
প্রিয় বন্ধুরা,
দিন যদি হয় বৃষ্টিময় সময়ের মধ্য দিয়ে তাহলে বেশ ভালই লাগে তবে যদি অফিসে যেতে হয় এই সময় তাহলে একটু বিরক্ত লাগে!
লিখতে বসলাম ঠিক দশ ঘটিকার সময়। চলুন তাহলে দৈনন্দিন কার্যাবলী এক নজরে দেখে নেই, কিভাবে অতিবাহিত হলো আজকের দিন।
সকালবেলায় দেখতে পাচ্ছি আকাশ ভরা মেঘ। ভাবতেছি কখন জানি বৃষ্টি নামে। এভাবে ভাবতে ভাবতে সময় অতিবাহিত হচ্ছে। এদিকে আমি অফিসে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে নিলাম।
সকালবেলায় সিলেট শহরের হাইওয়ে রাস্তার পাশেই একটি হোটেল রয়েছে সেই হোটেলে আমি সকালের নাস্তা খাই অর্থাৎ তন্দুর রুটি আর সবজি ডাল দিয়ে।
তবে তন্দুর রুটি অসাধারণ লাগে সবজি ডাল দিয়ে খাইতে। তবে অনেকেই ভাবে তন্দুর রুটি সাধারণত বড় বড় রেস্টুরেন্টে গ্রিলের সাথে বা অন্যান্য খাবারের সাথে মূলত খাওয়া হয়। আপনারা কিভাবে সবজি ডাল দিয়ে খাচ্ছেন? হ্যাঁ ভাই সবজি ডাল দিয়েও খাওয়া যায় এবং বেশ ভালই লাগে। তাইলে আপনারা দেখতে পারেন খাওয়া দাওয়া করে।
IMG_20240520_125942_024.jpg
যাইহোক রাস্তা দিয়ে হেঁটে হেঁটে যাচ্ছি বৃষ্টি নেই তবে আমি যখন হোটেলে খাইতে বসছি ঠিক সেই সময় বৃষ্টি হয়েছে আর এ কারণে অফিসে যাইতে প্রায় ৫ মিনিট দেরি হয়েছে বৃষ্টির কারণে।
যাই হোক বৃষ্টি যখন থেমে গেল তখন আমি ধীরে ধীরে চলে যাচ্ছি অফিসের দিকে তবে ওই সময় অনেকেই অফিসের দিকে যাচ্ছে কেননা অনেকের কাছেই ছাতা ছিল না তখন এই কারণে তাদের ও লেট হয়েছে।
পরিশেষে অফিসে গেলাম এরপর হাজিরা খাতায় যেমন স্বাক্ষর করতে হয় ঠিক অনুরূপভাবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট করলাম সিকিউরিটি অফিসে।
IMG_20240520_080828_724.jpg
সচরাচর আমি যখন অফিসে যাই ঠিক সেই সময় আমার জন্যই যেন অপেক্ষা করতে থাকে কাস্টিং সেকশনের সুপারভাইজার। কেননা কাস্টিং সেকশনের সুপারভাইজার স্লিপ নিয়ে আসে পরীক্ষা করার জন্য। তাদেরও অবশ্য জেনারেল অফিস এ কারণে তারা আসার সাথে সাথেই তাদের প্রথম কাজ সেগুলো ঠিক আছে কিনা এগুলো ল্যাবরেটরীতে পাঠানো।
যাই হোক পরিশেষে আমি manual casting slip, H.P.C casting slip and Ivory casting slip পরীক্ষা করার জন্য visco meter অন করলাম। এরপর প্রয়োজনীয় প্রোগ্রামগুলো সেটাপের মাধ্যমে ভিস্কো সিটি দেখে নিলাম।
এরপর আমি ঘনত্ব বা ডেনসিটি দেখার জন্য ব্যাচিন এ চলে গেলাম। ডেন্সিটি দেখার পর সবগুলো আমি খাতায় লিখে রাখলাম এরপর কাস্টিং সেকশনের সুপারভাইজার এর হাতে সেই ডকুমেন্ট দিলাম।
বেশ কিছু কাজের মধ্যে আরও একটি বিষয় তুলে ধরতে চাই আমরা যখন সময় পাই বা কাজের চাপ কম থাকে তখন আনন্দও করি।
