ক্রাসিং ও গ্রাইন্ডিং এর গুরুত্ব।

jakaria

ক্রাসিং ও আইডিং এর গুরুত্ব (Importance of crushing and grinding) :

 

পাথর জাতীয় কাঁচামালকে দ্রব্য তৈরির উপযোগী করার জন্য এদের আকারে ছোট করে সূক্ষ্ণ কনিকায় পরিণত করা হয়। এই কনিকার আকার সব দ্রব্যের ক্ষেত্রে এক রকম হয় না। দ্রব্য ভেদে এদের আকারের তারতম্য হয়ে থাকে। রিফ্লেকটরী ব্রিকে ব্যবহৃত কনিকার আকার আর হেভী কে প্রডাক্টের কনিকার আকার এক রকম হয় না। রিফেক্টরীজে ব্যবহৃত কাঁচামালের কনিকার আকার সাধারণ ব্রিকের কনিকার আকারের চেয়ে বড় হয়ে থাকে। আবার হোয়াইট ওয়্যার বডির কাঁচামালের কনিকা হেভী কে প্রডাকটের চেয়ে মিহি করতে হয়। কারণ এসব দ্রব্যের কাঁচামালের কনিকার আকার উৎপাদিত দ্রব্যের গুনাবলীর উপর যথেষ্ট প্রভাব ফেলে। হেডী কে প্রডাকটের ক্ষেত্রে কাঁচামালের কনিকার আকার উহার কার্যপোযোগিতা, স্ট্রেন্থ, সংকোচন, ঘনত্ব, হার্ডনেস ও গঠন এমনকি দ্রব্যের বর্ণ পর্যন্ত কাঁচামালের সূক্ষতার উপর নির্ভর করে। আবার রিফ্রেকটরী ব্রিকের স্ট্রেন্থ, তাপ পরিবাহিতা, তাপ প্রতিরোধ ক্ষমতা, স্লেগিং, স্পেলিং ইত্যাদি গুনাবলীও আংশিকভাবে ব্যবহৃত কাঁচামালের গ্রেন সাইজের উপর নির্ভরশীল। হোয়াইট ওয়্যার এর ক্ষেত্রেও এর কাঁচামালের কনিকার আকার দ্রব্যের কোয়ালিটি নিয়ন্ত্রনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। সিমেন্ট শিল্পে ব্যবহৃত ক্লিংকারের গুনগত মান এর কাঁচামালের ফাইননেস এর উপর, আর সিমেন্টের গুনগত মান ক্লিংকারের গ্রাইডিং মাত্রার উপ- নির্ভর করে। তাছাড়া ফায়ারিং এর সময় সূক্ষ কনার কারণে রাসায়নিক বিক্রিয়াও ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করে। কাঁচামালের কনিকা ফাইন হওয়ার দরুন উহার সারফেস এরিয়া বৃদ্ধি পায়। উপরের আলোচনা থেকে এটা নির্দ্বিধায় বলা যায় ক্রাসিং ও গ্রাইন্ডিং এর গুরুত্ব অপরীসীম। ক্রাসিং ও গ্রাইন্ডিং এর শ্রেণীবিভাগ (Classify crushing and grinding) :

 

পাথর জাতীয় কাঁচামালগুলোকে লাম্প থেকে ছোট ছোট টুকরায় পরিণত করে দ্রব্য তৈরির উপযোগী করা পর্যন্ত তিনটি স্তরে বিভক্ত করা হয়েছে। সেগুলো হল 

১। কোর্স ক্রার্সিং (Coarse crushing)

 

২। ইন্টারমিডিয়েট আইডিং (Intermediate grinding) ৩। ফাইন গ্লাইডিং (Fine grinding)

 

 

১। কোর্স ক্রাসিং (Coarse crushing)

 

উৎপাদনের যে প্রক্রিয়ায় ২ “হতে ৬০” ব্যাসের পাথর জাতীয় কাঁচামালকে ছোট করে " থেকে ১" ব্যাস সম্পন্ন সাইজে পরিণত করা হয় তাকে কোর্স ক্রাসিং বলে। এ কাজে যে মেশিন ব্যবহার করা হয় এদের কোর্স ক্রাসার বা প্রাইমারী ক্রাসার বলে। প্রাইমারী ক্রাসার হিসাবে শিল্প কারখানায় যে সব ক্রানার ব্যবহৃত হয় এদের মধ্যে জ্য-ক্রাসার, জাইরেটরী ক্রাসার, রোল ক্রাসার ইত্যাদি ।

 

২। ইন্টারমিডিয়েট আইডিং (Intermediate grinding)

 

কোর্স ক্রাসিং করা ম্যাটেরিয়ালের সাইজ অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্রতর করার জন্য ইন্টারমিডিয়েট আইডিং করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় গ্রাইন্ডিং করার পর ম্যাটেরিয়ালগুলো ৪ হইতে ৪০ ম্যাস (mash) এর সিভ অতিক্রম করতে পারে। অর্থাৎ যে প্রক্রিয়ায় কোর্স ক্রাসিং করা ম্যাটেরিয়ালগুলোকে ছোট করে এরূপ অবস্থায় নিয়ে আসা হয় যাতে এরা ৪ থেকে ৪০ ম্যাস এর সিড অতিক্রম করতে পারে তাকে ইন্টারমিডিয়েট গ্রাইন্ডিং বলে। এ কাজে সাধারণত এইজ রানার মিল ও রোল ক্রাসার মিল ব্যবহার করা হয়।

 

৩। ফাইন গ্রাইন্ডিং (Fine grinding)

 

ইন্টারমিডিয়েট গ্রাইন্ডিং করা ম্যাটেরিয়াল দ্রব্য তৈরিতে ব্যবহারের উপযোগী নয়। এদেরকে দ্রব্যে ব্যবহার করার মত সাইজে আনার জন্য প্রয়োজন পরে মিহি কনা বা ফাইন গ্রাইন্ডিং করার। এ পর্যায়ে ম্যাটেরিয়াল কনিকাগুলোকে এ রূপ সূক্ষ্ণ কনিকায় পরিণত করা হয় যাতে এরা ১০০ থেকে ৪৫০ ম্যাস এর সিত অতিক্রম করতে পারে। অর্থাৎ যে প্রক্রিয়ায় ইন্টারমিডিয়েট গ্রাইন্ডিং করা ম্যাটেরিয়ালসকে এরূপ সাইজের কনিকায় পরিনত করা হয় যাতে এরা অতি সহজেই ১০০ থেকে ৪৫০ সি (sieve) চালুনী ভেদ করতে পারে তাকে ফাইন গ্রাইন্ডিং বলে ।

 

সিরামিক শিল্প কারখানায় হার্ড ম্যাটেরিয়ালকে ফাইন এ্যাইন্ডিং করার জন্য বলমিল টিউব দিল, ও লম্বা সিলিন্ডার মিলের ব্যবহার ব্যাপকভাবে প্রচলিত। আমাদের দেশে সিরামিক শিল্পে সাধারণত বলমিল (Ball mill) দ্বারা ফাইন গ্রাইন্ডিং (Fine grinding) করা হয়।

 

 

My.NOT.3rd.Sub-ce_body_pe.P_56

Comments