কোয়ার্জ ও এর অপদ্রব্য

jakaria

কোয়ার্জ ও এর অপদ্রব্য :

কোয়ার্জ সিলিকার একটি খনিজ। ইহা প্রাথমিক আগ্নেয় শিলা থেকে উৎপন্ন হয়ে থাকে। ভূ-পৃষ্ঠ যে সব উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত সিলিকা তাদের মধ্যে অন্যতম। ভূ-পৃষ্ঠে এই উপাদানটি সর্বাধিক পরিমাণে বিদ্যামান। গড়ে এর ৬০%। কোয়ার্জে সিলিকার পরিমাণ প্রায় ৯৯.৫%। প্রকৃতিতে বিভিন্ন রূপে কোয়ার্জ পাওয়া যায়। সেগুলো হল-(১) রক কৃস্টাল (২) সেন্ড স্টোন (৩) কোয়ার্জইট (৪) ফায়ার স্টোন (৫) রৌজ কোয়ার্জ, মিলকী কোয়াজ, স্নোকী কোয়ার্জ ও সিস্ট কোয়ার্জ। তবে এই আকারের কোয়ার্জ কদাচিৎ পাওয়া যায়। (৬) কৃত্রিম কোয়ার্জ, ইহা অধিক পরিমাণে গলিত গ্লাসকে ধীরে ধীরে ঠান্ডা করে তৈরি করা যায়। সিরামিকের অন্যান্য কাঁচামালের ন্যায় এর সাথে ও কিছু কিছু অপদ্রব্য থাকে। তবে তা খুবই নগন্য। এ অপদ্রব্যগুলো হল অয়রণ অক্সাইড, লাইম, অ্যালোমিনা ইত্যাদি।

 

কোয়ার্জ এর অপদ্রব্য দূর করার উপায় :

কোয়ার্জের সাথে মিশ্রিত অপদ্রব্যগুলো ফ্রোথ ফ্রোটেশন প্রক্রিয়ায় দূর করা যায়। এ পদ্ধতি পূবে আলোচনা করা হয়েছে।

 

ক্যালসিয়াম কার্বনেট:

সিরামিক বডিতে মোটা (coarse) ক্যালসিয়াম কার্বনেটের উপস্থিতি খুবই ক্ষতিকর। ফায়ারিং এর সময় কার্বনডাই অক্সাইড দূরীভূত হয়ে যায়। কিন্তু ক্যালসিয়াম অক্সাইড বা লাইম বড়িতে থেকে যায়। যদি এরা পোরাস হয় এবং এদের মধ্যে পানি প্রবেশ করতে পারে তা হলে এরা পানি গ্রহণ করে তাপ উৎপন্ন করবে ও সম্প্রসারিত হবে। যদি লাইম কনিকা আকারে বড় হয় তবে এই প্রক্রিয়ায় এরা ভেঙ্গে ছোট ছোট কণায় পরিণত হবে এবং আকারে ছোট হলে সূক্ষ্ণ সূক্ষ্ণ ফাটলের সৃষ্টি হবে।

 

যে সব কেতে ক্যালসিয়াম কার্বনেট থাকে ঐ সব ক্লেকে প্রথমে কেলসিনেশন করতে হয়। এর পর রাজারে উত্তমরূপে ব্লাঞ্জিং করে স্লিপকে সিভ এর মধ্য দিয়ে চালনা করে বড় আকারের প্যাবেল এবং গ্রেইন দূর করা হয়। এর পর প্রাপ্ত স্লিপকে গ্রাইন্ডিং করা হয়। যে সব ছোট ছোট গ্রেইনকে যান্ত্রিক উপায়ে দূর করা সম্ভব নয়, তাদেরকে রোলার দ্বারা ফাইন গ্রাইন্ডিং করা হয়। ফাইন গ্রাইন্ডিং হওয়ার পর এদেরকে যদি বড়িতে সুষমভাবে বিন্যাস্ত করা যায় তবে বড়িতে এদের তেমন কোন ক্ষতিকর প্রভাব পরে না। যে সব কণিকাগুলো ৫২ নং সিভ দ্বারা অতিক্রম করতে পারে এরা বড়িতে কোন ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করে না। এসিড ট্রিটমেন্ট

