বিসমিল্লাহির রহমানের রাহিম সকল প্রশংসা মহান আল্লাহ তায়ালার আসসালামুআলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু,
সবাই কেমন আছেন আশা করি মহান রাব্বুল আলামিনের অশেষ রহমতে সবাই অনেক ভাল আছেন আমিও আলহামদুলিল্লাহ মহান রাব্বুল আলামিনের অশেষ রহমতে অনেক ভাল আছি আজকে নতুন আরেকটি বিষয় নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়ে গেলাম আজকে আমি কথা বলব,
মানবজীবনে বিয়ের গুরুত্ব ,
এ বিষয় নিয়ে কিছু কথা আজকে আপনাদের সাথে শেয়ার করব।
আমরা সবাই জানি মানব সভ্যতা বিকাশের জন্য একটা রাষ্ট্রের দরকার, দরকার হয় একটা সমাজের আবার সেই সমাজেই দরকার হয় একটা পরিবারের।
আবার যদি আমরা একটু লক্ষ্য করি তাহলে এই পরিবারটা শুরু হয় একটা বিয়ের মাধ্যমে আর তাই পরিবারের গুরুত্ব বা মানব সভ্যতা বিকাশের বিয়ের গুরুত্ব অনেক বেশি।
ইসলামিক দৃষ্টিতে একজন নারী এবং একজন পুরুষ একটি বন্ধনে আবদ্ধ হয় যেটা হচ্ছে বিবাহ ,শরীয়ত মোতাবেক আবদ্ধ হওয়ার মাধ্যমে যে পরিবার তৈরি হয় সেটা তৈরি হয় একমাত্র বিয়ের মাধ্যমে।
# ইসলামিক দৃষ্টিতে বা আমাদের ধর্মীয় দৃষ্টিতে বিয়ের যেসকল গুরুত্ব আছে এখন সেই বিষয় নিয়ে কথা বলবো:-
আমরা সবাই জানি প্রত্যেক নারী পুরুষের জীবনে বি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, না একজন নারী এবং একজন পুরুষের হৃদয়ের প্রশান্তি যৌন চাহিদার লাভের একমাত্র বন্ধন হচ্ছে বিবাহ বন্ধন।
আমরা যদি একটু লক্ষ্য করি একজন নারী এবং একজন পুরুষের মধ্যে যে বন্ধনে আবদ্ধ হয় তার একমাত্র সমাধান হচ্ছে বিয়ে একজন মানুষের চরিত্র ঠিক করার একমাত্র হাতিয়ার হচ্ছে এই বিবাহ বন্ধন।
আমরা যদি একটি লক্ষ করি তাহলে দেখতে পাই প্রত্যেক ধর্মেই বিয়ের কথা আছে হয়তোবা একেক ধর্মে একেক রকম কিন্তু কোনো ধর্মেই বিয়ের আগে সহবাস করা এটা কখনই কোন ধর্ম মেনে নেবে না।
এজন্যই ইসলামে বিয়ে করার জন্য উৎসাহিত করেছেন আল্লাহ প্রদত্ত এটি একটি সুন্নত। আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কোরআনুল কারিমে বলেছেন তোমরা তোমাদের পছন্দ অনুযায়ী বিয়ে করো,
আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ একটি হাদিসে বর্ণনা করেছেন তিনি বলেছেন হে যুবক সম্প্রদায় তোমাদের মধ্যে যাদের বিয়ে করার সামর্থ্য আছে তারা খুব তাড়াতাড়ি বিয়ে করো কারণ যারা চক্ষু এবং লজ্জাস্থানকে হেফাজত করে আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে হেফাযত করে আর তোমাদের মধ্যে যাদের বিয়ে করার সামর্থ্য হয়নি তারা যেন নিজে থেকেই নিজের স্ব-ইচ্ছায় রোজা রাখে।
বুখারী শরীফে আছে কোন একদিন তিনজন লোক নবীজির কাছে এসেছিলেন তখন তারা নবী জিরা স্ত্রী সম্পর্কে কিছু কথা নবীজির কাছে জানতে চেয়েছিলে নবীজি যখন সমস্ত বিষয়ে তাদেরকে বুঝিয়ে বলে ছিলেন তখন তারা বলেছিল, আল্লাহ তায়ালা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর জীবনের সকল গুনাহ মাফ করে দিয়েছেন আর আমরা কোথায় মনের সাগরে ডুবে আছি তখন তার মধ্যে প্রথম লোক বলেছিল আমি সারারাত নামাজ পড়বো নামাজের মাধ্যমে আমার দিন কাটিয়ে দেব দ্বিতীয় লোক বলেছিল আমি সারা বছর রোজা রাখব রোজার মাধ্যমে আমার জীবন কাটিয়ে দিব তৃতীয় লোক বলেছিল আমি তাহলে নারীর সঙ্গ ত্যাগ করব জীবনে কখনো বিয়েই করব না।
যখনই কথা নবীজি হুজুরে পাক সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম তাদের মুখে শুনেছেন সাথে সাথে তিনি বলেছেন তোমরা এসব কেমন কথা বলছ তোমাদের মধ্যে আমি সবচাইতে মোত্তাকিন ব্যক্তি তাহলে আমি যদি রোজা রাখি যাকাত আদায় করি বিয়ে শাদী করি স্ত্রীর কাছে যাই তাহলে তোমরা কেন এগুলো ছেড়ে দেবে যারা আমার এই কাজগুলো মানবে না তারা কখনোই আমার দলভুক্ত হতে পারবে না তারা কখনোই আমার উম্মত বলে নিজেদেরকে দাবি করতে পারবে না।