যেহেতু কাজের চাপ কম তাই বেশ কিছু সময় অলোক ভাই এর সাথে গল্প করলাম এছাড়াও কাজের বিষয় নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। বগুড়া শহরে টেবিল ওয়ার কোম্পানি আরো একটি চালু হওয়ার কথা শুনতেছি সেটা নিয়েও কথা হয়েছে। এরপর বেশ কিছু সাম্পল এসেছিল সেই স্যাম্পল গুলো ফারজান ভাই সহ আমি এবং মুসাহিদ ভাই সবাই মিলে স্যাম্পলের কাজ করলাম এবং ফায়ারিং সেকশনে পাঠিয়ে দিলাম।
IMG_20240520_132717_167.jpg
দুপুর বেলায় যখন আমি খাওয়া-দাওয়া করতে আসি অর্থাৎ লাঞ্চের ব্রেক দেওয়ার পরেই বৃষ্টির ফোঁটা পড়তেছে। যেহেতু আমার কাছে ছাতা ছিল না তাই দ্রুত আমি হোটেলে খাওয়া দাওয়া করার জন্য আসি।
হালকা হালকা বৃষ্টি পরতেছিল সেই সময় যখনই খাবার মাঝামাঝি সেই সময় দেখতে পেলাম আরো প্রচন্ড বৃষ্টি নেমে গেল ভাবলাম আজকে বোধহয় আর রুমে যাওয়া হবে না। ভাবতেছি জাহিদ ভাই অথবা শরিফুলকে কল দিয়ে বলে দেব অফিসে যাওয়ার সময় যেন আমাকে সাথে নিয়ে যায়।
আল্লাহর রহমতে খাবার শেষ করার পাঁচ মিনিট পর পর্যন্ত বৃষ্টি হলো এরপর থেমে গেল তখন ১ : ২৫ মিনিট। অবশেষে বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পর রুমে চলে আসলাম।
IMG_20240520_170520_056.jpg
রুমে আসার পর কিছুক্ষণ পর দেখতে পারতেছি প্রচন্ড রোদ উঠে গেল হায় হায় কি কারবার!
এই বৃষ্টি হচ্ছে এই রোদ উঠতেছে কোন কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। আমি ফারজান ভাই এর কাছ থেকে শুনলাম শ্রীমঙ্গল প্রচন্ড পরিমাণে বৃষ্টি হয় আবার তাৎক্ষণিকভাবে রোদ ওঠে। আবার এটাও শুনলাম এত ঘনঘন বৃষ্টি আসার জন্য অনেক মানুষ বিরক্ত হয়ে যাবে অথচ এখন কিন্তু বৃষ্টির জন্য মানুষ হাহাকার।
যাইহোক দুপুরের পর যখন আমি অফিসে যাই তখন একটি নতুন ম্যাটেরিয়ালস আসে স্যাম্পল কনসারমেন্ট। আমি সেই কনসারমেন্ট খাতায় লিখে রাখলাম এবং কত পারসেন্ট ময়েশ্চার আছে উহা লিখে রাখলাম পরীক্ষা করার মাধ্যমে।
QC Code লিখে রাখলাম এরপর মেটেরিয়াল রানিং এবং কনসারমেন্ট দুটি একত্রিত একটি প্লেটের মধ্যে অগার রোল এর মাধ্যমে দুটি ভাগ করে ফায়ারিং সেকশনে পাঠিয়ে দিলাম।
ম্যাটেরিয়ালস এর নাম Soda Chips. এই ম্যাটেরিয়ালস এসেছে Star Ceramic Com Ltd থেকে। এটা হচ্ছে টাইলস ফ্যাক্টরি।
IMG_20240520_172057_664.jpg
যাইহোক অবশেষে অফিস শেষ হয়ে গেল এরপর আমি বাহিরে বের হয়ে দেখতে পাচ্ছি বেশ ভালই আকাশ পরিস্কার। কোন প্রকার মেঘ নেই আকাশের দিকে তাকালে বোঝাই জানা বৃষ্টি হয়েছে।
তবে বৃষ্টি হয়ে কিন্তু বেশ ভালই হয়েছে ধুলাবালি আর নাকের মধ্যে যাবে না বিশেষ করে যেগুলো ডাস্ট ছিল। এছাড়াও মাটি পুষ্টি পেল, মানুষের হাহাকার গাছ গাছালির খাবারের হাহাকার কিছুটা পূর্ণ হল।
যাইহোক দৈনন্দিন কার্যাবলী খুব সুন্দর ভাবে সমাপ্তি করলাম এবং আপনাদের মাঝে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি। আজকের মত এ পর্যন্তই সীমাবদ্ধ দেখা হবে পরবর্তী কোনো লেখা নিয়ে সে পর্যন্ত সঙ্গেই থাকুন।