করেও ক্যালসিয়াম কার্বনেট সম্পূর্ণ রূপে দূর করা সম্ভব। কিন্তু এই পদ্ধতি অত্যন্ত ব্যায় বহুল। তাই শিল্প কারখানায় এর ব্যবহার পরিলক্ষিত হয় না।

যদি দ্রব্য তৈরির আগে কে থেকে লাইম অপসারণ করা না হয় তা হলে দ্রব্য তৈরির পর উৎপাদিত পোড়ানো দ্রব্যকে সাধারণত পানিতে ডুবিয়ে রাখলে লাইম অপসারিত হয়। এ ক্ষেত্রে লাইম গ্রেইন স্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে অধিক পরিমাণ পানি শোষণ করে স্লেগ (slake) তৈরি করে ও প্রসারিত হয় এবং আনকম্বাইন্ড ওয়াটার দ্বারা ভেঙ্গে যায়। আর প্রসারিত স্থান মূল লাইম গ্রেইনের চারিপার্শ্বের পোর দ্বারা দখল হয়ে থাকে।

 

চুম্বক দিয়ে কতিপয় ম্যাটেরিয়াল পৃথকীকরণ :

কিছু কিছু মিনারেল আছে যাদের ম্যাগনেটিক পদ্ধতিতে বিশোধন করা যায় যদিও সেগুলো ফেরো মেগনেটিক নয়। এ সমস্ত ক্ষীন চুম্বকীয় পদার্থের চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রাবাল্য বৃদ্ধি করে ও এদেরকে সহজেই অভিকর্ষের বিপরীতে চুম্বক দ্বারা টেনে আনা যায় না। কিন্তু উচ্চ চুম্বকীয় পদার্থের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়ায় এদেরকে পৃথক করা সম্ভব। নিচের দিকে প্রবাহমান প্রবাহের আনুভূমিকভাবে অতি উচ্চ চৌম্বক প্রাবাল্য প্রয়োগ করে অধিক সংবেদনশীল পদার্থের কনিকাগুলো সহজেই পৃথক করা সম্ভব।

 

যে সমস্ত মিনারেলকে পৃথক করা হয় তাদেরকে ক্রাসিং ও গ্রাইন্ডিং করে এমন আকারে নিয়ে আসা হয় যখন সেগুলো আর মেকানিক্যাল বন্ধন যুক্ত থাকে না। কিন্তু এদের কনিকার আকার ১০০ ম্যাস এর চেয়ে কম হবে না। কারণ এর চেয়ে ক্ষুদ্রতর কনিকার প্রবাহ বাতাসের ঘর্ষন দ্বারা প্রভাবিত হয়। গ্রাইন্ডিং করা পদার্থ কে ভালভাবে শুকাতে হবে; যাতে এরা মুক্তভাবে প্রবাহিত হতে পারে। তাছাড়া সম্ভব হলে এদেরকে স্ক্রীনিং করা যেতে পারে। যাতে করে এই আকারের (১০০) ম্যাসের কনিকাগুলো সংগ্রহ করা যায়। এগুলো সহজেই সেপারেটরের ভিতর দিয়ে অতিক্রম করতে পারে। এই চুম্বকীয় পদ্ধতিতে যে সব পদার্থ বিশোদ্ধ করণ করা হয় সেগুলো হল

 

১। মাসকোভিট মাইকা যুক্ত ফেল্ডস্পার।

২। আয়রন যুক্ত কেওলিনাইট এবং সিলিকা।

৩। ইলমেনাইট আকরিকের ইলমেনাইট, জিরকন এবং অন্যান্য মিনারেল।

৪। বক্সাইট।

 

 

 

 

 

 

My.NOT.3rd.Sub-ce_body_pe.P_45-46

Comments