ওপেন সার্কিট (Open Circuit) :
ইহা মূলত প্রাচীন পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে ম্যাটেরিয়াল চার্জ এর ক্ষেত্রে ফিডরেট (Feedrate) নিয়ন্ত্রণ করা হয়ে থাকে। ক্রাসিং প্রডাকটকে ভেঙ্গে আকাঙ্খিত সর্বোচ্চ সাইজের নিচে আনতে অনেক সময়ের প্রয়োজন হয়। অনেক মেশিনে প্রথমে ক্রাসিং করার পর উৎপাদ ম্যাটেরিয়ালের কুশন ইফেকট (Cusheon effect) এর ফলে পরবর্তী কনিকাগুলো ক্রাসিং করতে প্রচুর শক্তি ব্যয় হয় এবং সময়ও বেশি লাগে। যদি এসব মেশিনকে ক্লাসিফায়ার (classifier) এর সাথে যুক্ত করা হয় তা হলে প্রথমে উৎপন্ন মিহি ম্যাটেরিয়াল অপসারিত করে কুশন ইফেকট বিহীন অন্য ক্রাসার বা গ্রাইন্ডারে নেওয়া হয়। ফলে অনেক শক্তির অপচয় রোধ করা যায় এবং দ্রুত গতিতে কাজ করা সম্ভব হয়।
ক্লোজড সার্কিট (Closed circuit) :
এই পদ্ধতিতে সিক্ত ও শুষ্ক উভয় ধরনের গ্রাইন্ডিং করা যায়। ড্যাম্প ম্যাটেরিয়ালের ক্ষেত্রে গরম বাতাস সরবরাহ করা হয়। ক্লোজড সার্কিটের সাথে বল, প্যাবেল, টিউব, রড এবং হেমার মিল সংযুক্ত থাকতে পারে।
ক্রাসিং ও গ্রাইন্ডিং এর প্রয়োজনীয়তা (Necessity of crushing and grinding) :
সাধারণত পাথর জাতীয় কাঁচামালগুলো ক্রাসিং ও গ্রাইন্ডিং করা হয়। এ জাতীয় কাঁচামাল প্রকৃতিতে যে অবস্থায় পাওয়া যায় সেই অবস্থায় কোন ক্রমেই দ্রব্য তৈরি করার কাজে ব্যবহার করা সম্ভব হয় না। কারণ সিরামিক শিল্পের ক্ষেত্রে যে ধরনের পণ্যই তৈরি করা হোক না কেন, এদের প্রত্যেকের বেলায় দ্রব্যের অবস্থাভেদে একটি নির্দিষ্ট সাইজের কনিকায় রূপান্তর করার প্রয়োজন পরে। যাতে কনিকার আকার দ্রব্যের উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ও এর গুন গত মানে কোন ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে না পারে। তাই লাম্প আকারের পাথরগুলো সাইজে ছোট করতে হয়। এই নাম্পগুলো একবারেই বডির উপযোগী কনিকায় পরিণত করা যায় না। এদেরকে প্রথমে ক্রাসিং করে নির্দিষ্ট সাইজে পরিণত করা হয় এবং পরে পুনরায় গ্রাইন্ডিং করে সূক্ষ্ণ
কনিকায় পরিণত করা হয়। সূক্ষ্ণ কনিকায় পরিণত করার নামই হল গ্রাইডিং অর্থাৎ গ্রাইডিং দক্ষতার সাথে ও উত্তমরূপে সম্পাদন করার জন্য ক্রাসিং করার প্রয়োজন পরে। আর দ্রব্য তৈরি করার জন্য প্রথমে ক্রাসিং করা ম্যাটেরিয়াল কে পরে গ্রাইভিং করিয়া কাঁচামালগুলোকে সূক্ষ কনিকায় রূপান্তরিত করে উহাকে দ্রব্য তৈরির উপযোগী হিসাবে প্রস্তুত করা হয়। তা ছাড়াও দ্রব্যের উপরি ভাগ মসৃণ করার জন্যও প্রয়োজন রয়েছে গ্রাইন্ডিং করার। আবার গ্রাইন্ডিং মাত্রার উপর ফিনিশড প্রডাক্টের বিভিন্ন গুনাগুন নির্ভর করে থাকে। তাই উপরের আলোচনা থেকে এটা বলা যায় যে, সিরামিক শিল্পের পণ্য উৎপাদনে এতে ব্যবহৃত হার্ড ম্যাটেরিয়ালগুলোর ক্রাসিং ও গ্রাইডিং করার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম
ক্রামিং ও গ্রাইন্ডিং এর গুরুত্ব ( Importance of crushing and grinding) :
পাথর জাতীয় কাঁচামালকে দ্রব্য তৈরির উপযোগী করার জন্য এদের আকারে ছোট করে সূক্ষ্ণ কনিকায় পরিণত করা হয়। এই কনিকার আকার সব দ্রব্যের ক্ষেত্রে এক রকম হয় না। দ্রব্য ভেদে এদের আকারের তারতম্য হয়ে থাকে। রিফ্লেকটরী ব্রিকে ব্যবহৃত কনিকার আকার আর হেডী কে প্রডাক্টের কনিকার আকার এক রকম হয় না। রিফেক্টরীজে ব্যবহৃত কাঁচামালের কনিকার আকার সাধারণ ব্রিকের কনিকার আকারের চেয়ে বড় হয়ে থাকে। আবার হোয়াইট ওয়্যার বডির কাঁচামালের কনিকা হেডী কে প্রডাকটের চেয়ে মিহি করতে হয়। কারণ এসব দ্রব্যের কাঁচামালের কনিকার আকার উৎপাদিত দ্রব্যের গুনাবলীর উপর যথেষ্ট। প্রভাব ফেলে। হেভী কে প্রডাকটের ক্ষেত্রে কাঁচামালের কনিকার আকার উহার কার্যপোযোগিতা, স্ট্রেন্থ, সংকোচন, ঘনত্ব, হার্ডনেস ও গঠন এমনকি দ্রব্যের বর্ণ পর্যন্ত কাঁচামালের সূক্ষতার উপর নির্ভর করে। আবার রিফ্রেকটরী ব্রিকের স্ট্রেন্থ তাপ পরিবাহিতা, তাপ প্রতিরোধ ক্ষমতা, স্লেগিং, স্পেলিং ইত্যাদি গুনাবলীও আংশিকভাবে ব্যবহৃত কাঁচামালের মেন সাইজের উপর নির্ভরশীল। হোয়াইট ওয়্যার এর ক্ষেত্রেও এর কাঁচামালের কনিকার আকার দ্রব্যের কোয়ালিটি নিয়ন্ত্রনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। সিমেন্ট শিল্পে ব্যবহৃত ক্লিংকারের গুনগত মান এর কাঁচামালের ফাইননেস এর উপর, আর সিমেন্টের গুনগত মান ক্লিংকারের গ্লাইডিং মাত্রার উপ: নর্ভর করে। তাছাড়া ফায়ারিং এর সময় সূক্ষ্ণ কনার কারণে রাসায়নিক বিক্রিয়াও ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করে। কাঁচামালের কনিকা ফাইন হওয়ার দরুন উহার সারফেস এরিয়া বৃদ্ধি পায়। উপরের আলোচনা থেকে এটা নির্দ্বিধায় বলা যায় ক্রাসিং ও গ্রাইন্ডিং এর গুরুত্ব অপরীসীম ।
My.NOT.3rd.Sub-ce_body_pe.P_55-56


