা পরকালের গুলোকে মানিয়ে নেওয়া আল্লাহর কাছ থেকে, এছাড়া অন্য কোন উদ্দেশ্যে তওবা করা যাবে না, অন্য কোনো উদ্দেশ্যে যদি আপনি তওবা করেন তাহলে কিন্তু আপনার বোন হত মাভ হবেই না বরঞ্চ আপনার আমল নামায় আরো গুনহা যোগ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কাছে তওবা করা যাবে না তাহলে সেটা কখনোই আল্লাহর কাছে পৌঁছাবে না, এমনকি তা কখনোই কবুল হওয়ার সম্ভাবনা নেই এটা তো তওবা হবে না এটা হবে শিরিক।
২ গুনাহের জন্য অনুতপ্ত এবং লজ্জিত হওয়া
আমরা নিজেদের অজান্তেই অনেক ধরনের গুনাহ করে ফেলে গুনহা করার পরে আমাদের মনের মধ্যে অনুতপ্ত হতে হবে লজ্জিত হতে হবে নিজের নিজের কাছে অপরাধ করে নিজের কাছে নিজে লজ্জিত হওয়া খাটি তওবা একটি শর্ত। আমরা তো আবার করার পরে যদি অনুতপ্ত না আমি লজ্জিত না হয় তাহলে আমরা যতই তওবা করি না কেন আল্লাহ তা'আলা কখনোই কবুল করবেন না অতএব আমাদের সবারই উচিত নিজেদের জন্য নিজেদের কাছে অনুতপ্ত হওয়া লজ্জিত হওয়া তাহলে আল্লাহ তাআলা আমাদের তওবা কবুল করে নেবেন।
৩ পাপ গোপন রাখা
আমাদের সমাজে এমন কিছু মানুষ বসবাস করে যারা পাপ কাজ করে কিন্তু তাদের কাছে ওই পাপ কাজটা সামান্য বা গর্বের বিষয় বলে মনে হয় তখন তারা যেটা করে ওই পাপ কাজের কথা তাদের বন্ধুবান্ধব আত্মীয়স্বজন সবার কাছে শেয়ার করে, পাপ কাজ তো করে আবার সেই পাপ কাজ নেই গর্ববোধ করে এতে করে গুনহা মাফ হওয়ার সহজ পদ্ধতি সেটাও নষ্ট হয়ে যায়।
তাহলে আমাদের সবারই উচিত আমরা যে পাপটা করি সেই পাপকাজকে গোপন রাখা এতে করে আমরা সহজভাবেই মহান রব্বুল আলামীনের তওবা থেকে নিজেদের মুক্ত করতে পারব।
উপরের আলোচনা থেকে আপনারা অবশ্যই বিস্তারিত বুঝতে পেরেছেন যে কিভাবে নিজেদেরকে রক্ষা করা যায় কিভাবে তওবা করলে মহান রাব্বুল আলামিন কবুল করেন আপনারা অবশ্যই সেই অনুযায়ী চলার চেষ্টা করবেন আমি যথেষ্ট চেষ্টা করেছি কোরআন এবং হাদিসের আলোকে বিষয়টি তুলে ধরার জন্য যদি কোন ভুল হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন সবাই ভাল থাকেন সুস্থ থাকেন এই কামনা করে আজকের মত এখানেই বিদায় নিলাম আসসালামুআলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ।

Comments