# এবার চলুন জেনে নেই সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিয়ের গুরুত্ব:-
আমরা সবাই জানি আদিমকাল থেকে মানুষ সামাজিক জীব মানুষ কখনো একা বাস করতে পারে না আর তার জন্যই মানুষের প্রয়োজন বিয়ের বিয়ের মাধ্যমে একজন নারী এবং একজন পুরুষ একসাথে বসবাস করা শুরু করে বিয়ের মাধ্যমে একটি পরিবার গঠিত হয় আর তাদের মধ্যে শুরু হয় প্রেম প্রীতি ভালোবাসা ওখান থেকেই সন্তান-সন্ততির জন্ম হয় বিয়ের মাধ্যমে একজন নারী এবং একজন পুরুষ তাদের মধ্যে দুঃখ কষ্ট হাসি কান্না সবকিছু ভাগাভাগি করে নিতে পারে একটা কথা বলা যায় যে বিয়ে হচ্ছে বংশ রক্ষার একমাত্র স্তম্ভ। আরেকটা বিষয় যদি আমরা লক্ষ্য করি বিয়ের মাধ্যমে একজন মানুষকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলা যায়, অসম্পূর্ণ একজন মানুষকে পুরোপুরি সম্পূর্ণভাবে গড়ে তোলা যায় এই বিয়ে নামক বন্ধনের মাধ্যমে।
# এবার চলুন জেনে নিই বিজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিয়ের গুরুত্ব:-
শুধু সামাজিক বা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেই বিয়ের গুরুত্ব শুরু হয়নি বিজ্ঞানী দৃষ্টিকোণ থেকেও বিয়ের গুরুত্ব অপরিসীম, বিজ্ঞানী হার্ভার্ড হেলথ তারেক পাবলিকেশনে
আমেরিকাতে অনেক মানুষের মধ্যে একটা পরীক্ষা চালিয়ে দেখেছেন, তার পরীক্ষায় তিনি প্রমাণ করেছেন অবিবাহিত পুরুষের চাইতে বিবাহিত পুরুষ অনেক স্বাস্থবান হয়ে থাকে এবং অবিবাহিত পুরুষের চেয়ে যে বিবাহিত পুরুষ অনেক দিন বেঁচে থাকে। গত কয়েক বছরের গবেষণায় দেখা গিয়েছে বিবাহ স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী,
আরেকজন বিজ্ঞানী গবেষণা করে বের করেছেন যারা কখনো বিয়েই করেনি তাদের হৃদ রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বিবাহিত মানুষের চাইতে তিনগুণ বেশি হয়ে থাকে।
যারা বিয়ে করে না তাদের উচ্চ রক্তচাপ স্টক হার্ট অ্যাটাক এগুলো সম্ভাবনা অনেক বেশী হয়ে থাকে।
আমি এসব লেখাগুলো থেকে যা বুঝলাম, ধর্মীয় দৃষ্টিতে ,সামাজিক দৃষ্টিতে, আর বিজ্ঞানীদের দৃষ্টিতে বিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিসীম বিষয় মানুষের জন্য।
অনেক মানুষ আছে বিয়ে করে না যারা বিয়ে করে না তাদের মধ্যে নানা ধরনের রোগ অল্প বয়সে দেখা দেয়,
যেমন বিজ্ঞানীরা অনেক কিছুই আবিষ্কার করেছেন তাদের আবিষ্কারের মাধ্যমে, এগুলো আমাদের সামনে খুব সহজভাবে প্রকাশিত হয়।
অতএব একজন মানুষের জীবনে বিয়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ সে নারী হোক বা পুরুষ এতে যেমন তার চরিত্রের দৃষ্টিকোণ থেকে সবকিছু ঠিক হয়, তেমনি একজন অসম্পূর্ণ মানুষ থাকে সে একজন স্বয়ংসম্পূর্ণ মানুষ হিসেবে সমাজের পরিচিতি লাভ করেন।
আমি হয়তো অনেক কথাই বলে ফেলেছি আমার কথায় যদি কারো মনে কষ্ট লাগে , তাহলে আমার কিছু করার নাই যেটা সত্যি সেটাই বলেছি ।
আমার লেখায় যদি কোন ভুল হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন, আর অবশ্যই আমাকে ধরিয়ে দিবেন ,আমি শুধরে নেয়ার চেষ্টা করব ।
সবাই ভাল থাকেন সুস্থ থাকেন এই কামনা করি মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে ।
আসসালামুআলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু।



জি আপু আপনার কথাগুলো পড়ে ভালই লাগলো। আসলে একজন মুসলমানের বিয়ের পরে ঈমান বাড়ে। কারন বিয়ের আগে সে চোখের দৃষ্টি থেকে হলেও খারাপ কিছু দেখার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু বিয়ের পরে তার হয়না। পারলে বিয়ের পরেই ঈমান বাড়ে। আর এটাই স্বাভাবিক মানুষ সামাজিক ভাবে বসবাস করে। বংশবিস্তার করতে হলে বিয়ে একজন মানুষের জীবনে খুবই প্রয়োজন।